বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মহারণের আগে আত্মবিশ্বাসী আর্জেন্টিনা। দলের ফরোয়ার্ড হোসে লোপেস জানিয়ে দিলেন, ইতিহাস ও আবেগে মোড়া এই ম্যাচে তাঁরা “মাঠেই নিজেদের জীবন রেখে আসবেন”। তবে কোচ লিওনেল স্কালোনি বাড়তি উত্তেজনায় গা ভাসাতে নারাজ। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, “এটা একটা ফুটবল ম্যাচ, এর বেশি কিছু নয়।”
সুইৎজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শেষ চারে উঠেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। অতিরিক্ত সময়ে জুলিয়ান আলভারেসের গোলের পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন বদলি হিসেবে নামা লোপেস। তাঁর পাস থেকেই আলভারেস এগিয়ে দেন আর্জেন্টিনাকে। পরে লাউতারো মার্তিনেজ আর একটি গোল করে জয় নিশ্চিত করেন।
ম্যাচের পরে লোপেস বলেন, “মাঠের ভিতরে এবং বাইরে—এই ম্যাচের সঙ্গে অনেক ইতিহাস, অনেক যন্ত্রণা এবং অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। কিন্তু আমরা পেশাদার ফুটবলার। তাই অন্য সব ম্যাচের মতোই এটাও খেলব। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়ব এবং মাঠে নিজেদের সবকিছু উজাড় করে দেব।”
ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা দ্বৈরথ আন্তর্জাতিক ফুটবলের অন্যতম ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা। দুই দেশের ফুটবল-সম্পর্কে ফকল্যান্ড যুদ্ধ, দিয়েগো মারাদোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল, ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ডেভিড বেকহ্যামের লাল কার্ড—এমন বহু বিতর্কিত ও আবেগঘন অধ্যায় রয়েছে। সেই কারণেই বুধবারের সেমিফাইনাল ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে।
তবে স্কালোনি অতীতের আবেগে না ভেসে দলের সাফল্যকেই বড় করে দেখছেন।
তিনি বলেন, “এই দল যা করেছে, তা ইতিহাস। হয়তো আমরা আরও ভালো খেলতে পারতাম, কিন্তু টানা আবারও বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠা ঐতিহাসিক অর্জন। ফুটবলে এই জায়গায় পৌঁছনো খুব কঠিন। আমরা খুশি, রোমাঞ্চিত। শেষ ফোঁটা ঘাম পর্যন্ত লড়ে ফাইনালে ওঠার চেষ্টা করব।”
ইংল্যান্ডকে নিয়ে প্রশ্ন করা হলে স্কালোনি কোনও উত্তেজনাপূর্ণ মন্তব্য করতে চাননি।
তাঁর সংক্ষিপ্ত জবাব, “আমার বার্তা একটাই—এটা একটা ফুটবল ম্যাচ। আমরা খুব শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলতে নামব। তাদের একজন অসাধারণ কোচ আছেন। এটা ফুটবল, এর বাইরে আর কিছু নয়।”
সুইৎজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচটি অবশ্য আর্জেন্টিনার জন্য সহজ ছিল না। নির্ধারিত সময়ে ড্যান এনডয়ের গোলে সমতা ফেরায় সুইৎজারল্যান্ড। পরে ব্রিল এম্বোলোর লাল কার্ড ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
স্কালোনি স্বীকার করেন, প্রতিপক্ষের শারীরিক শক্তির সামনে তাঁর দল শুরুতে সমস্যায় পড়েছিল।
তিনি বলেন, “দ্বৈরথে জিততে আমাদের খুব কষ্ট হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা সমাধান খুঁজে নিয়েছি। এই ম্যাচ আমাদের অনেক শিক্ষা দিয়েছে। সামনে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে, সেটা আমরা বুঝে গিয়েছি।”
অন্যদিকে ম্যাচ শেষে ক্ষোভ উগরে দেন সুইৎজারল্যান্ডের কোচ মুরাত ইয়াকিন। তাঁর অভিযোগ, ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) একটি নিয়ম তাঁদের বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে।
ঘটনাটি অতিরিক্ত সময়ের। প্রথমে আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে ফাউলের জন্য হলুদ কার্ড দেখানো হয়। পরে ভিএআর জানায়, পারেদেস কোনও ফাউল করেননি। ‘ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি’ (Mistaken Identity) নিয়ম প্রয়োগ করে সেই হলুদ কার্ড বাতিল করা হয় এবং উল্টে ডাইভ দেওয়ার অভিযোগে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে মাঠছাড়া করা হয় এম্বোলোকে।
ইয়াকিন বলেন, “পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখানোর কোনও কারণই ছিল না। আমি বুঝতে পারছি না কেন সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। তারপর আমাদের খেলোয়াড়কেই লাল কার্ড দেখতে হল।”
তাঁর আরও অভিযোগ, “এই নিয়মটাই আজ আমাদের ম্যাচটা নষ্ট করে দিল। এটা অত্যন্ত কষ্টের। হয়তো আমরা আর সেমিফাইনালে উঠতে পারব না, কিন্তু আমার বিশ্বাস আমরা সেই যোগ্যতা রাখতাম। এভাবে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়া খুবই বেদনাদায়ক। তবু আমি আমার দলের পারফরম্যান্স নিয়ে গর্বিত।”