ভারত আর শুধু জ্বালানি আমদানির উপর নির্ভরশীল দেশ হয়ে থাকবে না, বরং আগামী দিনে জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশ হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করতে পারে। এমনই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন Nitin Gadkari। পশ্চিম এশিয়ার অস্থির ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিকল্প জ্বালানির ক্ষেত্রে ভারতের দ্রুত অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইথানল, সবুজ হাইড্রোজেন এবং টেকসই বিমান জ্বালানি (Sustainable Aviation Fuel)-এর মতো ক্ষেত্রগুলিতে দেশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করছে।
বৃহস্পতিবার ভারতে Maruti Suzuki-র প্রথম ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে গডকরি বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির উপর ভারতের অতিরিক্ত নির্ভরতা দেশের অর্থনীতি ও পরিবেশ—দুই ক্ষেত্রেই বড় চাপ সৃষ্টি করছে। তাঁর দাবি, প্রতিবছর প্রায় ২২ লক্ষ কোটি টাকা খরচ হয় পেট্রোলিয়ামজাত জ্বালানি আমদানিতে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার উপর বিরাট বোঝা।
গডকরি আরও জানান, দেশের মোট দূষণের প্রায় ৪০ শতাংশের জন্য পরিবহণ খাত দায়ী। ফলে দূষণ কমানো এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিকল্প ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। তাঁর মতে, ইথানল-ভিত্তিক জ্বালানি, বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং হাইড্রোজেন প্রযুক্তির প্রসার শুধু পরিবেশ রক্ষাতেই সাহায্য করবে না, একই সঙ্গে দেশের আমদানি নির্ভরতাও কমাবে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়লেও ভারতের কাছে তা নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। দেশীয়ভাবে উৎপাদিত বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো গেলে ভারত ভবিষ্যতে জ্বালানি ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে সক্ষম হবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, পরিচ্ছন্ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে দ্রুত অগ্রসর হওয়াই ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং জ্বালানি নিরাপত্তার অন্যতম চাবিকাঠি।
ইথানল-হাইড্রোজেনেই ভারতের ভবিষ্যৎ
6