বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

ইঁদুরের  ক্যানসারে মিলল স্থানীয় প্রতিরোধকেন্দ্র

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাস্ফিয়ার: মস্তিষ্কের ঠিক উপরেই খুলির অস্থিমজ্জায় লসিকাগ্রন্থির মতো সংগঠিত প্রতিরোধকেন্দ্র শনাক্ত করেছেন ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা।
  • ইঁদুরের পরীক্ষায় এই কেন্দ্রগুলি দূরের লসিকাগ্রন্থির আগে মস্তিষ্কের ক্যানসারের সংকেত গ্রহণ করেছে।
  • কেন্দ্রের কাজ ওষুধ দিয়ে ব্যাহত করলে টিউমার দ্রুত বেড়েছে; স্থানীয় প্রতিরোধ জোরদার করলে কিছু ইঁদুর বেশি কার্যকরভাবে টিউমার প্রতিহত করেছে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাস্ফিয়ার: মস্তিষ্কের ঠিক উপরেই খুলির অস্থিমজ্জায় লসিকাগ্রন্থির মতো সংগঠিত প্রতিরোধকেন্দ্র শনাক্ত করেছেন ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা। ইঁদুরের পরীক্ষায় এই কেন্দ্রগুলি দূরের লসিকাগ্রন্থির আগে মস্তিষ্কের ক্যানসারের সংকেত গ্রহণ করেছে। কেন্দ্রের কাজ ওষুধ দিয়ে ব্যাহত করলে টিউমার দ্রুত বেড়েছে; স্থানীয় প্রতিরোধ জোরদার করলে কিছু ইঁদুর বেশি কার্যকরভাবে টিউমার প্রতিহত করেছে।

১৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাখ্যার মূল গবেষণাটি নেচার-এ ছাপা হয়েছে। জাং হিউন পার্ক, জোনাথন কিপনিস ও সহকর্মীরা এর আগে খুলির হাড়, মস্তিষ্কের আবরণ ডুরা এবং মস্তিষ্কের সঙ্গে সংযোগকারী ক্ষুদ্র পথ চিহ্নিত করেছিলেন। নতুন গবেষণায় তাঁরা মস্তিষ্ক থেকে বেরোনো প্রোটিন অনুসরণ করে দেখেন, সেগুলি ওই পথ দিয়ে খুলির অস্থিমজ্জায় পৌঁছয়।

সেখানে টি ফলিকুলার হেলপার কোষ এবং বি কোষসহ সাজানো প্রতিরোধ-কাঠামো পাওয়া যায়। লসিকাগ্রন্থিতে এই ধরনের কোষ একসঙ্গে কাজ করে বি কোষকে প্রচুর অ্যান্টিবডি তৈরিতে সহায়তা করে। সুস্থ অস্থিমজ্জায় এত সংগঠিত কেন্দ্র পাওয়া প্রত্যাশিত ছিল না।

কাঠামোগুলি রোগে বাস্তব ভূমিকা রাখে কি না দেখতে গবেষকেরা গ্লিয়োব্লাস্টোমার ইঁদুর-মডেল ব্যবহার করেন। এটি মানুষের অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মস্তিষ্কের ক্যানসারের একটি ধরন। ওষুধ দিয়ে খুলির প্রতিরোধকেন্দ্র ব্যাহত করা ইঁদুরে টিউমার দ্রুত বাড়ে এবং বেঁচে থাকার সময় কমে। অর্থাৎ কেন্দ্রগুলি কেবল কোষের সমাবেশ নয়; ক্যানসারের প্রতিক্রিয়ায় কার্যকর অংশগ্রহণকারী।

পরের পরীক্ষায় তিনটি প্রতিরোধ-উদ্দীপক প্রোটিন একটি জেলে মিশিয়ে মাথার ত্বকের নিচে রাখা হয়। প্রতিক্রিয়াটি প্রথমে খুলির অস্থিমজ্জায় এবং পরে বাইরের লসিকাগ্রন্থিতে দেখা যায়। চিকিৎসা পাওয়া ইঁদুরের মধ্যে অ্যান্টিবডি-প্রতিক্রিয়া বাড়ে, টিউমার প্রত্যাখ্যান বেশি হয় এবং নিয়ন্ত্রণ গোষ্ঠীর তুলনায় আয়ু বাড়ে।

মানুষের খুলির অস্থিমজ্জার নমুনাতেও অনুরূপ প্রতিরোধকোষের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে মানুষের মধ্যে একই পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্র একইভাবে কাজ করে অথবা মাথার ত্বকের নিচে জেল দিয়ে গ্লিয়োব্লাস্টোমা চিকিৎসা করা যাবে—গবেষণাটি তা দেখায়নি।

বিশ্লেষণ: ‘নতুন অঙ্গ’ শব্দটি সহজে অতিরঞ্জন তৈরি করতে পারে। গবেষকেরা নতুন হাড় বা প্রচলিত শারীরবৃত্তীয় অঙ্গ আবিষ্কার করেননি; পরিচিত অস্থিমজ্জার ভিতরে আগে অচেনা সংগঠিত প্রতিরোধ-নিশ খুঁজেছেন। মানুষের চিকিৎসায় পৌঁছতে নিরাপত্তা, উপযুক্ত ডোজ, টিউমারের ধরন এবং শরীরের অন্য অংশে অপ্রত্যাশিত প্রতিক্রিয়া পরীক্ষা করতে হবে।

তবু আবিষ্কারটির ধারণাগত গুরুত্ব বড়। মস্তিষ্ক সম্পূর্ণ প্রতিরোধ-বিচ্ছিন্ন—পুরনো সেই ধারণা আরও দুর্বল হল। স্থানীয় কেন্দ্রকে লক্ষ্য করলে গোটা শরীরের প্রতিরোধব্যবস্থা না-নাড়িয়ে মস্তিষ্কের রোগে কাজ করার সম্ভাবনা তৈরি হয়। সম্ভাবনা ও চিকিৎসা অবশ্য এক নয়; এখনকার ফলটি ইঁদুরে কার্যকারণের শক্ত প্রমাণ, মানুষের থেরাপি নয়।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles