Home খবর রাম মন্দিরে অনিয়মের তদন্তে জাল আরও বিস্তৃত

রাম মন্দিরে অনিয়মের তদন্তে জাল আরও বিস্তৃত

৮ জন গ্রেপ্তারের পর নজরে আরও ৩০ জন, সুপারিশে ‘সংবেদনশীল’ কাজে নিয়োগের অভিযোগ

Authored By নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়
48 views 3 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস:

  • রাম মন্দির-সংক্রান্ত আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়মের তদন্তে নতুন মোড়।
  • ইতিমধ্যেই ৮ জন গ্রেপ্তার; তদন্তকারীদের নজরে আরও প্রায় ৩০ জন।
  • তদন্তে উঠে এসেছে, নির্ধারিত নিয়োগপ্রক্রিয়া এড়িয়ে সুপারিশের ভিত্তিতে কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে।
  • অভিযোগ, নিরাপত্তা ও অর্থ লেনদেনের মতো সংবেদনশীল দায়িত্বও দেওয়া হয়েছিল অস্থায়ী কর্মীদের।
  • নিয়োগে যোগ্যতার বদলে ব্যক্তিগত সুপারিশকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের।
  • নথি, আর্থিক লেনদেন ও কল রেকর্ড খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

রাম মন্দির-সংক্রান্ত আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়মের তদন্ত ক্রমশ আরও বিস্তৃত হচ্ছে। ইতিমধ্যেই এই মামলায় আট জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এবার তদন্তকারী সংস্থার নজরে এসেছে আরও অন্তত ৩০ জনের নাম। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মন্দির ট্রাস্টের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন কর্মী, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং কিছু মধ্যস্থতাকারী, যাঁদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গিয়েছে, বহু ক্ষেত্রে কোনও স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ করা হয়েছিল। অভিযোগ, ব্যক্তিগত সুপারিশের ভিত্তিতেই তাঁদের কাজে নেওয়া হয় এবং পরে তাঁদের হাতে এমন সব দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়, যা সাধারণত নিরাপত্তা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল বলে বিবেচিত।

তদন্তকারীদের দাবি, এই নিয়োগগুলির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা যাচাই বা পটভূমি পরীক্ষা যথাযথভাবে করা হয়নি। অথচ ওই কর্মীদের অনেকেই নথিপত্র সংরক্ষণ, নগদ অর্থের লেনদেন, ভক্তদের অনুদান-সংক্রান্ত কাজ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাতেন। ফলে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।সূত্রের দাবি, তদন্তে উদ্ধার হওয়া নথি থেকে বোঝা যাচ্ছে যে নিয়োগের ক্ষেত্রে লিখিত অনুমোদন বা নির্দিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বহু ক্ষেত্রেই অনুসরণ করা হয়নি। কোথাও কোথাও সুপারিশপত্র বা মৌখিক নির্দেশের ভিত্তিতে কর্মী নেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। এর ফলে প্রশাসনিক জবাবদিহি নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে।

গ্রেপ্তার হওয়া আট জনকে ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা। তাঁদের বক্তব্যের ভিত্তিতে নতুন কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। তদন্তকারী সংস্থা এখন সেই সূত্র ধরে আর্থিক লেনদেন, ব্যাংক হিসাব, ফোনের কল রেকর্ড এবং ডিজিটাল যোগাযোগ বিশ্লেষণ করছে। প্রয়োজনে আরও তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।

তদন্তে এটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে, নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে কেউ কি ইচ্ছাকৃতভাবে নিয়ম ভেঙে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে সুবিধা পাইয়ে দিয়েছিলেন, অথবা কোনও আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে চাকরি দেওয়া হয়েছিল কি না। যদিও এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে তদন্তকারী সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও সিদ্ধান্ত জানায়নি।

মন্দিরের মতো ধর্মীয় ও জনআস্থার প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। কারণ, এখানে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক ভক্তের আনাগোনা এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অনুদান আসে। সেই কারণে নিরাপত্তা, হিসাবরক্ষণ এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা কঠোর নিয়ম মেনে পরিচালিত হওয়ার কথা। অভিযোগ, সেই ব্যবস্থাতেই ফাঁকফোকর তৈরি হয়েছিল।

তদন্তকারীরা এখন নিয়োগের সম্পূর্ণ নথি, অনুমোদনের শৃঙ্খল এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের ভূমিকা বিশদে খতিয়ে দেখছেন। যাঁদের নাম নতুন করে সামনে এসেছে, তাঁদেরও পর্যায়ক্রমে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হতে পারে। প্রয়োজনে আরও গ্রেপ্তারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।

এই তদন্তের অগ্রগতির দিকে এখন সবার নজর। কারণ, বিষয়টি শুধু আর্থিক অনিয়মের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কাঠামো, নিয়োগব্যবস্থা এবং জবাবদিহি কতটা সুশৃঙ্খল ছিল, সেই প্রশ্নও এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। তদন্ত শেষ হলে অনিয়মের প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles