শতবর্ষী মন্দির ধ্বংস, পাকিস্তানকে তোপ ভারতের

যা জানা জরুরি
- পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে শতবর্ষেরও বেশি পুরোনো একটি হিন্দু মন্দির ধ্বংসের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারত।
- নয়াদিল্লির অভিযোগ, সংখ্যালঘুদের ধর্মস্থান রক্ষায় পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা এবং ঘটনাটিতে তাদের ‘উদ্বেগজনক ঔদাসীন্য’ অত্যন্ত গুরুতর বিষয়।
- ঘটনার দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত, দোষীদের শাস্তি এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত মন্দিরটি অবিলম্বে পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে শতবর্ষেরও বেশি পুরোনো একটি হিন্দু মন্দির ধ্বংসের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারত। নয়াদিল্লির অভিযোগ, সংখ্যালঘুদের ধর্মস্থান রক্ষায় পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা এবং ঘটনাটিতে তাদের ‘উদ্বেগজনক ঔদাসীন্য’ অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। ঘটনার দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত, দোষীদের শাস্তি এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত মন্দিরটি অবিলম্বে পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক।
মন্দিরটি ছিল পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের নরওয়াল জেলার সিরাজ গ্রামে, লাহোর থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে। আনুমানিক ১০০ থেকে ১২৫ বছরের পুরোনো এই মন্দিরটি প্রায় এক হাজার বর্গমিটার জমির উপর নির্মিত হয়েছিল। গত ২১ আগস্ট সেটি ধ্বংস হয়। তবে কী ভাবে মন্দিরটি ভেঙে পড়ল বা ধ্বংস হল, তা নিয়ে পাকিস্তানের মধ্যেই উঠে এসেছে পরস্পরবিরোধী দাবি।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বুধবার বলেন, ‘‘নরওয়ালের সিরাজ গ্রামে একটি ঐতিহাসিক হিন্দু মন্দির ধ্বংসের উদ্বেগজনক খবর আমরা গভীর মনোযোগের সঙ্গে দেখেছি। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শতবর্ষী উপাসনাস্থলের বিরুদ্ধে এই নিন্দনীয় ধ্বংসাত্মক কাজের আমরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় নিন্দা করছি।’’
নয়াদিল্লির বক্তব্য, এই ঘটনা পাকিস্তানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ক্রমশ অসুরক্ষিত হয়ে পড়া এবং তাঁদের ধর্মাচরণের স্বাধীনতা লঙ্ঘনের আরও একটি দৃষ্টান্ত। ইসলামাবাদের কাছে ভারতের দাবি, অবিলম্বে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত করে ঘটনায় জড়িতদের সম্পূর্ণ ভাবে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি মন্দিরটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে হবে এবং হিন্দু-সহ সমস্ত সংখ্যালঘু নাগরিকের জীবন, নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার দায়িত্ব পালন করতে হবে পাকিস্তান সরকারকে।
তবে ঘটনার নেপথ্য নিয়ে আরও গুরুতর অভিযোগ তুলেছে পাকিস্তানের সংখ্যালঘু অধিকার সংগঠনগুলি। তাদের দাবি, নিষিদ্ধ কট্টরপন্থী সংগঠন তেহরিক-ই-লাব্বাইক পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত কয়েক জন ইচ্ছাকৃত ভাবে মন্দিরটি ভেঙেছেন। অভিযোগ, পাশের একটি মাদ্রাসার সম্প্রসারণের জন্য মন্দিরের জমি দখল করাই ছিল উদ্দেশ্য। মন্দির ধ্বংসের পর সেখান থেকে ইট, চূড়ার ধাতব অংশ এবং অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে কাজ করা পাকিস্তান মসিহা মিল্লত পার্টির সভাপতি আসলাম পারভেজ সাহোত্রা জানিয়েছেন, ২৮ আগস্ট তিনি পাঞ্জাবের অতিরিক্ত স্বরাষ্ট্রসচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, মাদ্রাসার জন্য সংলগ্ন জমির ইজারা বকেয়া ভাড়া এবং চুক্তির শর্ত ভঙ্গের কারণে আগেই বাতিল করা হয়েছিল। সেই জমি থেকে উচ্ছেদের সরকারি নির্দেশও কার্যকর হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ।
স্থানীয় হিন্দু নেতা রতন লালেরও দাবি, মাদ্রাসাটি এখনও চালু থাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যেরা ঘটনাস্থলে যেতেও ভয় পাচ্ছেন।
অন্যদিকে, অমুসলিম ধর্মীয় সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা ইভাকুই ট্রাস্ট প্রপার্টি বোর্ডের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের দাবি, প্রবল বৃষ্টির জেরে জরাজীর্ণ মন্দিরটি ভেঙে পড়েছে। সেটি কেউ ইচ্ছাকৃত ভাবে ধ্বংস করেনি।
তবে এই ব্যাখ্যাও প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়। কারণ, চলতি বছরের এপ্রিলেই একটি পুলিশি প্রতিবেদনে মন্দিরটির নিরাপত্তা ও অবস্থা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল। ফলে মন্দিরটি নিছক প্রাকৃতিক কারণে ভেঙে পড়েছিল, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে—তা নিয়ে বিতর্ক থেকেই যাচ্ছে। আর সেই প্রশ্নের উত্তর পেতে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবিই এখন সামনে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



