Table of Contents
হাইলাইটস
- মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে খামেনেইকে সমাহিত করার দাবি ইরানের।
- শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রাস্তায় নামে লাখো মানুষ।
- একই দিনে ইরানের একাধিক এলাকায় নতুন মার্কিন হামলার অভিযোগ।
- হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা আরও বাড়ল।
- সংঘাতে বাড়ছে হতাহত, গভীর হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত যেন আরও এক আবেগঘন মোড়ে পৌঁছেছে। ইরানের দাবি, দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে বৃহস্পতিবার তাঁর জন্মশহর মাশহাদের পবিত্র ইমাম রেজা মাজারে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়েছে। তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। শোক, ক্ষোভ ও প্রতিশোধের স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে গোটা শহর।
কফিনবাহী শোকযাত্রা মাশহাদের প্রধান সড়ক অতিক্রম করার সময় সর্বত্র ধ্বনিত হয় ধর্মীয় স্লোগান। কারও হাতে জাতীয় পতাকা, কারও হাতে খামেনেইয়ের প্রতিকৃতি। অশ্রুসিক্ত চোখে বহু মানুষ তাঁদের নেতাকে শেষ বিদায় জানান।
শোকের ঢেউ
ইরানের সরকারি সূত্রের দাবি, খামেনেইকে তাঁর পরিবারের নিহত সদস্যদের পাশেই সমাহিত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে এক অল্পবয়সি নাতনিও ছিলেন, যিনি হামলায় নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে দেশজুড়ে আবেগের সঞ্চার হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমেও শোক ও ক্ষোভের প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়েছে।
ইরানের দাবি, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাতের প্রথম দিনেই মার্কিন বিমান হামলায় খামেনেই নিহত হন। সেই হামলায় তাঁর পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারান বলে তেহরানের অভিযোগ। এরপর থেকেই দেশজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয় এবং রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বে দ্রুত রদবদল শুরু হয়।
শেষকৃত্যেই হামলা
খামেনেইয়ের শেষকৃত্যের দিনই ইরানের একাধিক এলাকায় নতুন করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য নিরাপদ রাখতে অভিযান চালানো হচ্ছে। তাদের বক্তব্য, জলপথে সম্ভাব্য হুমকি দূর করাই মূল লক্ষ্য।
তবে তেহরান এই ব্যাখ্যা মানতে রাজি নয়। ইরানের অভিযোগ, সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোকেই নিশানা করা হচ্ছে। এর ফলে সংঘাত আরও দীর্ঘ ও জটিল হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
বাড়ছে হতাহত
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, গত দু’দিনের হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সাধারণ নাগরিকও রয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। বিভিন্ন হাসপাতালে জরুরি পরিষেবা জোরদার করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, খামেনেইয়ের অনুপস্থিতি ইরানের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেও সংঘাত থামার সম্ভাবনা খুব কম। বরং নতুন নেতৃত্বের সামনে এখন দ্বৈত চ্যালেঞ্জ—দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং আমেরিকার মোকাবিলায় নতুন কৌশল নির্ধারণ করা।
হরমুজে চাপ
শিয়া মুসলিমদের অন্যতম পবিত্র স্থান ইমাম রেজা মাজারে খামেনেইকে সমাহিত করার সিদ্ধান্তকে অনেকেই প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। এর মাধ্যমে তাঁকে জাতীয় ও ধর্মীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
অন্যদিকে ওয়াশিংটন স্পষ্ট করেছে, হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলে কোনও বাধা বরদাস্ত করা হবে না। বিশ্ব তেল বাণিজ্যের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়ে পরিচালিত হওয়ায় এর নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
যুদ্ধের নতুন মোড়
কূটনৈতিক মহলের আশঙ্কা, শেষকৃত্যকে ঘিরে তৈরি হওয়া আবেগ ইরানে নতুন করে জনসমর্থন সংগঠিত করতে পারে। তার জেরে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
খামেনেইকে ঘিরে শোকযাত্রা একটি অধ্যায়ের সমাপ্তির প্রতীক হতে পারে, কিন্তু যুদ্ধের ইতি টানার কোনও ইঙ্গিত এখনও নেই। বরং শেষ বিদায়ের দিনেই নতুন হামলার অভিযোগ প্রমাণ করে দিচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত আরও অনিশ্চিত ও বিস্ফোরক পর্যায়ে পৌঁছেছে।