Home SportsFIFA 2026 শেষ লড়াইতেও মাথা উঁচু বেলজিয়ামের, মেরিনোর শেষ মুহূর্তের গোলে বিদায় ‘সোনালি প্রজন্মের’

শেষ লড়াইতেও মাথা উঁচু বেলজিয়ামের, মেরিনোর শেষ মুহূর্তের গোলে বিদায় ‘সোনালি প্রজন্মের’

Authored By নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়
40 views 3 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস

  • শেষ মুহূর্তে মিকেল মেরিনোর গোলে ২-১ ব্যবধানে জিতে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেন।
  • একের পর এক চোটে জর্জরিত বেলজিয়াম তবু ইউরোপের চ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালায়।
  • চোট পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে মাঠ ছাড়েন থিবো কোর্তোয়া; শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে ডি ব্রুইনে, লুকাকু, ভিতসেলদের।

উজ্জ্বল সবকিছুরই একদিন অবসান ঘটে। বেলজিয়ামের বহুচর্চিত ‘সোনালি প্রজন্ম’-এর ক্ষেত্রেও সেই সত্যিই ধরা দিল উত্তর আমেরিকার মাটিতে। কিন্তু বিদায়ের মুহূর্তেও তারা মাথা নত করেনি। কঠিন গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রবল চাপে রেখেছিল রুডি গার্সিয়ার দল। শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞ তারকারা একে একে চোটে ছিটকে যাওয়ার পরই বেলজিয়ামের প্রতিরোধ ভাঙে।

ম্যাচের আগেই সমস্যার শেষ ছিল না। শেষ ষোলোয় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জয়ের ম্যাচে হাঁটুর অ্যান্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ায় ক্রাচে ভর দিয়ে স্টেডিয়ামে আসেন আমাদু ওনানা। জেনো ডেবাস্টকে ফিটনেস নিয়ে ক্লাব স্পোর্টিংয়ের সঙ্গে মতভেদের কারণে দলে রাখা হয়নি। আর খেলা শুরুর কয়েক মিনিট আগে ওয়ার্ম-আপে চোট পেয়ে দল থেকে বাদ পড়েন ইউরি টিলেমান্স।

তবে জেরেমি ডোকু শুরু থেকেই প্রাণবন্ত ফুটবল খেলেন। ডান প্রান্তে পেদ্রো পোরো ও লামিনে ইয়ামালের মাঝের ফাঁকা জায়গা কাজে লাগিয়ে বারবার স্পেনের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করেন। তাঁর ড্রিবল ও গতি স্পেনের মাঝমাঠকে ছত্রভঙ্গ করতে বাধ্য করছিল।

কিন্তু আক্রমণে উজ্জ্বল হলেও রক্ষণে সেই ডোকুই পিছিয়ে পড়েন। কুলিং ব্রেকের পর পেদ্রো পোরোকে আটকাতে ব্যর্থ হন তিনি। পোরোর বাড়ানো বল থেকে ফাবিয়ান রুইজ স্পেনকে এগিয়ে দেন।

গোলের পর বলের দখলে পুরোপুরি আধিপত্য বিস্তার করে স্পেন। দ্রুত পাসে বেলজিয়ামের চাপ ভেঙে ফাঁকা জায়গা তৈরি করছিল তারা। তবু ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়নি বেলজিয়াম।

শেষ ষোলোয় জোড়া গোল করা চার্লস ডি কেটেলায়েরে আবারও নিজের গুরুত্ব প্রমাণ করেন। ৪১ মিনিটে কেভিন ডি ব্রুইনের নিখুঁত পাস থেকে টিমোথি কাস্তানিয়ে ডান দিক দিয়ে ক্রস বাড়ান। সেখানে পাউ কুবার্সির আগে ঝাঁপিয়ে পড়ে দারুণ হেডে সমতা ফেরান ডি কেটেলায়েরে। সেটিই ছিল বেলজিয়ামের প্রথম লক্ষ্যভেদী শট।

দ্বিতীয়ার্ধেও স্পেন বলের দখল ধরে রাখলেও ডোকুর একের পর এক ড্রিবল বেলজিয়ামের আক্রমণে প্রাণ সঞ্চার করছিল। তাঁর তৈরি করা সুযোগ থেকে ম্যাক্সিম ডে কুইপার গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছেও সফল হতে পারেননি।

ঘণ্টাখানেকের মাথায় বড় পরিবর্তন আনেন গার্সিয়া। নিষ্প্রভ লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডকে তুলে নামানো হয় রোমেলু লুকাকুকে। একই সঙ্গে মাঠে আসেন অ্যাক্সেল ভিতসেল। ফলে ২০১৪ বিশ্বকাপ খেলা বেলজিয়ামের চার অভিজ্ঞ ফুটবলার—লুকাকু, ডি ব্রুইনে, কোর্তোয়া ও ভিতসেল—একসঙ্গে মাঠে ছিলেন শেষ আধঘণ্টায়।

অভিজ্ঞদের লড়াই অবশ্য বেশিক্ষণ টেকেনি। দ্বিতীয়ার্ধের কুলিং ব্রেকের ঠিক আগে একটি কঠিন শট ঠেকাতে গিয়ে বাঁ নিতম্বে চোট পান থিবো কোর্তোয়া। কিছুক্ষণ খেলা চালানোর চেষ্টা করলেও ৭১ মিনিটে কান্নায় ভেঙে পড়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। দুই দলের সমর্থকেরাই দাঁড়িয়ে করতালিতে সম্মান জানান আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা এই গোলরক্ষককে। তাঁর জায়গায় নামেন সেনে ল্যামেন্স।

অন্যদিকে ফিটনেস সমস্যায় ভুগছিলেন কেভিন ডি ব্রুইনেও। ৮০ মিনিটে দূরপাল্লার একটি প্রচেষ্টার পরই তাঁকে ক্লান্ত দেখায়। পাঁচ মিনিট পরে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন তিনি। এরপর গার্সিয়া তাঁকেও তুলে নেন।

শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞদের অনুপস্থিতির মূল্য দিতে হয় বেলজিয়ামকে। দূর থেকে পাউ কুবার্সির নেওয়া শট ঠিকমতো ধরতে পারেননি ল্যামেন্স। বল তাঁর হাত ফসকে সামনে পড়তেই সবার আগে পৌঁছে যান মিকেল মেরিনো। জোরালো শটে বল জালে জড়িয়ে স্পেনকে ২০১০ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে তুলে দেন তিনি।

থিবো কোর্তোয়া হয়তো আরও একবার বিশ্বকাপে ফিরতে পারেন। কিন্তু রোমেলু লুকাকু, কেভিন ডি ব্রুইনে, অ্যাক্সেল ভিতসেলদের অনেকেরই এটাই সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপ। ফলাফল অতীতের অপূর্ণতার আক্ষেপ মুছে দিতে না পারলেও শেষ লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিয়ে বিদায় নিল বেলজিয়ামের এই স্মরণীয় প্রজন্ম।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles