Table of Contents
হাইলাইটস:
- ৭৪ বছর বয়সে প্রয়াত কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি।
- তাঁর নেতৃত্বেই কাতার এলএনজি শক্তি, বৈশ্বিক বিনিয়োগ ও কূটনীতিতে অন্যতম প্রভাবশালী দেশে পরিণত হয়।
- চার দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে কাতার; জাতীয় পতাকা থাকবে অর্ধনমিত।
কাতারের সাবেক আমির এবং আধুনিক কাতারের অন্যতম প্রধান রূপকার শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি আর নেই। রবিবার ৭৪ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে কাতারের আমিরি দিওয়ান (Amiri Diwan) আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে। ১৯৯৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি দেশটির শাসক ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বেই ছোট্ট উপসাগরীয় রাষ্ট্র কাতার বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ, শীর্ষ এলএনজি (LNG) রপ্তানিকারক এবং মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়।
আমিরের দপ্তর শোকবার্তায় জানায়, গভীর শোকের সঙ্গে দেশ ‘ফাদার আমির’ শেখ হামাদের মৃত্যুতে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে। তাঁর জানাজা রবিবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। একই সঙ্গে দেশজুড়ে চার দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। এই সময় সরকারি দপ্তর বন্ধ থাকবে এবং জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।
রক্তপাতহীন অভ্যুত্থান থেকে বিশ্বমঞ্চে কাতার
১৯৯৫ সালের জুনে শেখ হামাদ রক্তপাতহীন এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তাঁর পিতা শেখ খলিফা বিন হামাদ আল থানিকে ক্ষমতাচ্যুত করে রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণ করেন। তখন কাতার ছিল তুলনামূলকভাবে ছোট এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সীমিত প্রভাবের একটি দেশ।
ক্ষমতায় এসে তিনি দেশের বিপুল প্রাকৃতিক গ্যাস সম্পদকে কাজে লাগিয়ে কাতারকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) রপ্তানিকারকে পরিণত করেন। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বৈদেশিক নীতির মাধ্যমে কাতারের বৈশ্বিক গুরুত্বও দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
আল জাজিরা থেকে বিশ্বজোড়া বিনিয়োগ
শেখ হামাদের শাসনামলেই ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় আল জাজিরা, যা পরে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে পরিণত হয়।
তাঁর উদ্যোগে গঠিত কাতার ইনভেস্টমেন্ট অথরিটি (QIA) বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যাপক বিনিয়োগ শুরু করে। ভক্সওয়াগেন, লন্ডনের হ্যারডস ডিপার্টমেন্ট স্টোর এবং ফরাসি ফুটবল ক্লাব প্যারিস সাঁ-জার্মাঁ (PSG)-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে কাতারের বিনিয়োগ তাঁর সময়েই সম্প্রসারিত হয়।
বিশ্বকাপ ও আন্তর্জাতিক প্রভাব
২০১০ সালে কাতার যখন ২০২২ সালের ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের অধিকার পায়, তখনও দেশের আমির ছিলেন শেখ হামাদ। যদিও পরবর্তীতে এই আয়োজনকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ এবং বিদেশি শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছিল।
তাঁর আমলেই কাতার গাজা উপত্যকায় অবকাঠামো উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তায় বড় ভূমিকা নেয় এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবেও নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে।
বিরল ক্ষমতা হস্তান্তর
২০১৩ সালের জুনে শেখ হামাদ স্বেচ্ছায় সিংহাসন ত্যাগ করে তাঁর ছেলে শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির হাতে ক্ষমতা তুলে দেন। উপসাগরীয় রাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলির ইতিহাসে স্বেচ্ছায় ক্ষমতা হস্তান্তরের এমন ঘটনা অত্যন্ত বিরল বলে বিবেচিত হয়।
আধুনিক কাতারের অর্থনৈতিক উত্থান, বৈশ্বিক কূটনৈতিক প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক পরিচিতি গড়ে তোলার পেছনে শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির অবদান আজও দেশের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে স্মরণ করা হবে।