Home SportsFIFA 2026 মেসির সঙ্গে গোল্ডেন বুট লড়াইয়ে উচ্ছ্বসিত এমবাপে, লক্ষ্য ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ জেতানো

মেসির সঙ্গে গোল্ডেন বুট লড়াইয়ে উচ্ছ্বসিত এমবাপে, লক্ষ্য ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ জেতানো

Authored By নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়
22 views 3 minutes read
A+A-
Reset

 

হাইলাইটস

  • ইরাকের বিরুদ্ধে ম্যাচে ফ্রান্সের হয়ে ১০০তম ম্যাচ খেলতে নামছেন কিলিয়ান এমবাপে।
  • সেনেগালের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপে তাঁর মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪।
  • মিরোস্লাভ ক্লোজের সর্বকালের রেকর্ড থেকে মাত্র দুই গোল দূরে ফরাসি অধিনায়ক।
  • লিওনেল মেসিকে “সেরাদের সেরা” বলে প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন এমবাপে।
  • ব্যক্তিগত রেকর্ডের চেয়ে দলের সাফল্যকেই বেশি গুরুত্ব দিলেন তিনি।

ফ্রান্সের তারকা ফরোয়ার্ড Kylian Mbappé বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুটের লড়াই নিয়ে যথেষ্ট উৎসাহিত হলেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তাঁর কাছে ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে দেশের সাফল্যই বড়। ইরাকের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বের ম্যাচের আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এমবাপে বলেন, ফ্রান্সের জার্সি গায়ে খেলাই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় গর্ব।

সেনেগালের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে জোড়া গোল করে দুর্দান্ত সূচনা করেছিলেন এমবাপে। সেই সুবাদে বিশ্বকাপে তাঁর মোট গোলসংখ্যা এখন ১৪। সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা Miroslav Klose-এর ১৬ গোলের রেকর্ড থেকে তিনি মাত্র দুই গোল দূরে। অন্যদিকে, আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক করে ১৬ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন Lionel Messi।

এই প্রতিযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে এমবাপে বলেন, “আমি জানতাম মেসি গোল করবে। সে সব সময়ই গোল করে। এখন সে আমার চেয়ে এগিয়ে আছে। কিন্তু আমি গোল করতে থাকব, কারণ আমার লক্ষ্য দলকে যতদূর সম্ভব এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। গোল করলে রেকর্ড ভাঙা সহজ হয়, কিন্তু আমার আসল লক্ষ্য বিশ্বকাপ জয়।”

মাত্র ২৭ বছর বয়সে ফ্রান্সের হয়ে ১০০তম ম্যাচ খেলতে নামছেন এমবাপে। এই মাইলফলককে তিনি বিশেষ সম্মান হিসেবে দেখছেন। তাঁর কথায়, “জাতীয় দলের হয়ে খেলতে পারা সব সময়ই আনন্দের। আমার কাছে এর চেয়ে বড় কিছু নেই। ১০০টি ম্যাচ খেলা ঐতিহাসিক অর্জন, আর বিশ্বকাপের মঞ্চে সেই সংখ্যায় পৌঁছনো আরও বিশেষ। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দলকে জিততে হবে এবং পরের পর্বে পৌঁছতে হবে।”

বর্তমান বিশ্বকাপে গোলের বন্যা বইয়ে দিয়েছেন একাধিক তারকা। মেসি, এমবাপে, Harry Kane এবং Erling Haaland— চারজনই ইতিমধ্যে নিজেদের ছাপ রেখেছেন। কিন্তু এদের মধ্যে সেরা কে? এই প্রশ্নের উত্তরে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেননি ফরাসি অধিনায়ক।

তিনি বলেন, “এই চারজনের মধ্যে মেসিই সেরা। আসলে সে সেরাদেরও সেরা। Cristiano Ronaldo-র সঙ্গে একই স্তরে তাকে রাখতে হয়। গত ১৫ বছর ধরে সে অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা দেখিয়েছে। বাকিদের নিয়ে বিতর্ক হতেই পারে, সাংবাদিক ও সমর্থকেরা তা করবেন। কিন্তু আমার মাথায় এসব নেই। আমি শুধু নিজের সামর্থ্যটা বড় মঞ্চে দেখাতে চাই।”

সেনেগালের বিরুদ্ধে ম্যাচের পর নিজের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করতেও ভোলেননি এমবাপে। তিনি জানান, ম্যাচটি ইতিমধ্যে দু’বার দেখেছেন— একবার একা এবং আরেকবার কোচিং স্টাফদের সঙ্গে। বিশেষ করে সমালোচিত সতীর্থ Ousmane Dembélé-র পাশে দাঁড়ান তিনি।

এমবাপের মতে, “প্রথমার্ধে আমাদের সেরা আক্রমণভাগের খেলোয়াড় ছিল উসমান। ও খেলার গতি তৈরি করেছিল। দ্বিতীয়ার্ধে আমি ও মাইকেল ওলিজে গোলের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছি, কিন্তু উসমানের অবদানও সমান গুরুত্বপূর্ণ ছিল। অনেক সময় যে কাজগুলো পরিসংখ্যানে ধরা পড়ে না, সেগুলোই ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে।”

ম্যাচে বাধ্যতামূলক পানীয় বিরতি বা ‘ড্রিংকস ব্রেক’ নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় এমবাপেকে। বিষয়টি নিয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া ছিল বেশ বাস্তববাদী। তিনি হাসতে হাসতে বলেন, “খেলোয়াড়দের এ নিয়ে জিজ্ঞাসা করবেন না। পরিস্থিতি অনুযায়ী আমরা মত বদলাব। যদি আমরা এগিয়ে থাকি আর বিরতিতে খেলার ছন্দ নষ্ট হয়, তাহলে ভালো লাগবে না। আবার যদি প্রচণ্ড গরম থাকে, তখন সেটাই ভালো মনে হবে।”

ব্যক্তিগত রেকর্ড, গোল্ডেন বুট কিংবা ইতিহাস— সবকিছুর মধ্যেও এমবাপের বার্তা পরিষ্কার। তাঁর কাছে বিশ্বকাপের আসল লক্ষ্য একটাই— ফ্রান্সকে আবার শিরোপার মঞ্চে তুলে ধরা। আর সেই পথে মেসির সঙ্গে গোলের দ্বৈরথ বিশ্ব ফুটবলপ্রেমীদের জন্য হয়ে উঠতে পারে এবারের আসরের অন্যতম বড় আকর্ষণ।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles