প্রশ্নমালা চূড়ান্ত হওয়ার কথা ছিল বৈঠকে, অথচ আগেই তা পাঠিয়ে দিয়েছিলেন সভানেত্রী—অভিযোগ আর সি চহ্বাণের; প্রশ্ন তুললেন কমিটির বাইরের এক ব্যক্তির ভূমিকা নিয়েও

মহারাষ্ট্রে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে জনসাধারণের মতামত নেওয়ার পদ্ধতিতে আপত্তি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কমিটি থেকে ইস্তফা দিলেন বম্বে হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আর সি চহ্বাণ। কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকের দু’দিন পরে তিনি পদত্যাগ করেন। তাঁর অভিযোগ, বৈঠকে আলোচনার মাধ্যমে যে প্রশ্নমালা চূড়ান্ত হওয়ার কথা ছিল, সভানেত্রী আগেই তা চূড়ান্ত করে সদস্যদের পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। বৈঠকে কমিটির সদস্য নন, এমন এক ব্যক্তির উপস্থিতি ও ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

কমিটিকে পাঠানো ইমেলে বিচারপতি চহ্বাণ জানিয়েছেন, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি সম্পর্কে মানুষের মতামত জানতে প্রশ্নমালা চূড়ান্ত করা ছিল বৈঠকের অন্যতম আলোচ্য বিষয়। তিনি লিখেছেন, “তিন জন সদস্য তাঁদের বক্তব্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলেন। উত্তরদাতাদের শুধু হ্যাঁ অথবা না বলেই জবাব দিতে হবে কি না, কিংবা সদস্য ডক্টর সুবর্ণা রাওয়ালের তত্ত্বাবধানে অধ্যাপকদের দিয়ে দ্রুত প্রশ্নমালাটি পেশাদারি দৃষ্টিতে পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া প্রয়োজন কি না—এমন কয়েকটি বিষয় উঠেছিল। মাননীয়া সভানেত্রী তাঁর চূড়ান্ত করা প্রশ্নমালা ইতিমধ্যেই পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি জানান, ওয়েবসাইট তৈরি হলেই সেটি সেখানে তুলে দেওয়া হবে। ফলে আজকের বৈঠকের তৃতীয় তথা শেষ আলোচ্য বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়ে গেল। তাই সময় ও ইন্টারনেট বাঁচাতে আমি বৈঠক থেকে বেরিয়ে যাই।”

তাঁর ইমেলের পরের অংশেও স্পষ্ট শ্লেষ। চহ্বাণ লিখেছেন, “মাননীয়া সভানেত্রীর চূড়ান্ত করা প্রশ্নমালা ইমেলে চলে আসার পরেও আমি নিজের মত জানানোর চেষ্টা করেছিলাম। কারণ, আমার ভুল ধারণা ছিল যে, আমাদের এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য মহারাষ্ট্রের মানুষের মতামত সংগ্রহ করা এবং দেরিতে বিয়ে, বিকৃত আচরণ, বন্ধ্যাত্ব, দাম্পত্যের অস্থিরতা, বিরোধ নিষ্পত্তির সময়সাপেক্ষ পদ্ধতি ইত্যাদি সমস্যার প্রতিকারে ঐকমত্য গড়ে তোলা। সেই ভুল ধারণা এখন দূর হয়েছে। বুঝতে পারছি, উদ্দেশ্য শুধু এটুকুই—যাঁরা আগ্রহী, তাঁদের নির্ধারিত প্রশ্নগুলির উত্তরে হ্যাঁ বা না বলার সুযোগ দেওয়া, যাতে তথ্য বিশ্লেষণ সহজ হয়।”

ইমেলে তিনি আরও অভিযোগ করেছেন, কমিটির সদস্য নন, এমন এক ব্যক্তি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। ওই ব্যক্তি জানান, রাজ্য সরকারের আধিকারিকদের তৈরি ওয়েবসাইটে আরও কিছু পরিবর্তন প্রয়োজন। চহ্বাণের বক্তব্য অনুযায়ী, এর পরেই সভানেত্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনগুলি করার নির্দেশ দেন।

ওই ব্যক্তির অবস্থান বা ভূমিকা ঠিক কী, তা তাঁর জানা নেই বলে জানিয়েছেন চহ্বাণ। তাঁর বক্তব্য, ওই ব্যক্তির পরামর্শ শুনে তাঁর মনে হয়েছে, রাজ্যের আধিকারিকেরা হয়তো নিজেদের অযোগ্য বলে ভাবতে পারেন। এর পরেই তিনি লিখেছেন, “এই সমস্যা মেটাতে আমি এখনই পদত্যাগ করে কমিটিতে আমার আসনটি খালি করে দিচ্ছি, যাতে সরকার দ্রুত শূন্যস্থানটি পূরণ করতে পারে।”

কমিটি ছাড়ার পরে স্বাধীন নাগরিক হিসেবে নিজের মতামত প্রকাশ করতে পারবেন বলেও জানিয়েছেন এই প্রাক্তন বিচারপতি। তাঁর কথায়, “আমার হৃদয়ের কাছের একটি বিষয়ে এটি ছিল অনেক কিছু শেখার অভিজ্ঞতা।”

ওই বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে মোট তিনটি বিষয় ছিল—গত মাসে অনুষ্ঠিত আগের বৈঠকের কার্যবিবরণী অনুমোদন, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি সম্পর্কে মানুষের মতামত ও প্রতিক্রিয়া সংগ্রহের জন্য ওয়েবসাইট নিয়ে আলোচনা এবং প্রশ্নমালা চূড়ান্ত করা।