হাইলাইটস:
- হালান্ডকে সুযোগ না দিলেই বাড়বে ইংল্যান্ডের জয়ের সম্ভাবনা
- মিয়ামির তীব্র গরমে ধীর গতির লড়াই হতে পারে ১২০ মিনিট পর্যন্ত
- ওডেগার্ড, নুসা, সোরলথ ও বব—নরওয়ে শুধু হালান্ডনির্ভর নয়
- বেলিংহ্যাম, কেন, সাকা ও গর্ডনের পাল্টা আক্রমণ হতে পারে ম্যাচের মোড় ঘোরানো অস্ত্র
বাংলাস্ফিয়ার: শনিবার রাতে নরওয়ের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডকে দীর্ঘ ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হবে। ম্যাচটি খুব সম্ভবত অত্যন্ত কঠিন ও ধীর গতির হবে। এমনকি নির্ধারিত ৯০ মিনিটে নিষ্পত্তি না হয়ে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত গড়াতে পারে। তাই দর্শকদেরও মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে এক টানটান লড়াইয়ের জন্য।
নরওয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি অবশ্যই আর্লিং হালান্ড। তিনি এমন একজন স্ট্রাইকার, যিনি অল্প সুযোগ পেলেও গোল করে দিতে পারেন। ফলে ইংল্যান্ডের প্রধান কৌশল হওয়া উচিত হালান্ডকে বলের যোগান থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা। কারণ বল যদি তাঁর নাগালে পৌঁছয় এবং তিনি সামান্য ফাঁকও পান, তাহলে সেই সুযোগ গোলে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
নরওয়ে ধৈর্য ধরে আক্রমণ গড়ে তোলে। শেষ ষোলোয় ব্রাজিলের বিরুদ্ধে তারা সেটাই দেখিয়েছে। কম সংখ্যক খেলোয়াড় নিয়ে আক্রমণ সাজিয়ে, বলের দখল ধরে রেখে এবং বিশেষ করে বাঁ দিক দিয়ে সঠিক সময়ে উইঙ্গারদের ব্যবহার করে তারা প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলেছিল। দীর্ঘ ছয় বছরেরও বেশি সময় ধরে একই কোচ স্তালে সোলবাক্কেনের অধীনে খেলার সুফল দলটি পাচ্ছে।
পেনাল্টি বক্সে হালান্ডের নড়াচড়া ডিফেন্ডারদের জন্য দুঃস্বপ্ন। তিনি এমনভাবে অবস্থান বদলান যে রক্ষণভাগ একসঙ্গে বল ও খেলোয়াড়—দুটিকেই নজরে রাখতে পারে না। তারপর চোখের আড়াল থেকে আচমকা দৌড়ে উঠে গোলের সুযোগ তৈরি করেন। তাঁর বিস্ফোরক গতি প্রথম কয়েক গজেই প্রতিপক্ষকে হারিয়ে দেয়।
তাত্ত্বিকভাবে রক্ষণভাগকে তাঁর দৌড় আটকানোর নির্দেশ দেওয়া সম্ভব হলেও বাস্তবে তা অত্যন্ত কঠিন। কারণ শারীরিক শক্তি ও গতি—দুই দিক থেকেই হালান্ড অসাধারণ। তাই ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল তাঁকে সামলাতে ড্যান বার্নকে ব্যবহার করেন কি না, সেটিও নজরে থাকবে।
শুধু আকাশপথে নয়, নিচু ক্রস থেকেও হালান্ড সমান বিপজ্জনক। ডিফেন্ডারের পেছনে গিয়ে মাটিতে শট নিয়ে গোল করতে পারেন। আবার ভিড়ের মধ্য দিয়েও প্রচণ্ড জোরে শট নিতে সক্ষম। এক স্পর্শে গোল করার ক্ষমতাই তাঁকে বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকারে পরিণত করেছে।
এবারের বিশ্বকাপে হালান্ডকে আগের যেকোনও সময়ের তুলনায় অনেক বেশি স্বচ্ছন্দ ও আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছে। তিনি খেলাটা উপভোগ করছেন এবং বর্তমান মুহূর্তেই মনোযোগী। এই মানসিক অবস্থাই ইংল্যান্ডের জন্য বড় বিপদের কারণ হতে পারে।
তবে নরওয়ে শুধুই হালান্ডের দল নয়। মার্টিন ওডেগার্ড মাঝমাঠ থেকে আক্রমণের সেতুবন্ধন তৈরি করছেন দুর্দান্ত দক্ষতায়। অ্যান্টোনিও নুসা বাঁ প্রান্তে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন। আলেকজান্ডার সোরলথও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। বদলি হিসেবে নামা অস্কার ববও ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার মতো প্রতিভাবান ফুটবলার।
নরওয়ের মাঝমাঠও অত্যন্ত গতিশীল। তারা রক্ষণ থেকে ধৈর্য ধরে খেলা গড়ে তোলে এবং মাঝমাঠে অতিরিক্ত খেলোয়াড় তুলে এনে সংখ্যার বাড়তি সুবিধা তৈরি করে। দুই আক্রমণাত্মক মাঝমাঠের ফুটবলারকে কাজে লাগিয়ে তারা প্রতিপক্ষের রক্ষণে ফাঁক খোঁজে। ফলে ইংল্যান্ডের ফুল-ব্যাকদের যেমন ক্রস ঠেকাতে হবে, তেমনি মাঝমাঠকেও ভেতরের পাসের পথ বন্ধ রাখতে হবে।
অন্যদিকে, নরওয়ের এই আক্রমণাত্মক বিন্যাস ইংল্যান্ডের পাল্টা আক্রমণের সুযোগও বাড়িয়ে দিতে পারে। জুড বেলিংহ্যাম দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন এবং মাঝমাঠ থেকে বক্সে ঢুকে পড়ার ক্ষমতা তাঁর অন্যতম বড় অস্ত্র। হ্যারি কেন ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলছেন। মেক্সিকোর বিরুদ্ধে নিজেদের সেরা ছন্দে দেখা গিয়েছিল অ্যান্থনি গর্ডন ও বুকায়ো সাকাকেও। দ্রুত পাল্টা আক্রমণে এই চারজনই বড় ভূমিকা নিতে পারেন।
তবে মেক্সিকোর বিরুদ্ধে রোমাঞ্চকর ম্যাচের সঙ্গে এই লড়াইয়ের কোনও মিল থাকবে না। মিয়ামির প্রচণ্ড গরম ম্যাচের গতি অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে। দুই দলই দীর্ঘ সময় বলের দখল ধরে রেখে ধীর গতিতে খেলতে বাধ্য হতে পারে। এমন আবহাওয়ায় সেটাই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত কৌশল।
মেক্সিকোর বিরুদ্ধে ১০ জন নিয়ে জয় তুলে নিয়ে ইংল্যান্ড মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছে। প্রতিকূল পরিস্থিতি সামলে জেতার আত্মবিশ্বাস তাদের রয়েছে। কাগজে-কলমে ইংল্যান্ডের ব্যক্তিগত মান নরওয়ের চেয়ে বেশি হলেও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রতিটি ম্যাচই কঠিন।
এই কারণেই টুখেলের দলের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে মেক্সিকো ম্যাচের আবেগ কাটিয়ে নতুন করে নিজেদের প্রস্তুত করা। অভিজ্ঞতা, আত্মবিশ্বাস এবং প্রতিকূলতা সামলানোর মানসিক শক্তির বিচারে ইংল্যান্ড এগিয়ে থাকলেও, মিয়ামির তীব্র গরমে নরওয়ের বিরুদ্ধে এই লড়াই তাদের জন্য মোটেও সহজ হবে না।