কোয়ান্টাম যন্ত্রে ২১.৫ কোটি ডলারের দৌড়

যা জানা জরুরি
- বাংলাস্ফিয়ার: অন্তত ১০০টি যৌক্তিক কিউবিট দিয়ে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রাসঙ্গিক কাজ দেখাতে পারলে বড় আর্থিক পুরস্কার—এই শর্তে ‘কোয়ান্টাম জেনেসিস কিউ কম্পিটিশন’ চালু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি দপ্তর।
- ১৮ সেপ্টেম্বর ঘোষিত প্রতিযোগিতায় পরিকল্পিত সরকারি অর্থ সর্বোচ্চ ২১.৫ কোটি ডলার।
- লক্ষ্য ২০২৮ সালের মধ্যে ত্রুটি সহ্য করতে সক্ষম কোয়ান্টাম কম্পিউটার স্থাপন ও যাচাই করা।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
বাংলাস্ফিয়ার: অন্তত ১০০টি যৌক্তিক কিউবিট দিয়ে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রাসঙ্গিক কাজ দেখাতে পারলে বড় আর্থিক পুরস্কার—এই শর্তে ‘কোয়ান্টাম জেনেসিস কিউ কম্পিটিশন’ চালু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি দপ্তর। ১৮ সেপ্টেম্বর ঘোষিত প্রতিযোগিতায় পরিকল্পিত সরকারি অর্থ সর্বোচ্চ ২১.৫ কোটি ডলার। লক্ষ্য ২০২৮ সালের মধ্যে ত্রুটি সহ্য করতে সক্ষম কোয়ান্টাম কম্পিউটার স্থাপন ও যাচাই করা।
বর্তমান কোয়ান্টাম যন্ত্রের ভৌত কিউবিট পরিবেশের সামান্য শব্দ ও নিয়ন্ত্রণের ভুলে দ্রুত ত্রুটিগ্রস্ত হয়। একাধিক ভৌত কিউবিটের উপর ত্রুটিসংশোধনের সংকেত ছড়িয়ে যে তুলনামূলক নির্ভরযোগ্য একক তৈরি হয়, তাকে যৌক্তিক কিউবিট বলা হয়। তাই কোম্পানির ঘোষিত মোট ভৌত কিউবিট এবং দীর্ঘ গণনায় কার্যকর যৌক্তিক কিউবিট এক সংখ্যা নয়।
প্রথম পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিটি প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ ১৫ লাখ ডলার পেতে পারে। দপ্তর অনুমোদিত প্রযুক্তিগত ও যাচাই-পরিকল্পনার জন্য আড়াই লাখ এবং পরীক্ষিত প্রাথমিক যন্ত্র সরবরাহের পরে আরও ১২.৫ লাখ ডলার দেওয়ার কথা। সর্বোচ্চ দশটি প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের পরিকল্পনা রয়েছে।
দ্বিতীয় পর্যায়ে অন্তত ১০০ যৌক্তিক কিউবিট এবং কয়েকশো মিলিয়ন ত্রুটিসহিষ্ণু ক্রিয়া চালাতে সক্ষম যন্ত্রের জন্য মোট দশ কোটি ডলারের সাধারণ পুরস্কারভাণ্ডার থাকবে। ১৫০ ও ২০০ যৌক্তিক কিউবিটের লক্ষ্য পূরণের জন্য আলাদা পাঁচ কোটি ডলার করে দুটি অতিরিক্ত ভাণ্ডার রাখা হয়েছে। শুধু কিউবিটের সংখ্যা নয়, রসায়ন, পদার্থবিজ্ঞান, উপাদানবিজ্ঞান বা ফলিত গণিতে বাস্তব প্রদর্শনীও দিতে হবে।
বেসরকারি মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলি আবেদন করতে পারবে। চূড়ান্ত আবেদনের সময়সীমা ১৯ অক্টোবর; ২৫ সেপ্টেম্বর সম্ভাব্য আবেদনকারীদের জন্য তথ্যসভা হওয়ার কথা। তবে ঘোষিত মোট অর্থ এখনই সম্পূর্ণ বরাদ্দ হয়নি। ২০২৬ অর্থবছরের প্রাথমিক অর্থ ২৫ লাখ ডলার; পরবর্তী অর্থ কংগ্রেসের অনুমোদনের উপর নির্ভরশীল।
পাশাপাশি জাতীয় গবেষণাগারগুলিতে যন্ত্র ও সফ্টওয়্যারের স্বাধীন যাচাইয়ের জন্য পৃথক সাড়ে চার কোটি ডলারের পরীক্ষামঞ্চ পরিকল্পনা করা হয়েছে। ভৌত গেট থেকে যৌক্তিক স্থাপত্য, অ্যালগরিদম ও ধ্রুপদি নিয়ন্ত্রণ—পুরো ব্যবস্থার দাবি পরীক্ষা করাই তার উদ্দেশ্য।
বিশ্লেষণ: ১০০ বা ২০০ যৌক্তিক কিউবিট পৌঁছলেই কোয়ান্টাম কম্পিউটার সব প্রচলিত যন্ত্রকে হারাবে—এমন নয়। সমস্যার ধরন, ত্রুটির হার, ক্রিয়ার গভীরতা, তথ্য ঢোকানো এবং ফল যাচাইয়ের খরচ নির্ধারণ করবে ব্যবহারিক সুবিধা। কোম্পানি নিজস্ব মানদণ্ডে ‘কোয়ান্টাম অগ্রাধিকার’ দেখালে স্বাধীন পুনরাবৃত্তি বিশেষ জরুরি।
২০২৮ সালের সময়সীমা প্রযুক্তিগত লক্ষ্য এবং রাজনৈতিক চাপ—দুটিই। ত্রুটিসংশোধনে দ্রুত অগ্রগতি হলেও প্রকৌশলীরা এখনও কোন হার্ডওয়্যার-পদ্ধতি সবচেয়ে কার্যকর হবে, তা নিয়ে একমত নন। মাইলফলক পেরোলেই অর্থ দেওয়ার নকশা অগ্রিম প্রচারের বদলে যাচাইযোগ্য ফলকে গুরুত্ব দিচ্ছে। কিন্তু কংগ্রেস অর্থ না-দিলে ঘোষিত ২১.৫ কোটি ডলার পূর্ণ বাস্তবতা পাবে না।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



