Table of Contents
হাইলাইটস
- ট্রাম্পকে হত্যার নতুন ষড়যন্ত্রের আশঙ্কায় আমেরিকাকে সতর্ক করল ইজরায়েল।
- গোয়েন্দা তথ্যের দাবি, এবার মিলেছে নির্দিষ্ট হামলার পরিকল্পনার ইঙ্গিত।
- সোলেইমানি হত্যার প্রতিশোধের হুমকি বহুবার দিয়েছে ইরান।
- অভিযোগ এখনও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলি।
ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে নতুন করে হত্যার ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ইজরায়েল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর দাবি, ইজরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার হাতে আসা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ইতিমধ্যেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হয়েছে। সেই তথ্য অনুযায়ী, ইরান ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে একটি নতুন হামলার পরিকল্পনা করেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহেই এই গোয়েন্দা তথ্য মার্কিন প্রশাসনের হাতে পৌঁছেছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ট্রাম্পকে ঘিরে সম্ভাব্য হামলার নানা ইঙ্গিত খতিয়ে দেখছিল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। তবে ইজরায়েলের দেওয়া তথ্যের গুরুত্ব বেশি, কারণ সেখানে একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনার উল্লেখ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও হামলার ধরন, সম্ভাব্য সময় কিংবা কারা এর সঙ্গে জড়িত—এসব বিষয়ে এখনও কিছু প্রকাশ করা হয়নি।
তবে এই মুহূর্তে অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। হোয়াইট হাউসও গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বিস্তারিত মন্তব্য করেনি। ফলে বিষয়টি এখনও যাচাইয়ের পর্যায়েই রয়েছে।
সোলেইমানি হত্যার প্রতিশোধ?
ট্রাম্পকে হত্যার হুমকির প্রসঙ্গ অবশ্য নতুন নয়। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ইরাকের বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হন ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পসের কুদস বাহিনীর প্রধান কাসেম সোলেইমানি। ট্রাম্পের প্রথম প্রেসিডেন্ট মেয়াদে তাঁর নির্দেশেই ওই অভিযান চালানো হয়েছিল। এরপর থেকেই সোলেইমানির মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার বহুবার করেছে ইরান।
মার্কিন নিরাপত্তা সংস্থাগুলিও অতীতে একাধিকবার জানিয়েছে, ট্রাম্প এখনও ইরান-সমর্থিত প্রতিশোধপরায়ণ গোষ্ঠীগুলির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এর আগেও ট্রাম্প-সহ কয়েকজন মার্কিন বর্তমান ও প্রাক্তন কর্মকর্তাকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ইরান-ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত হয়েছে।
ফের উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য
এই অভিযোগ সামনে এসেছে এমন এক সময়ে, যখন আমেরিকা, ইরান এবং ইজরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা আবারও তীব্র হয়েছে। সাম্প্রতিক সংঘাতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পাল্টাপাল্টি ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠেছে। এই আবহে ট্রাম্পকে হত্যার সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রের অভিযোগ নতুন করে কূটনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইজরায়েলের সতর্কবার্তার পর ট্রাম্পের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। সাম্প্রতিক বিদেশ সফরেও তাঁর যাতায়াতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও মার্কিন প্রশাসন এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
গোয়েন্দা লড়াই আরও জটিল
এই ঘটনার মধ্যেই সামনে এসেছে আরেকটি দাবি। কয়েক দিন আগে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরানের শীর্ষ আলোচকদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য ইজরায়েলি হামলার আশঙ্কায় আমেরিকাই নাকি পরোক্ষভাবে তেহরানকে সতর্ক করেছিল। যদিও সেই দাবি প্রকাশ্যে অস্বীকার করেছে ইজরায়েল।
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক ও গোয়েন্দা লড়াই আরও জটিল হয়ে উঠছে। এখন নজর মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলির তদন্তে। যদি ইজরায়েলের দেওয়া তথ্যের সত্যতা প্রমাণিত হয়, তবে ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্ক আরও অবনতির দিকে যেতে পারে। তবে এই মুহূর্তে অভিযোগটি এখনও যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে এবং কোনও স্বাধীন সরকারি সংস্থা তা নিশ্চিত করেনি।