হাইলাইটস:
- সব ধরনের সংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীদের জন্য অভিন্ন পেনশন কাঠামো তৈরির উদ্যোগ।
- ইপিএফও-র বিদ্যমান পেনশন ব্যবস্থাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও বহনযোগ্য করার পরিকল্পনা।
- চাকরি বদলালেও পেনশন সুবিধা বজায় রাখার উপর জোর।
- নতুন সামাজিক সুরক্ষা বিধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংস্কারের কাজ চলছে।
কেন্দ্র সরকার কর্মচারী ভবিষ্যনিধি সংস্থা (ইপিএফও)-র আওতায় একটি নতুন পেনশন কাঠামো তৈরির কাজ শুরু করেছে। লক্ষ্য, সংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মরত সব কর্মীর জন্য আরও সহজ, স্বচ্ছ এবং একীভূত পেনশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা। সরকারি সূত্রের খবর, এই সংস্কার ভবিষ্যতে কর্মীদের অবসরকালীন সামাজিক সুরক্ষাকে আরও শক্তিশালী করবে।
বর্তমান ব্যবস্থায় বিভিন্ন সময়ে চালু হওয়া একাধিক পেনশন প্রকল্পের পরিবর্তে একটি সমন্বিত কাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। নতুন পরিকল্পনাটি সামাজিক সুরক্ষা বিধি, ২০২০-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তৈরি করা হচ্ছে, যাতে বিভিন্ন নিয়মের জটিলতা কমে এবং কর্মীদের জন্য সুবিধা পাওয়া সহজ হয়।
সরকারের লক্ষ্য, কর্মীরা এক সংস্থা থেকে অন্য সংস্থায় চাকরি বদলালেও তাঁদের পেনশন হিসাব ও সুবিধা নির্বিঘ্নে বহাল থাকবে। একই সঙ্গে দাবি নিষ্পত্তির নির্দিষ্ট সময়সীমা, দেরি হলে সুদের বিধান এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তবে এই সংস্কারের অর্থ এই নয় যে বর্তমান পেনশনভোগীদের সুবিধা হঠাৎ বদলে যাবে। পরিবার পেনশন, অক্ষমতা-জনিত পেনশন এবং দীর্ঘদিনের মূল সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলি বহাল রাখার দিকেই জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পেনশন তহবিলের পরিচালনা ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত নিয়মও আরও স্পষ্ট করা হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, নতুন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চললেও সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো বিভিন্ন দাবি—যেমন ন্যূনতম পেনশন এক লাফে ৭,৫০০ টাকা করা হয়েছে—সরকার ইতিমধ্যেই ভুয়ো বলে জানিয়েছে। বর্তমানে সরকারিভাবে এমন কোনও ঘোষণা করা হয়নি।
ইপিএফও ইতিমধ্যেই সদস্য পরিষেবা আধুনিকীকরণের জন্য বড় প্রযুক্তিগত সংস্কার করেছে। ডেটাবেস একীভূতকরণ, ডিজিটাল পরিষেবা সম্প্রসারণ এবং সদস্য পরিষেবা আরও দ্রুত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন পেনশন কাঠামো সেই বৃহত্তর সংস্কার প্রক্রিয়ারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের সংগঠিত শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের ধরন দ্রুত বদলাচ্ছে। ঘন ঘন চাকরি পরিবর্তন, বেসরকারি ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি অবসর সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা মাথায় রেখেই সরকার একটি সর্বজনগ্রাহ্য ও সহজ পেনশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাইছে। যদিও নতুন কাঠামোর পূর্ণাঙ্গ খসড়া ও বাস্তবায়নের সময়সূচি এখনও প্রকাশ করা হয়নি, তবু এটি ইপিএফও-র ইতিহাসে অন্যতম বড় সংস্কার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।