ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক বিতর্ক এবং মার্কিন স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের নির্বাসন প্রত্যাহার নিয়ে তীব্র সমালোচনা সত্ত্বেও, সংস্থার ২১১ সদস্য দেশের মধ্যে ২০০-রও বেশি ইতিমধ্যেই তাঁর পুনর্নির্বাচনের পক্ষে আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানিয়েছে।
দ্য গার্ডিয়ান-এর খবর অনুযায়ী, মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি সদস্য সংস্থার সমর্থনপত্র এখনও বাকি রয়েছে। তাদের মধ্যে জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য, যারা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ইনফান্তিনোর পক্ষে সমর্থন জানায়নি।আগামী বছরের মার্চে ফিফা কংগ্রেসে সভাপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রার্থীদের মনোনয়নের শেষ তারিখ ১৮ নভেম্বর। সেই সময় পর্যন্ত সমর্থনপত্র প্রত্যাহার বা অন্য কোনও প্রার্থীর পক্ষে স্থানান্তর করা সম্ভব হলেও, বর্তমানে ইনফান্তিনোই একমাত্র প্রার্থী। তবে একাধিক জাতীয় ফুটবল সংস্থার অভিযোগ, ফিফার অভ্যন্তর থেকে তাদের ওপর দ্রুত সমর্থনপত্র পাঠানোর জন্য ধারাবাহিক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। তাত্ত্বিকভাবে ফিফার নীতিনৈতিকতা বিধি অনুযায়ী এমন চাপ দেওয়া অনুমোদিত নয়।
বাস্তবে ইনফান্তিনোকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বড় ধরনের রাজনৈতিক ভূমিকম্প প্রয়োজন হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে তিনি বালোগুনের লাল কার্ড পুনর্বিবেচনার জন্য ফিফার ওপর চাপ দিয়েছিলেন, তবু সেই বিতর্ক মূলত ইউরোপীয় ফুটবল মহলেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। ইউরোপের সমর্থন ছাড়াও ইনফান্তিনোর জয় নিশ্চিত হওয়ার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। তাছাড়া ইউরোপের অধিকাংশ সদস্য সংস্থাই ইতিমধ্যে তাঁকে সমর্থন জানিয়েছে। ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও বিশ্বকাপ শুরুর আগেই তাদের সমর্থনপত্র পাঠিয়ে দিয়েছে।গত দশ দিনে ইউরোপের সমর্থিত কোনও বিকল্প প্রার্থী দাঁড় করানোর বিষয়টি নিয়ে অন্তরালে আলোচনা বেড়েছে। তবে একাধিক জাতীয় সংস্থার ঐকমত্যে একজন প্রার্থী খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা এখনও ক্ষীণ।
সাম্প্রতিক সময়ে বালোগুন বিতর্ক এবং সোমালিয়ার রেফারি ওমর আরতানকে বিশ্বকাপ থেকে নিষিদ্ধ করার মতো ইস্যুতে উয়েফা প্রকাশ্যে ফিফার বিরোধিতা করেছে। তবে সভাপতি নির্বাচনে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বিকল্প প্রার্থীকে সমর্থন করবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ইউরোপীয় ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি সূত্রের মতে, এমন একজন প্রার্থী যদি ৩০ থেকে ৪০টি ভোটও পান, তাহলেও ফিফার প্রশাসন ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ জনসমক্ষে বিতর্ক শুরু হতে পারে।শনিবার নিউ ইয়র্কে ফিফার সদস্য সংস্থাগুলির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ইনফান্তিনো নিজেই সেই বৈঠকের সভাপতিত্ব করবেন। ফলে সাম্প্রতিক বিতর্কগুলি আনুষ্ঠানিক আলোচ্যসূচিতে আসার সম্ভাবনা কম। বরং বিশ্বকাপের আর্থিক সাফল্য এবং সেই আয়ের কতটা অংশ সদস্য সংস্থাগুলিকে দেওয়া যেতে পারে, সেটিই বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।