Table of Contents
হাইলাইটস:
- ইউরোপের তাপপ্রবাহের মধ্যে জার্মানিতে জুন মাসে পানিতে ডুবে মৃত্যু ৯৯ জনের।
- ২০০৩ সালের পর এক মাসে এটিই সর্বোচ্চ ডুবে মৃত্যুর সংখ্যা।
- অধিকাংশ মৃত তরুণ পুরুষ; হ্রদ ও নদীতেই ঘটেছে বেশিরভাগ দুর্ঘটনা।
ইউরোপজুড়ে চলা তীব্র তাপপ্রবাহের জেরে জার্মানিতে উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা। দেশটির জাতীয় লাইফগার্ড সংস্থা ডিএলআরজি (DLRG)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত জুন মাসে ৯৯ জন ডুবে মারা গিয়েছেন, যা ২০০৩ সালের ভয়াবহ তাপপ্রবাহের পর জুন মাসে সর্বোচ্চ।
এর আগে ২০০৩ সালের জুনে ডুবে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১০৭, যা এখনও এক মাসের সর্বোচ্চ রেকর্ড।
গরম থেকে বাঁচতে জলে, বাড়ছে দুর্ঘটনা
পশ্চিম ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে পড়া তীব্র গরমে জার্মানির বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪১.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছেছে। এই অস্বাভাবিক আবহাওয়ার কারণে শুধু দাবানল বা রেল পরিষেবায় বিঘ্নই নয়, বেড়েছে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুও।
বিশেষ করে গরম থেকে স্বস্তি পেতে অনেকেই হ্রদ, নদী ও খোলা জলাশয়ে নামছেন। আর সেখানেই ঘটছে একের পর এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
সবচেয়ে বেশি প্রাণ হারাচ্ছেন তরুণ পুরুষ
ডিএলআরজি জানিয়েছে, মৃতদের ৯০ শতাংশেরও বেশি পুরুষ।
যাঁদের বয়স জানা গেছে, তাঁদের মধ্যে ৪০ জনের বয়স ৩০ বছরের কম। অর্থাৎ, তরুণদের মধ্যেই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।
সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে হ্রদ ও নদীতে, যেখানে স্রোত, গভীরতা বা পানির তাপমাত্রা সম্পর্কে অনেকেই সঠিক ধারণা ছাড়াই জলে নামছেন।
কেন বাড়ছে ডুবে মৃত্যু?
ডিএলআরজি-র সভাপতি উটে ফগট বলেন, পুরুষেরা তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকি নেন এবং পানির বিপদকে প্রায়ই হালকাভাবে দেখেন।
তাঁর কথায়, “অনেকেই মদ্যপান বা মাদক গ্রহণের পর পানিতে নামেন। এতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমে যায় এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, তীব্র গরমে শরীর ক্লান্ত থাকায় হঠাৎ ঠান্ডা পানিতে নামলেও শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই হ্রদ, নদী বা অন্য কোনও প্রাকৃতিক জলাশয়ে নামার আগে সতর্কতা অবলম্বন করা এবং নিরাপদ স্থানে সাঁতার কাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।