প্রথম বার উত্তরপত্রে গোল দাগ: ৭.১৮ লক্ষ উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর ওএমআর পরীক্ষা

যা জানা জরুরি
- পশ্চিমবঙ্গে উচ্চমাধ্যমিকের তৃতীয় সেমিস্টার পরীক্ষা ২১ সেপ্টেম্বর প্রথম বার অপটিক্যাল মার্ক রেকগনিশন বা ওএমআর উত্তরপত্রে শুরু হয়েছে।
- মোট ৭ লাখ ১৮ হাজার ৬২০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৩ লাখ ১৫ হাজার ৭৩১ এবং ছাত্রী ৪ লাখ ২ হাজার ৮৮৯।
- ৬,৮৭৭টি বিদ্যালয়ে পরীক্ষার আয়োজন করেছে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
পশ্চিমবঙ্গে উচ্চমাধ্যমিকের তৃতীয় সেমিস্টার পরীক্ষা ২১ সেপ্টেম্বর প্রথম বার অপটিক্যাল মার্ক রেকগনিশন বা ওএমআর উত্তরপত্রে শুরু হয়েছে। মোট ৭ লাখ ১৮ হাজার ৬২০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৩ লাখ ১৫ হাজার ৭৩১ এবং ছাত্রী ৪ লাখ ২ হাজার ৮৮৯। ৬,৮৭৭টি বিদ্যালয়ে পরীক্ষার আয়োজন করেছে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ।
তৃতীয় সেমিস্টারের প্রশ্নগুলি বহুনির্বাচনী। পরীক্ষার্থীকে সঠিক উত্তরের নির্দিষ্ট গোল ঘর পূরণ করতে হবে; কাটাকাটি, আংশিক দাগ বা ভুল কলম ব্যবহারে যন্ত্র উত্তর পড়তে না-পারার ঝুঁকি থাকে। তাই পরীক্ষার আগে নমুনা উত্তরপত্র ও নির্দেশিকা প্রকাশ করেছিল সংসদ। ওএমআর দ্রুত ও তুলনামূলক একরূপ মূল্যায়ন সম্ভব করলেও ভুলভাবে পূরণ করা উত্তর মানুষের ব্যাখ্যার সুযোগ কমিয়ে দেয়।
প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে প্রতিটি প্রশ্নপত্রে আলাদা ক্রমিক সংখ্যা রাখা হয়েছে। সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে পরীক্ষার্থীদের সামনে সিল করা প্যাকেট খোলা এবং দুই পরীক্ষার্থীর স্বাক্ষরে সিল অক্ষত থাকার প্রমাণ রাখার নিয়ম হয়েছে। পরীক্ষা সাধারণত সকাল ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা; সঙ্গীত ও দৃশ্যকলা এবং বৃত্তিমূলক বিষয়ের সময় আলাদা।
প্রশ্নপত্র ৪২৮ জন সংরক্ষক ও কেন্দ্রপ্রধানের কাছে পাঠানো হয়েছে। ব্যবহৃত ওএমআর উত্তরপত্র প্রতিদিন কেন্দ্র থেকে আঞ্চলিক কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব পেয়েছে ভারতীয় ডাকবিভাগ। যাত্রাপথের হস্তান্তর-তালিকা, সিল এবং পৌঁছনোর সময় নথিভুক্ত রাখা হবে। কোনও প্যাকেট বিলম্বিত বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেই পরীক্ষাকেন্দ্রের উত্তরপত্র আলাদা করে পরীক্ষা করা দরকার।
পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল, স্মার্টঘড়ি, হিসাবযন্ত্র ও অন্য বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম নিষিদ্ধ। মোবাইল পাওয়া গেলে পরীক্ষা ও নথিভুক্তি বাতিলের সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। ধাতু শনাক্তকরণ যন্ত্র ও নজরদারি ক্যামেরা রাখা হয়েছে; কক্ষে প্রতি ২০ পরীক্ষার্থীর জন্য দুই পর্যবেক্ষকের ব্যবস্থা বলা হয়েছে। কিন্তু তল্লাশিতে পরীক্ষার্থীর মর্যাদা, মেয়েদের জন্য পৃথক কর্মী এবং চিকিৎসাজনিত যন্ত্রের ছাড়ও নিশ্চিত করতে হবে।
৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনের কারণে ৫, ৬ ও ৭ অক্টোবরের পরীক্ষাগুলি যথাক্রমে ১২, ১৩ ও ১৪ অক্টোবর নেওয়া হবে। সংশোধিত সময়সূচি বিদ্যালয় ও সংসদের পোর্টালে দেওয়া হয়েছে। গ্রামীণ পরীক্ষার্থীর কাছে শুধু অনলাইন বিজ্ঞপ্তি যথেষ্ট নয়; বিদ্যালয় থেকে লিখিত ও ফোনে জানানো প্রয়োজন।
ওএমআর মূল্যায়নে পরীক্ষকের ব্যক্তিগত পার্থক্য কমে, কিন্তু পরীক্ষার্থীর জ্ঞানকে শুধু বিকল্প বাছাইয়ে সীমিত করলে ব্যাখ্যা, যুক্তি ও লেখার দক্ষতা মাপে না। তৃতীয় সেমিস্টারের সঙ্গে পরবর্তী লিখিত মূল্যায়ন মিলিয়ে সামগ্রিক ফল তৈরি না-হলে শিক্ষাদানও কেবল সম্ভাব্য উত্তরের অনুশীলনে নেমে আসতে পারে।
প্রথম বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ ফল প্রকাশের পরে প্রযুক্তিগত নিরীক্ষা। কত উত্তরপত্র যন্ত্র পড়তে পারেনি, কত ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত যাচাই হয়েছে এবং আপত্তির পথ কী—সংসদকে জানাতে হবে। ভুল বুদ্বুদ পূরণের জন্য শিক্ষাগত জ্ঞান হারিয়ে যাওয়া উচিত নয়। দ্রুত ফল একটি সুবিধা; নির্ভুল ও আপিলযোগ্য ফল পরীক্ষার্থীর অধিকার।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



