ইঁদুরের চোখে দেখা ১০ সেকেন্ড!

যা জানা জরুরি
- বাংলাস্ফিয়ার: ইঁদুরের দৃশ্য-প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের পৃথক স্নায়ুকোষের সক্রিয়তা থেকে দশ সেকেন্ডের চলমান ছবি পুনর্গঠন করেছেন ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গবেষকেরা।
- প্রশিক্ষণে দেখানো হয়নি এমন ভিডিয়ো দেখার সময়ের মস্তিষ্ক-তথ্য থেকেও মূল দৃশ্যের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ ছবি তৈরি হয়েছে।
- ফলটি ১৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হলেও গবেষণাপত্রটি ইলাইফ-এ উন্মুক্ত পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
বাংলাস্ফিয়ার: ইঁদুরের দৃশ্য-প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের পৃথক স্নায়ুকোষের সক্রিয়তা থেকে দশ সেকেন্ডের চলমান ছবি পুনর্গঠন করেছেন ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গবেষকেরা। প্রশিক্ষণে দেখানো হয়নি এমন ভিডিয়ো দেখার সময়ের মস্তিষ্ক-তথ্য থেকেও মূল দৃশ্যের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ ছবি তৈরি হয়েছে। ফলটি ১৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হলেও গবেষণাপত্রটি ইলাইফ-এ উন্মুক্ত পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে।
জোয়েল বাওয়ার, ট্রয় মার্গ্রি ও ক্লডিয়া ক্লোপাথের দল ইঁদুরের ভিজ্যুয়াল কর্টেক্সের কোষের সক্রিয়তা মেপেছে ক্যালসিয়াম-ইমেজিং পদ্ধতিতে। স্নায়ুকোষ সক্রিয় হলে কোষের ভিতরে ক্যালসিয়ামের স্থানীয় বৃদ্ধি ঘটে; অণুবীক্ষণভিত্তিক যন্ত্র সেই পরিবর্তন শনাক্ত করতে পারে। এতে বিস্তৃত মস্তিষ্ক-ছবির বদলে আলাদা আলাদা কোষের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়।
গবেষকেরা ২০২৩ সালের সেন্সোরিয়াম প্রতিযোগিতার জন্য তৈরি একটি গতিশীল স্নায়ু-এনকোডিং মডেল ব্যবহার করেন। মডেলটির কাজ হল কোনও চলমান দৃশ্য দেখলে নির্দিষ্ট কোষগুলি কীভাবে সাড়া দিতে পারে, তার পূর্বাভাস দেওয়া। শুধু পর্দার ছবি নয়, ইঁদুরের শরীরের নড়াচড়া ও চোখের মণির আকার বদলের তথ্যও হিসাবের মধ্যে ছিল।
পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয় একটি ফাঁকা চলমান ছবি দিয়ে। ইঁদুর বাস্তবে ভিডিয়ো দেখার সময়ে কোষগুলির যে সক্রিয়তা রেকর্ড হয়েছে, মডেল-অনুমিত সক্রিয়তার সঙ্গে তার পার্থক্য মাপা হয়। অ্যালগরিদম ফাঁকা ছবির পিক্সেলগুলি ধাপে ধাপে বদলায়, যতক্ষণ না সেই কাল্পনিক ছবির জন্য মডেলের পূর্বাভাস বাস্তব স্নায়ু-তথ্যের কাছাকাছি আসে।
সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষায় প্রশিক্ষণতথ্যের বাইরে রাখা একটি ভিডিয়ো ইঁদুরকে দেখানো হয়। কেবল সেই সময়ের স্নায়ুকোষের সক্রিয়তা থেকে দশ সেকেন্ডের পুনর্গঠন মূল ভিডিয়োর চলন ও বৃহৎ দৃশ্যগত বৈশিষ্ট্য ধরে রাখতে পেরেছে। সংশ্লিষ্ট পিক্সেলের মিল দিয়ে মূল্যায়নে সময়ের সামান্য অসামঞ্জস্য দেখা যায়। বেশি সংখ্যক কোষের তথ্য দিলে ফল উন্নত হয়েছে।
এখনও ছবির রেজোলিউশন সীমিত এবং ইঁদুরের সমগ্র দৃষ্টিক্ষেত্র পুনর্গঠিত হয়নি। ব্যবহৃত মডেলটির প্রশিক্ষণও নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষাগারের নির্দিষ্ট ধরনের চলমান দৃশ্যের উপর নির্ভরশীল।
বিশ্লেষণ: এটি ইঁদুরের স্মৃতি, ভাবনা বা ‘মনের গোপন সিনেমা’ পড়ার যন্ত্র নয়। প্রাণীটিকে ঠিক তখনই জানা ভিডিয়ো দেখানো হয়েছে এবং সেই দৃশ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত কর্টেক্সের সংকেত বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রযুক্তিটি অচেনা বাস্তব পরিবেশে স্বাধীনভাবে চিন্তা উদ্ধার করতে পারে—এমন প্রমাণ নেই।
গবেষণার আসল মূল্য অন্য জায়গায়। চোখে পড়া দৃশ্য এবং মস্তিষ্কে তৈরি প্রতিনিধিত্বের পার্থক্য তুলনা করার পরিমাণগত পদ্ধতি তৈরি হয়েছে। মস্তিষ্ক ক্যামেরার মতো সব পিক্সেল সমানভাবে নথিবদ্ধ করে না; আচরণের প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু বৈশিষ্ট্য বেছে নেয় ও বদলায়। ভবিষ্যতে প্রজাতি, স্নায়ুস্তর ও আচরণভেদে সেই বাছাই তুলনা করা যাবে। মানুষের ‘মন পড়া’ নয়, দৃষ্টির স্নায়ুবিজ্ঞানই বর্তমান ফলের যথাযথ পরিসর।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



