Home খবরদেশ মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন ব্যবহারের অভিযোগে তোলপাড়, তদন্তের নির্দেশ সরকারের

মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন ব্যবহারের অভিযোগে তোলপাড়, তদন্তের নির্দেশ সরকারের

Authored By নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়
52 views 2 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস:

  • হাসপাতালে মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন ব্যবহারের অভিযোগে স্বাস্থ্য দপ্তরের তদন্তের নির্দেশ।
  • রোগীদের নিরাপত্তা ও চিকিৎসা ব্যবস্থায় গাফিলতির অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে।
  • দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত।
  • হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা, সরবরাহ ব্যবস্থা ও মজুত প্রক্রিয়াও তদন্তের আওতায়।

নিজস্ব প্রতিবেদন:
হাসপাতালে রোগীদের শরীরে মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন প্রয়োগের অভিযোগ সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসল সরকার। ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে বিবেচনা করে স্বাস্থ্য দপ্তর পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, ওষুধ সংরক্ষণ ও সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত কর্মী এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে মজুত থাকা কিছু স্যালাইনের গায়ে উল্লেখিত মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরও তা রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই রোগীর পরিবারগুলির মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়। কীভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ চিকিৎসা সামগ্রী ব্যবহার করা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার নজরদারি নিয়েও।

স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে, তদন্তে একাধিক বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। স্যালাইন সরবরাহের সময়সীমা, হাসপাতালের মজুত ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত পরীক্ষার রেকর্ড, ওষুধ বিতরণের পদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের দায়িত্ব পালনে কোনও গাফিলতি ছিল কি না—সব দিকই খুঁটিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট নথি বাজেয়াপ্ত করে বিশেষজ্ঞদের মতামতও নেওয়া হবে।

চিকিৎসকদের একাংশের মতে, মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন ব্যবহার অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। যদিও প্রতিটি ক্ষেত্রে ক্ষতির মাত্রা একই রকম হয় না, তবু এমন সামগ্রী ব্যবহার রোগীর সংক্রমণ, জটিলতা বা চিকিৎসাজনিত ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই হাসপাতালের ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক।

ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। নিয়মিত মজুত পরীক্ষা, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ওষুধ ও স্যালাইন সরিয়ে ফেলার বিধি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের তদারকি ঠিকমতো হয়েছে কি না, তা তদন্তে স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে, তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে অবহেলা বা নিয়মভঙ্গের কারণে এই ঘটনা ঘটেছে, তবে কেবল বিভাগীয় শাস্তিই নয়, প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। একই সঙ্গে রাজ্যের অন্যান্য সরকারি হাসপাতালেও মজুত থাকা স্যালাইন ও জরুরি চিকিৎসা সামগ্রীর মেয়াদ পরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

রোগী-নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্ত দ্রুত শেষ করে দায় নির্ধারণ করা হবে। চিকিৎসা পরিষেবার ওপর মানুষের আস্থা অটুট রাখতে কোনও ধরনের গাফিলতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না বলেও সরকার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles