Home খবর ‘বিজেপি এখন তৃণমূলের অ্যালুমিনি অ্যাসোসিয়েশন’, গুন্ডা দমন আইন ও স্বাস্থ্যবীমা নিয়ে জোড়া নিশানা কুণাল ঘোষের

‘বিজেপি এখন তৃণমূলের অ্যালুমিনি অ্যাসোসিয়েশন’, গুন্ডা দমন আইন ও স্বাস্থ্যবীমা নিয়ে জোড়া নিশানা কুণাল ঘোষের

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
15 views 3 minutes read
A+A-
Reset

কলকাতা: বর্তমান রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্যবীমা নীতি, নতুন পাস হওয়া গুন্ডা দমন আইন এবং সাম্প্রতিক দলবদলের হিড়িক নিয়ে বর্তমান শাসকদল ও প্রশাসনকে তীব্র আক্রমণ শানালেন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা তথা মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। একই সাথে দলবদলু নেতাদের তীব্র কটাক্ষ করে বিজেপিকে ‘তৃণমূলের প্রাক্তন ছাত্র সংসদ’ বা অ্যালুমিনি অ্যাসোসিয়েশন বলে অবিহিত করেছেন তিনি।

১. “স্বার্থ ও কুকীর্তি বাঁচাতেই দলবদল, বিজেপি এখন তৃণমূলের অ্যালুমিনি অ্যাসোসিয়েশন”
তৃণমূলের একাংশের দূরত্ব তৈরি করা এবং নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করার বিষয়টিকে তীব্র কটাক্ষ করেন কুণাল ঘোষ। তিনি মনে করিয়ে দেন, মাত্র আড়াই মাস আগে যারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সই করা প্রতীক নিয়ে এবং দলের তহবিল থেকে ২৫ লক্ষ টাকা নিয়ে নির্বাচন লড়েছেন, আঙুলের কালির দাগ না উঠতেই তাদের এই ভোলবদল আসলে চরম বিশ্বাসঘাতকতা।

কুণাল ঘোষ বলেন,

“মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ মুখ্যমন্ত্রী পদে নেই বলেই অনেকের হঠাত শ্বাসকষ্ট শুরু হয়েছে। কেউ লোভে যাচ্ছেন, কেউ নিজের অবৈধ সম্পত্তি ও কুকীর্তি বাঁচাতে যাচ্ছেন, আবার কেউ খুনের মামলা বা পুরনো দাদাগিরির হাত থেকে বাঁচতে বিজেপির শরণাপন্ন হচ্ছেন।”

বিজেপিকে খোঁচা দিয়ে তিনি আরও বলেন, বিজেপির ঘরে রাজ্যসভায় পাঠানোর মতো যোগ্য লোক নেই বলেই তারা তৃণমূল থেকে লোক ধার করছে। ফলে খাঁটি বিজেপি কর্মীরা ক্ষুব্ধ এবং দলটা এখন কার্যত তৃণমূলের ‘অ্যালুমিনি অ্যাসোসিয়েশন’-এ পরিণত হয়েছে।

২. স্বাস্থ্যবীমা নিয়ে চরম বিভ্রান্তি, ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশের দাবি
রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্যনীতি নিয়েও একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল মুখপাত্র। তিনি জানান, পূর্বতন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের চালু করা ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্প সবার জন্য বিনামূল্যে ৫ লক্ষ টাকার চিকিৎসার সুযোগ করে দিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার এসে আয়ুষ্মান ভারত চালু করার কথা বলে চরম বিভ্রান্তি তৈরি করেছে।

প্রথমে বিধানসভায় মুদ্রিত ভাষণে বলা হলো—যারা আয়ুষ্মান ভারত পাবেন না, তাদের মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে সাহায্য দেওয়া হবে। এখন আবার ত্রাণ তহবিল বাদ দিয়ে নতুন আরেকটি বীমা আনার কথা বলা হচ্ছে। কুণাল ঘোষের স্পষ্ট প্রশ্ন, “যদি ৫ লক্ষ টাকার আরেকটি বীমা আনতেই হয়, তবে সর্বজনীন ও সফল স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পকে কেন বন্ধ করা হলো?” এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অবিলম্বে একটি তুলনামূলক হিসাব ও শ্বেতপত্র জনসমক্ষে আনা উচিত বলে তিনি দাবি করেন।

৩. “গুন্ডা দমন আইনের আড়ালে প্রতিপক্ষ দমনের চেষ্টা”
নতুন পাস হওয়া গুন্ডা দমন আইন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কুণাল ঘোষ স্পষ্ট জানান, গুন্ডা দমন সবাই চায় এবং এর জন্য আগে থেকেই আইপিসি, সিআরপিসি বা নতুন ন্যায়সংহিতা যথেষ্ট ছিল। কিন্তু এই নতুন আইনের কিছু ধারা ও উপধারা অত্যন্ত বিপজ্জনক।

তিনি অভিযোগ করেন, এই আইনে আদালত ও বিচারব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ বাইপাস করে পুলিশকে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আটক ব্যক্তি আইনজীবী পাবেন না, তাকে সময়মতো আদালতে তোলা হবে না এবং অ্যারেস্ট মেমোও সাথে সাথে দেওয়া হবে না। ফলে ক্ষমতাসীন দল এটিকে সাধারণ মানুষের প্রতিবাদের আওয়াজ চেপে দিতে এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনের হাতিয়ার হিসেবে অপব্যবহার করতে পারে। এই আইনের নির্দিষ্ট কিছু ক্লজের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আদালতের হস্তক্ষেপ জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

৪. আর জি করের ক্ষতিপূরণ ও রথযাত্রার অনুদান নিয়ে দ্বিমুখী নীতি
আর জি করের ‘অভয়া’ হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে বিরোধীদের দ্বিমুখী নীতিকে তীব্র আক্রমণ করেন তৃণমূল নেতা। তিনি বলেন, ঘটনার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার যখন বিধিবদ্ধ নিয়ম মেনে পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে ক্ষতিপূরণ দিতে চেয়েছিল, তখন চারিদিকে ‘ঘুষ দেওয়া হচ্ছে’ বলে কুৎসা রটানো হয়েছিল। অথচ আজ নতুন সরকারও যখন নিয়ম মেনে টাকা দিচ্ছে, তখন সেই কুৎসা রটনাকারীরা মুখে সেলোটেপ এঁটে বসে আছেন কেন?

পাশাপাশি, রথযাত্রা কমিটিগুলোকে ৫ লক্ষ টাকা করে অনুদান দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন যে, এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন দুর্গাপূজায় অনুদান দিয়েছিলেন, তখন যারা রে রে করে উঠেছিলেন, আজ তারা নিশ্চুপ কেন? এছাড়াও রথযাত্রার অনুদানের তালিকাটি স্বচ্ছভাবে সবার জন্য আবেদনের সুযোগ না রেখে গোপনে তৈরি করারও সমালোচনা করেন তিনি।

পরিশেষে কুণাল ঘোষ স্পষ্ট বার্তা দেন, তৃণমূল কংগ্রেস কোনোভাবেই দুর্বল নয়। দল মাঠে আছে এবং ভিক্টোরিয়ার সামনে রেকর্ড সমাবেশ করার জন্য তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আর এই বিপুল প্রস্তুতি দেখেই সরকার পক্ষ ভয় পেয়ে পুলিশকে দিয়ে তৃণমূলকে ডিস্টার্ব করার চেষ্টা করছে।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles