গ্রামের স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই হৃদ্রোগের পরীক্ষা, দ্রুত চিকিৎসায় প্রাণ বাঁচাচ্ছে হরিয়ানা

যা জানা জরুরি
- বাংলাস্ফিয়ার: সরকার ও একটি নবীন প্রযুক্তি সংস্থার যৌথ উদ্যোগে হরিয়ানার প্রাথমিক ও সমষ্টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে চালু হয়েছে দূরসংযোগের মাধ্যমে ইসিজি পরীক্ষার ব্যবস্থা।
- সেখানেই হৃদ্রোগের লক্ষণ শনাক্ত করে প্রয়োজনে জরুরি ওষুধ দেওয়া হচ্ছে রোগীকে।
- তার পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হচ্ছে বড় হাসপাতালে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
বাংলাস্ফিয়ার: সরকার ও একটি নবীন প্রযুক্তি সংস্থার যৌথ উদ্যোগে হরিয়ানার প্রাথমিক ও সমষ্টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে চালু হয়েছে দূরসংযোগের মাধ্যমে ইসিজি পরীক্ষার ব্যবস্থা। সেখানেই হৃদ্রোগের লক্ষণ শনাক্ত করে প্রয়োজনে জরুরি ওষুধ দেওয়া হচ্ছে রোগীকে। তার পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হচ্ছে বড় হাসপাতালে।
গত ১৫ জুলাই। দিনের কাজ সবে শেষ করেছেন হরিয়ানার যমুনানগরের আশাকর্মী, ৫২ বছরের রাজ রানি। বাঁ হাতে আর থুতনির মাঝখানে টনটনে ব্যথা অনুভব করছিলেন। কয়েক দিন ধরেই ব্যথাটা হচ্ছিল। তাই ইলেক্ট্রোকার্ডিয়োগ্রাম বা ইসিজি করাতে গেলেন ব্যাসপুরের সমষ্টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে।
ইসিজির ফল দেখে কেন্দ্রের অতিরিক্ত জ্যেষ্ঠ চিকিৎসা আধিকারিক গুনজিৎ সিংহ তাঁকে রক্ত জমাট বাঁধা ঠেকানোর ও জমাট রক্ত গলানোর ওষুধ-সহ কয়েকটি ওষুধের প্রাথমিক মাত্রা দেন। চিকিৎসার পরিভাষায় একে বলা হয় ‘লোডিং ডোজ’। তার পরেই তাঁকে দ্রুত দু’ঘণ্টার দূরত্বে আম্বালা ক্যান্টনমেন্টের জেলা হাসপাতালে যেতে বলেন।
রাজ রানির হৃদ্যন্ত্রে রক্ত সরবরাহকারী একটি প্রধান ধমনি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তাঁর সমস্যা ছিল একটি ধমনিতেই। রাজ রানি বললেন, “জেলা হাসপাতালে পরের দিনই আমার অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টির ব্যবস্থা করা হয়। হৃদ্যন্ত্রের ধমনিতে একটি স্টেন্ট বসানো হয়েছে।”
“ডাক্তারদের বলেছিলাম, আমাকে ভাল করে চিকিৎসা করুন, যাতে আবার আশাকর্মীর কাজ শুরু করতে পারি। তাঁরা আশ্বাস দিয়েছিলেন, আমি আবার কাজ করতে পারব। কারণ, আমার ভাগ্য ভাল—সময় থাকতে হাসপাতালে পৌঁছেছিলাম,” বললেন তিনি।
ঘটনাটি দু’মাস আগেও ঘটলে এত তাড়াতাড়ি রোগ ধরা পড়ত না, দ্রুত চিকিৎসাও শুরু হত না। ব্যাসপুরের ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ইসিজি যন্ত্র ছিল ঠিকই, কিন্তু পরীক্ষা করার প্রশিক্ষিত কর্মী ছিলেন না। চিকিৎসা আধিকারিকেরা ইসিজির ফল বুঝতে পারলেও সে বিষয়ে তাঁদের যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস ছিল না।
চলতি বছরের ২৯ মে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির ভিত্তিতে স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি সংস্থা সানফক্স টেকনোলজিসের সঙ্গে চুক্তি করে হরিয়ানা সরকার। লক্ষ্য, ‘স্পন্দন ওয়ান’ নামে দূরসংযোগনির্ভর ইসিজি পরিষেবা গড়ে তোলা। রাজ্যের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিকে দেওয়া হয় এমন একটি ইসিজি যন্ত্র, যা স্মার্টফোন বা ট্যাবলেটের সঙ্গে যুক্ত করা যায়। প্রথম সারির স্বাস্থ্যকর্মীরাই সেটি চালাতে পারেন। তিন মিনিটেরও কম সময়ে পাওয়া যায় চিকিৎসকের পর্যালোচনা করা পরীক্ষার ফল।
এখনও পর্যন্ত প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, সমষ্টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, মহকুমা হাসপাতাল ও জেলা হাসপাতাল মিলিয়ে প্রায় ৬০০টি সরকারি স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠানে এই যন্ত্র দেওয়া হয়েছে। সঙ্গে দেওয়া হয়েছে ব্যবহারের প্রশিক্ষণ। স্পন্দনের তথ্য পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার হিসাব অনুযায়ী, ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩৩,৮৫৪টি ইসিজি পরীক্ষা হয়েছে। তার মধ্যে ৯,২৮৭টিতে অস্বাভাবিকতা ধরা পড়েছে। সংকটজনক অবস্থা শনাক্ত হয়েছে ১,৩৪২টি ক্ষেত্রে।
যমুনানগর জেলার প্রত্যন্ত রণজিৎপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এই পরিষেবা চালু হওয়ার পরে রোগীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। কেন্দ্রের চিকিৎসা আধিকারিক বরুণ সিংহ বললেন, “নতুন এই ভবনে মাত্র ছ’মাস আগে কাজ শুরু করেছি। স্থায়ী নার্স বা অন্য কর্মী নেই। এমনকি আসবাবপত্রও নেই।” অন্য কেন্দ্র থেকে সাময়িকভাবে আনা কর্মী এবং ধার করা আসবাবপত্র দিয়েই কেন্দ্রটি চালাচ্ছেন তিনি। তাঁর কথায়, “দূরসংযোগের ইসিজি যন্ত্রটি পাওয়ার পর থেকে মানুষ এখানে এসে নিজেরাই ওই পরীক্ষা করাতে চাইছেন।”
সম্প্রতি এক সকালে ছেলে মঙ্গারামকে সঙ্গে নিয়ে নিজের পরীক্ষার ফল দেখাতে এসেছিলেন ৭৫ বছরের রাম সরণ। কয়েক মাস ধরে তাঁর বুক ধড়ফড় করছিল, শ্বাসকষ্টও হচ্ছিল। ব্যাসপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ১,২০০ টাকা খরচ করে ইসিজি ও রক্ত পরীক্ষা করিয়েছিলেন। তবে সরকারি চিকিৎসককে দেখিয়ে নিশ্চিত হতে চেয়েছিলেন।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নার্সিং আধিকারিক রাম সরণের শরীরে ইসিজির বৈদ্যুতিক সংযোগগুলি লাগিয়ে দিলেন। তাঁর হাতের ট্যাবলেটে ফুটে উঠল ইসিজির রেখাচিত্র। সঙ্গে বার্তা—পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। আড়াই মিনিট পরে পরীক্ষার প্রতিবেদন প্রস্তুত। সেটি তখনই নামিয়ে নেওয়া যায়। রাম সরণের ইসিজিতে অস্বাভাবিকতা ধরা পড়েছিল। তাঁকে হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে বলা হল। পরীক্ষার ফলের একটি প্রতিলিপি পাঠিয়ে দেওয়া হল তাঁর মোবাইল ফোনেও।
এর পরে রাম সরণ ও তাঁর ছেলের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসক সিংহ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আম্বালা ক্যান্টনমেন্টের হাসপাতালে যেতে বললেন। তাঁর কথায়, “এই ব্যবস্থা চালু হওয়ার আগে এত সূক্ষ্মভাবে ইসিজির ফল বিশ্লেষণ করা আমার পক্ষে সম্ভব হত না। রোগীকে দু’ঘণ্টা দূরে হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে হত। রোগ নির্ণয়ের জন্য বহির্বিভাগে দীর্ঘ সময় অপেক্ষাও করতে হত।”
ইসিজিতে সংকটজনক অবস্থা ধরা পড়লে স্বাস্থ্যকর্মীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ট্যাবলেটে সতর্কসংকেত বেজে ওঠে। ওষুধের নির্দেশপত্রও তৈরি হয়। ফলে বড় হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা চলাকালীনই রোগীকে জীবনরক্ষাকারী ওষুধ দেওয়া যায়।
যমুনানগরের সমষ্টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ চিকিৎসা আধিকারিক শামা পরভিন বললেন, “ইসিজি করার কয়েক মিনিটের মধ্যেই ফল হাতে পাব, কখনও ভাবিনি। যমুনানগরের সব কেন্দ্রেই এই পরিষেবা পাওয়া যাচ্ছে। অন্য জেলার প্রত্যন্ত এলাকাতেও মিলছে। অত্যন্ত স্বাগত জানানোর মতো পদক্ষেপ।”
গ্রামীণ মানুষের চিকিৎসার প্রথম ভরসা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র। অথচ হৃদ্রোগ শনাক্ত করা ও তার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বা কর্মী সেখানে প্রায়ই থাকে না। গুজরাতের বডোদরা জেলায় হৃদ্রোগের চিকিৎসার পরিকাঠামো নিয়ে ২০২৪ সালে প্রকাশিত একটি প্রাথমিক গবেষণাপত্রে দেখা গিয়েছিল, সমীক্ষার আওতায় থাকা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির মাত্র ৪৪.১১ শতাংশে সচল ইসিজি যন্ত্র ছিল এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা ব্যবহার করা হত। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগীকে শুধু বড় হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হত। এক কেন্দ্র থেকে অন্য কেন্দ্রে যেতে যে সময় নষ্ট হয়, তা রোগীর পক্ষে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
এই অংশীদারি গড়ে তোলার উদ্যোগে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন হরিয়ানার স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রাক্তন মহাপরিচালক কুলদীপ সিংহ। তাঁর মতে, প্রকল্পটির প্রভাব অসাধারণ। রোগ নির্ণয়ের ব্যবস্থা না থাকায় যে গ্রামীণ কেন্দ্রগুলিতে আগে একটিও হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা নথিভুক্ত হত না, সেখানেই এখন ইসিজি হচ্ছে, প্রাথমিক চিকিৎসাও শুরু হচ্ছে।
তিনি বললেন, “জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগগুলিতে মৃত্যুর সংখ্যা ইতিমধ্যেই ২০ শতাংশ কমতে দেখছি। কারণ, এখানে আনার আগে রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল করা হচ্ছে।” তবে তিনি জানিয়েছেন, এটি প্রাথমিক মূল্যায়ন। আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
প্রাথমিক ওষুধ দিয়ে রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল করার পরে তাঁকে জেলা হাসপাতাল বা অন্য উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানো হয়। সেখানে হৃদ্যন্ত্রের ধমনি পরীক্ষা ও চিকিৎসার বিশেষ ব্যবস্থা, অর্থাৎ ক্যাথেটারাইজেশন ল্যাবরেটরি বা ‘ক্যাথ ল্যাব’ রয়েছে। সেখানেই অ্যাঞ্জিওগ্রাফি ও অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি করা হয়।
কুলদীপ সিংহের কথায়, “হরিয়ানার ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে অধিকাংশ রোগী রোগ নির্ণয়ের এক ঘণ্টার মধ্যে উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছে যান। এতে প্রাণ বাঁচে, হৃদ্পেশির ক্ষতিও কমানো যায়।”
রাজ্যের চারটি জায়গায়—পঞ্চকুলা, গুরুগ্রাম, ফরিদাবাদ ও আম্বালা ক্যান্টনমেন্টে—ক্যাথ ল্যাবের সরঞ্জাম জোগানো ও সেগুলি চালানোর জন্যও বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে অংশীদারি রয়েছে হরিয়ানা সরকারের। শীঘ্রই আরও কয়েকটি জায়গায় এই ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী সানফক্স টেকনোলজিস ইসিজির যন্ত্রপাতি, প্রশিক্ষণ এবং নিয়মিত সহায়তা দেয়। পাশাপাশি রোগীদের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও চালু রাখে।
সংস্থার প্রধান নির্বাহী রজত জৈন বললেন, “এই ব্যবস্থায় আমরা সঙ্গে সঙ্গে রোগীর তথ্য পাই। সেখান থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানতে পেরেছি। যেমন, এখন আমরা জানি, পঞ্চাশোর্ধ্বদের তুলনায় ৩০ থেকে ৪৯ বছর বয়সিদের মধ্যে হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা বেশি দেখা যাচ্ছে।”
তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩০ থেকে ৪৯ বছর বয়সি মহিলাদের মধ্যে সংকটজনক ইসিজি ধরা পড়ার হার একই বয়সের পুরুষদের সমান। আবার সত্তরোর্ধ্ব মহিলাদের ক্ষেত্রে সেই হার সমবয়সি পুরুষদের চেয়ে বেশি। মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের হৃদ্রোগের ঝুঁকি বেশি—প্রচলিত এই ধারণাকে ওই তথ্য প্রশ্নের মুখে ফেলছে বলে তাঁর দাবি। জৈন বললেন, “নীতিনির্ধারকদের কাছে এই ধরনের তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ আগে তা পাওয়াই যেত না।”
হরিয়ানায় প্রকল্পটির বিস্তার ঘটলেও শুরুর কিছু সমস্যা রয়েছে। প্রথম বার ঠিকমতো পরীক্ষা না হওয়ায় নির্ভুল ফল পেতে অনেক কেন্দ্রেই ফের ইসিজি করতে হচ্ছে। আর একটি বাধা এসেছিল নার্সদের সংগঠনের তরফে। অধিকাংশ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ইসিজি প্রযুক্তিকর্মীর পদ ফাঁকা পড়ে থাকায় নার্সদের ইসিজি না করার নির্দেশ দিয়েছিল ওই সংগঠন।
পরে স্বাস্থ্য পরিষেবার মহাপরিচালক চিঠি দিয়ে জানান, প্রাণ বাঁচানোর জন্য প্রয়োজনীয় রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা করতে স্বাস্থ্যকর্মীরা অস্বীকার করতে পারেন না। তা করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও একটি প্রশ্নও থেকে যাচ্ছে। সরকার ও সানফক্স টেকনোলজিসের অংশীদারি শেষ হলে কী হবে? রোগ নির্ণয় থেকে চিকিৎসা পর্যন্ত এখন যে ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে, তা কি বদলে যাবে? নাকি তত দিনে আরও উন্নত হয়ে উঠবে?
প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ইসিজির ব্যবস্থা করা একটি অত্যন্ত ভাল সূচনা বলে মনে করেন চিকিৎসক চৈতন্য মালিক। ছত্তীসগঢ়ের প্রত্যন্ত সুরগুজা জেলায় অলাভজনক সংস্থা সঙ্গওয়ারির হয়ে কাজ করেন তিনি। তবে তাঁর মতে, অসংক্রামক রোগ এবং সেগুলি থেকে তৈরি হওয়া জটিলতার কার্যকর চিকিৎসা করতে হলে সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও অনেকটা উন্নত করতে হবে।
ডা. মালিকের বক্তব্য অনুযায়ী, ছত্তীসগঢ়ে ইসিজির সুবিধা মেলে কেবল জেলা হাসপাতালে। এতেই বোঝা যায়, প্রয়োজন কত বিপুল এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রাথমিক চিকিৎসার সুযোগ কতটা অসম। হৃদ্রোগের জরুরি পরিস্থিতি সামলাতে রোগীর যাতায়াতের ব্যবস্থা করতে সাহায্য করা এবং বড় হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া বাধাহীন করাও জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
ভারতের সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থা কয়েক দশক ধরে মূলত সংক্রামক রোগ এবং মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের উপর জোর দিয়ে এসেছে। দু’টি ক্ষেত্রই এখনও গুরুত্বপূর্ণ। তবে অসংক্রামক রোগের চিকিৎসার উপযোগী করে ব্যবস্থাটিকে সাজানোর সময়ও এসে গিয়েছে। অনুমান অনুযায়ী, ভারতে মোট মৃত্যুর প্রায় ২৭ শতাংশের জন্য দায়ী হৃদ্রোগই।
কুলদীপ সিংহের বক্তব্য, প্রয়োজন বিপুল, প্রযুক্তিও হাতের কাছে রয়েছে। এ বার সব রাজ্যেই এই ধরনের কর্মসূচি চালু করা দরকার।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।
স্বাস্থ্য সতর্কতা: এটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। পরীক্ষা বা চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নিবন্ধিত চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে নিন।
বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।
আরও লেখা →সম্পর্কিত প্রতিবেদন
দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে
বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।


