বিজ্ঞান-রহস্য

সৌরজগতের সমান বিশাল ‘কৃষ্ণগহ্বর নক্ষত্র’ আবিষ্কার জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাস্ফিয়ার: মহাকাশে সম্পূর্ণ নতুন ধরনের এক মহাজাগতিক বস্তুর সন্ধান পাওয়ার দাবি করেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।
  • আকারে গোটা সৌরজগতের সমান এই বস্তুটি উজ্জ্বল লাল আলো ছড়াচ্ছে।
  • অথচ তার ভিতরে লুকিয়ে রয়েছে একটি বিপুল কৃষ্ণগহ্বর।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাস্ফিয়ার: মহাকাশে সম্পূর্ণ নতুন ধরনের এক মহাজাগতিক বস্তুর সন্ধান পাওয়ার দাবি করেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। আকারে গোটা সৌরজগতের সমান এই বস্তুটি উজ্জ্বল লাল আলো ছড়াচ্ছে। অথচ তার ভিতরে লুকিয়ে রয়েছে একটি বিপুল কৃষ্ণগহ্বর। নক্ষত্র ও কৃষ্ণগহ্বর—দুইয়ের বৈশিষ্ট্যই বহনকারী রহস্যময় বস্তুটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘কৃষ্ণগহ্বর নক্ষত্র’। নাসার জেমস ওয়েব মহাকাশ দূরবীক্ষণ যন্ত্রে তোলা আদি মহাবিশ্বের ছবিতে একটি রহস্যময় লাল বিন্দু পরীক্ষা করতে গিয়ে আন্তর্জাতিক গবেষকদল বস্তুটির সন্ধান পায়। পৃথিবী থেকে কয়েকশো কোটি আলোকবর্ষ দূরে ‘সিটাস’ বা তিমি নক্ষত্রমণ্ডলে তার অবস্থান। বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, মহাবিস্ফোরণের প্রায় ৬৬ কোটি বছর পরে এটি তৈরি হয়েছিল।

‘মোম-বিএইচ-স্টার-১’ নামে চিহ্নিত বস্তুটি জেমস ওয়েবের ছবির ভান্ডারে থাকা সবচেয়ে লাল মহাজাগতিক বস্তু। দেখতে অতিকায় নক্ষত্রের মতো হলেও তার শক্তি বিকিরণের পরিমাণ যে কোনও পরিচিত নক্ষত্রের তুলনায় প্রায় দশ হাজার কোটি গুণ বেশি। সাধারণ নক্ষত্রের অভ্যন্তরে পরমাণুর সংযোজন বিক্রিয়া থেকে এত শক্তি উৎপন্ন হওয়া অসম্ভব। বরং তার শক্তির পরিমাণ সক্রিয় কৃষ্ণগহ্বরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির কাভলি ইনস্টিটিউটের জ্যোতির্বিজ্ঞানী রোহন নাইডু বলেন, “আমরা এক নতুন ধরনের মহাজাগতিক বস্তু পেয়েছি—একটি কৃষ্ণগহ্বর নক্ষত্র।” তাঁর কথায়, বস্তুটি কৃষ্ণগহ্বরের মতো বিপুল শক্তিতে জ্বলছে, আবার তার আলোর মধ্যে এমন কিছু চিহ্ন রয়েছে, যা সাধারণত নক্ষত্রের বৈশিষ্ট্য বলে পরিচিত।

কম্পিউটারভিত্তিক অনুকৃতি তৈরি করে গবেষকেরা দেখেছেন, এটি আসলে পারমাণবিক সংযোজনে চালিত কোনও অতিকায় নক্ষত্র নয়। একটি কৃষ্ণগহ্বরকে ঘিরে রয়েছে অত্যন্ত ঘন গ্যাসের পুরু আবরণ। সেই গ্যাস উত্তপ্ত হয়ে নক্ষত্রের মতো আলো বিকিরণ করছে। এই আবরণই কৃষ্ণগহ্বরটির প্রকৃত চরিত্র আড়াল করে রেখেছে।

আবিষ্কারটি সঠিক হলে জেমস ওয়েবের প্রায় প্রতিটি গভীর মহাকাশের ছবিতে দেখা রহস্যময় ‘ক্ষুদ্র লাল বিন্দু’গুলির পরিচয়ও জানা যেতে পারে। সেগুলির অনেকগুলিই এমন কৃষ্ণগহ্বর নক্ষত্র হতে পারে। আদি মহাবিশ্বে এত দ্রুত কীভাবে অতিভারী কৃষ্ণগহ্বর সৃষ্টি হয়েছিল, তার উত্তরও এই বস্তুগুলির মধ্যে লুকিয়ে থাকতে পারে।

প্রায় সব বড় ছায়াপথের কেন্দ্রেই অতিভারী কৃষ্ণগহ্বর রয়েছে। আমাদের আকাশগঙ্গার কেন্দ্রেও রয়েছে এমন একটি কৃষ্ণগহ্বর। কিন্তু মহাবিস্ফোরণের অল্প সময়ের মধ্যেই এগুলি কীভাবে এত বড় হয়ে উঠেছিল, তা দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীদের ধাঁধায় ফেলেছে।

নাইডুর ধারণা, কৃষ্ণগহ্বর নক্ষত্র হল অতিভারী কৃষ্ণগহ্বরের শৈশবকালীন, গ্যাসে মোড়া অবস্থা। পরবর্তী সময়ে এই কৃষ্ণগহ্বরগুলিই ছায়াপথে নক্ষত্রের জন্ম ও মৃত্যু নিয়ন্ত্রণ করে। তার প্রভাবেই তৈরি হয় গ্রহ, প্রাণের অনুকূল পরিবেশ এবং শেষ পর্যন্ত মহাবিশ্বের ইতিহাস অনুসন্ধান করতে সক্ষম জীবজগৎ। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞানপত্রিকা ‘নেচার’-এ।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles