Table of Contents
হাইলাইটস
- মাঠের খেলার পাশাপাশি সমর্থক, ধারাভাষ্যকার ও নানা অদ্ভুত ঘটনাই ছিল বিশ্বকাপের বড় আকর্ষণ।
- জাপানি সমর্থকদের উচ্ছ্বাস, মেক্সিকোর ‘মার্লিন’ হাঁস ও ব্রাজিলীয় কুকুরের ভিডিও ভাইরাল হয়।
- ঘানার এক ‘জাদুকর’-এর হ্যারি কেনকে অভিশাপ দেওয়ার দাবি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
- দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবলারের বিস্মিত মুখভঙ্গি ও আর্জেন্টিনায় মেসির বিশাল মূর্তিও ছিল আলোচনায়।
বিশ্বকাপের সূচনালগ্নেই এক জাপানি সমর্থকের উচ্ছ্বসিত মন্তব্য—“টেক্সাস দারুণ, এখানে সবকিছুই বিশাল”—টেলিভিশনের ক্যামেরায় ধরা পড়ে। সেই মুহূর্তেই যেন বোঝা গিয়েছিল, শুধু ফুটবল নয়, এই বিশ্বকাপ হতে চলেছে স্মরণীয় সব ভাইরাল মুহূর্তেরও আসর।টুর্নামেন্টের শুরুতে জাপানের সমর্থকেরাই যেন ‘মিমের সেরা খেলোয়াড়’ হয়ে উঠেছিলেন। হাজার হাজার সমর্থক নানা রকম পোশাকে—কেউ মারিও, কেউ সোমব্রেরো টুপি পরে—গ্যালারিতে উৎসবের আবহ তৈরি করেন। নেদারল্যান্ডসের সমর্থকদের সঙ্গে নাচ, গান, উল্লাসে তারা সোশ্যাল মিডিয়া দখল করে নেন। যদিও পরে জাপানের বিদায়ে সেই আনন্দের জায়গা নেয় হতাশা।৪৮টি দল, একাধিক আয়োজক দেশ ও রেকর্ডসংখ্যক ম্যাচের এই বিশ্বকাপ শুরু থেকেই ছিল ভাইরাল ঘটনার জন্য আদর্শ মঞ্চ। ঘানার এক স্বঘোষিত জাদুকর, এরলিং হলান্ডকে ঘিরে ইন্টারনেটের উন্মাদনা, ভিক্টোরিয়া বেকহ্যামের মুখভঙ্গি—সবই হয়ে ওঠে আলোচনার বিষয়।
জাপানি সমর্থকদের উচ্ছ্বাস
এক স্থানীয় প্রতিবেদক জাপানের জার্সি পরা দুই সমর্থককে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “আপনারা কোথা থেকে এসেছেন?” প্রশ্নটি শুনে অনেকেই হেসে ফেলেন। উত্তরে তারা টেক্সাসের প্রশংসা করে বলেন, “এখানে সবকিছুই বড়।” সেই ভিডিও মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি পিকাচু পুতুল হাতে থাকা জাপানি সমর্থককে নেদারল্যান্ডসের সমর্থকেরা আনন্দে আকাশে ছুড়ে দিচ্ছেন। জাপানের সমর্থকদের বিচিত্র পোশাকও ছিল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।
ধারাভাষ্যকারের অপ্রস্তুত মুহূর্ত
যুক্তরাষ্ট্র–প্যারাগুয়ে ম্যাচের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর ফক্স স্পোর্টসের বিশ্লেষক অ্যালেক্সি লালাস উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, “বেসের কম্পনে আমার শরীর এখনও কাঁপছে।”পাশে বসা কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরি তাঁর মুখের অভিব্যক্তি লুকোতে পারেননি। সেই দৃশ্যও দ্রুত ভাইরাল হয়।
‘আবার ধূসর কার্ড?’
একটি কুকুরকে নিয়ে তৈরি ভিডিও বিশ্বজুড়ে হাসির খোরাক জোগায়। ব্রাজিলের সমর্থকদের মধ্যে থাকা সেই কুকুরটি রেফারির কার্ড দেখে এমন বিভ্রান্ত মুখ করে যেন বলছে, “আবার ধূসর কার্ড?”আসলে বিশ্বকাপে সেবামূলক প্রাণী ছাড়া অন্য প্রাণীর প্রবেশ নিষিদ্ধ। তবু ভিডিওটির জনপ্রিয়তা কমেনি।
মেক্সিকোর ‘মার্লিন’ হাঁস
বিশ্বকাপের অন্যতম জনপ্রিয় চরিত্র হয়ে ওঠে ‘মার্লিন’ নামের একটি হাঁস। ছোট্ট মেক্সিকো জার্সি পরে তার আত্মবিশ্বাসী হাঁটা কোটি মানুষের মন জয় করে।মার্লিন পরে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউমের সঙ্গেও দেখা করে। এমনকি তাকে নিয়ে জাতীয় লটারির স্মারক টিকিটও প্রকাশ করা হয়। তবে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে মাঠে ঢোকার অনুমতি না পাওয়ায় প্রিয় দলের খেলা আর কাছ থেকে দেখা হয়নি তার।
হ্যারি কেনকে ‘অভিশাপ’
ঘানার স্বঘোষিত ‘সবচেয়ে শক্তিশালী আধ্যাত্মিক ব্যক্তি’ নানা কওয়াকু বোনসাম দাবি করেন, তিনি ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেনের ওপর অহিংস অভিশাপ দিয়েছেন। ঘানার সঙ্গে গোলশূন্য ড্রয়ের পর এই দাবি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তুমুল আলোচনা শুরু হয়।পরে তিনি দাবি করেন, সেই অভিশাপ তুলে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাতেও ইংল্যান্ড শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায় এড়াতে পারেনি।
ইংল্যান্ড নিয়ে মজার মন্তব্য
ঘানার বিপক্ষে ম্যাচে মার্কিন ধারাভাষ্যকার জন স্ট্রং বলেন, “ইংল্যান্ড ঐতিহাসিকভাবেই সংগ্রাম করে এসেছে।”মন্তব্যটি শুনে অনেকেই আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস টেনে হাস্যরস করেন।
এক মুখভঙ্গির গল্প
দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার থেম্বা জোয়ানে প্রথম ম্যাচেই লাল কার্ড দেখেন। কার্ড দেখার পর তাঁর বিস্মিত মুখভঙ্গি মুহূর্তে ‘মিম’-এ পরিণত হয়।তিনি তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেলেও সেই অভিব্যক্তি বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকে।
অপ্রত্যাশিত রোমাঞ্চ
বিশ্বকাপে এমন কিছু ম্যাচও দর্শকদের চমকে দিয়েছে, যেগুলো আগে তেমন গুরুত্ব পায়নি। মরক্কো ও হাইতির ৪-২ গোলের ম্যাচ ছিল তার মধ্যে অন্যতম।এক দর্শক সামাজিক মাধ্যমে লিখেছিলেন, “হাইতির দ্বিতীয় গোলটা এত সুন্দর ছিল যে আমি কিছুক্ষণ ভুলেই গিয়েছিলাম আমি মরক্কোর সমর্থক।”
মেসির বিশাল মূর্তি
বিশ্বকাপ চলাকালেই আর্জেন্টিনার প্যাটাগোনিয়ায় উন্মোচন করা হয় প্রায় ৮৫ ফুট উঁচু লিওনেল মেসির একটি মূর্তি।মর্তিটির বিশাল আকার ও অদ্ভুত নকশা নিয়ে যেমন প্রশংসা হয়েছে, তেমনই অসংখ্য রসিকতা ও মিমও তৈরি হয়েছে।মাঠের ফলাফল যেমন ইতিহাসে জায়গা করে নেয়, তেমনি বিশ্বকাপের এই অদ্ভুত, হাস্যরসাত্মক এবং আবেগঘন ঘটনাগুলিও প্রমাণ করে—ফুটবল শুধু ৯০ মিনিটের খেলা নয়; এটি সমর্থকদের অনুভূতি, সংস্কৃতি এবং ইন্টারনেট-যুগের অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্তেরও নাম।