স্বাস্থ্য

ষাটের পরে হাড়ের স্বাস্থ্য জানতে জরুরি ডিএক্সএ পরীক্ষা

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাস্ফিয়ার: বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাড় ক্ষয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ে।
  • অথচ হাড় কতটা দুর্বল হয়েছে, তা অনেক সময় ভাঙার আগে বোঝাই যায় না।
  • এই কারণেই ষাটের কোঠায় পৌঁছনোর পর ডিএক্সএ বা ডেক্সা পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাস্ফিয়ার: বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাড় ক্ষয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। অথচ হাড় কতটা দুর্বল হয়েছে, তা অনেক সময় ভাঙার আগে বোঝাই যায় না। এই কারণেই ষাটের কোঠায় পৌঁছনোর পর ডিএক্সএ বা ডেক্সা পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কম মাত্রার এক্স-রে ব্যবহার করে এই পরীক্ষায় হাড়ের ঘনত্ব, শক্তি ও খনিজের পরিমাণ নির্ণয় করা হয়। পাশাপাশি শরীরে চর্বি ও পেশির অনুপাত সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যায়।

ডিএক্সএ-র পুরো নাম ‘ডুয়াল-এনার্জি এক্স-রে অ্যাবজর্পশিওমেট্রি’। যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রেডিয়োলজি ও মেডিক্যাল ইমেজিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাইকেল পেরির বক্তব্য, এই পরীক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য হল কোনও ব্যক্তির হাড়ে খনিজের পরিমাণ মাপা। তার ভিত্তিতে অস্টিয়োপোরোসিস এবং হাড় ভাঙার ঝুঁকি নির্ধারণ করা যায়।

বয়স্কদের ক্ষেত্রে হাড় ভেঙে যাওয়া অনেক সময় আরও গুরুতর স্বাস্থ্যসমস্যার সূচনা করে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদি অক্ষমতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে কোমর বা মেরুদণ্ডের হাড় ভাঙলে স্বাভাবিক চলাফেরা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অন্যের উপর নির্ভরতা বেড়ে যায়। অস্টিয়োপোরোসিসকে ‘নীরব রোগ’ বলা হয়, কারণ হাড় ভাঙার আগে অধিকাংশ মানুষ বুঝতেই পারেন না যে তাঁদের হাড় দুর্বল হয়ে পড়েছে।

পরীক্ষার সময় রোগীকে একটি নরম টেবিলে শুয়ে থাকতে হয়। তাঁর শরীরের উপর দিয়ে একটি স্ক্যানিং বাহু চলাচল করে। কম মাত্রার দু’টি এক্স-রে রশ্মির সাহায্যে মূলত কোমর ও মেরুদণ্ডের হাড়ে খনিজের পরিমাণ মাপা হয়। গোটা প্রক্রিয়াটি যন্ত্রণাহীন এবং সাধারণত ১০ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে শেষ হয়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সি মহিলাদের এবং ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সি পুরুষদের ডিএক্সএ পরীক্ষা করানো উচিত। তবে কম বয়সেও কিছু ঝুঁকি থাকলে চিকিৎসক এই পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিতে পারেন। সামান্য পড়ে গিয়ে হাড় ভাঙার ইতিহাস, দীর্ঘদিন প্রেডনিসোনের মতো স্টেরয়েড ওষুধ ব্যবহার, পরিবারে অস্টিয়োপোরোসিস বা কোমরের হাড় ভাঙার নজির এবং দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগ—এসব ঝুঁকির অন্যতম কারণ।

অস্টিয়োপোরোসিসজনিত হাড় ভাঙার সমস্যা যথেষ্ট সাধারণ। ৫০ বছরের বেশি বয়সি প্রতি তিন জন মহিলার মধ্যে এক জন এবং প্রতি পাঁচ জন পুরুষের মধ্যে এক জন জীবনের কোনও পর্যায়ে এর শিকার হতে পারেন।

ডিএক্সএ পরীক্ষায় শরীরের মোট চর্বির পরিমাণ, চর্বির বণ্টন এবং পেশির পরিমাণও জানা যায়। শুধু ওজন দিয়ে স্বাস্থ্যের সম্পূর্ণ ছবি পাওয়া সম্ভব নয়। বেশি ওজনের কোনও ব্যক্তির শরীরে পেশি বেশি এবং চর্বি কম থাকতে পারে। আবার স্বাভাবিক ওজনের কারও পেশির পরিমাণ অত্যন্ত কম হলে তাঁর পড়ে যাওয়া ও অসুস্থতার ঝুঁকি বেশি হতে পারে।

তবে সুস্থ তরুণদের নিয়মিত ডিএক্সএ পরীক্ষা করানোর প্রয়োজন নেই। কম হাড়ের ঘনত্ব ধরা পড়লে ওজন বহনকারী ব্যায়াম, প্রতিরোধমূলক শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি গ্রহণ, ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান এড়ানো এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ গ্রহণ জরুরি। শক্তিশালী পেশি হাড়কে সহায়তা করে, ভারসাম্য বজায় রাখে এবং পড়ে গিয়ে হাড় ভাঙার আশঙ্কা কমায়।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

স্বাস্থ্য সতর্কতা: এটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। পরীক্ষা বা চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নিবন্ধিত চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে নিন।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles