হাইলাইটস:

  • মেক্সিকোর বিরুদ্ধে নাটকীয় জয়ের পর আত্মবিশ্বাসে টগবগ করছে ইংল্যান্ড।
  • বুকায়ো সাকা ও নিকো ও’রাইলি বললেন, এ বিশ্বকাপে সবচেয়ে ভালো দল ইংল্যান্ডই।
  • নরওয়ের বিপক্ষে নামার আগে হালান্ডকে থামানোই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
  • অ্যাকিলিসের চোট কাটিয়ে সাকা জানালেন, এখন তিনি পুরোপুরি প্রস্তুত।
  • মিয়ামির তীব্র গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার জন্যও তৈরি থমাস টুখেলের দল।

বাংলাস্ফিয়ার: মেক্সিকো সিটির স্মরণীয় জয়ের উচ্ছ্বাস এখনও কাটেনি ইংল্যান্ড শিবিরে। সেই জয় দলের আত্মবিশ্বাসকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। তাই শনিবার মিয়ামিতে নরওয়ের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালে নামার আগে ইংল্যান্ডের ফুটবলারদের কণ্ঠে আত্মবিশ্বাসই সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছে।

আর্জেন্টিনার সাংবাদিকরা যখন বুকায়ো সাকা ও নিকো ও’রাইলিকে জিজ্ঞাসা করেন, এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে ভালো দল কোনটি, দু’জনেই একবাক্যে উত্তর দেন, “ইংল্যান্ড।” পরে মতের ব্যাখ্যা চাইলে দু’জনেরই একই জবাব, “এটা আমার ব্যক্তিগত মত।”

যদিও ডিফেন্ডার জ্যারেল কোয়ানসার দুই ম্যাচের নির্বাসনের কারণে ডান দিকের রক্ষণ নিয়ে কোচ থমাস টুখেলের দুশ্চিন্তা বেড়েছে, তবুও দলের আত্মবিশ্বাসে কোনও ঘাটতি নেই। সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ অবশ্য নরওয়ের গোলমেশিন এরলিং হালান্ডকে আটকে রাখা।

সাকা বলেন, “অবশ্যই। মেক্সিকোর বিরুদ্ধে জয়ের পর আমাদের দলীয় মনোবল আরও বেড়ে গেছে। যারা শুরু থেকে খেলেনি, তারাও নেমে অবদান রেখেছে। যারা খেলেছে, তারাও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে নিজেদের কাজ করেছে। প্রত্যেকে দলের জন্য কিছু না কিছু করেছে। পুরো শিবিরের জন্য রাতটা ছিল অসাধারণ। সেই মানসিকতাই আমরা নরওয়ের বিরুদ্ধে নিয়ে যেতে চাই।”

মেক্সিকোর বিরুদ্ধে সাকা ৫৭ মিনিট খেলেছিলেন। কোয়ানসা লাল কার্ড দেখার পর রক্ষণ মজবুত করতে তাঁকে তুলে নেওয়া হয়। অ্যাকিলিসের চোট নিয়েই তিনি বিশ্বকাপে এসেছিলেন এবং গ্রুপ পর্বে নিজের ফিটনেস নিয়ে ঝুঁকি নিতে হয়েছিল বলেও স্বীকার করেন। তবু ইতিমধ্যেই তিনটি গোলে সহায়তা করেছেন তিনি, যার মধ্যে রয়েছে জুড বেলিংহামের গুরুত্বপূর্ণ গোল।

সাকা বলেন, “প্রতিটি ম্যাচের সঙ্গে আমার খেলার সময় বেড়েছে। আমি ধীরে ধীরে নিজের সেরা অবস্থায় ফিরছি। অবশ্যই শতভাগ ফিট হয়ে বিশ্বকাপে আসতে পারলে ভালো লাগত। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি। দলের সবাই বিষয়টা বুঝেছে এবং আমাকে খুব ভালোভাবে সামলেছে। এখন আমি দারুণ অনুভব করছি এবং খেলতে পুরোপুরি প্রস্তুত।”

শনিবার সাকার সামনে আরেকটি পরিচিত মুখও থাকবে। আর্সেনালে তাঁর অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড এবার নরওয়ের জার্সিতে প্রতিপক্ষ। সাকা জানান, ওডেগার্ডের সঙ্গে তাঁর সংক্ষিপ্ত কথা হয়েছে। তবে তিনি মনে করেন, শুধু ওডেগার্ড নন, গোটা নরওয়ে দলই বড় হুমকি।

তিনি বলেন, “ও খুব ভালো খেলছে। শুধু ও নয়, ওদের পুরো দলই দারুণ ছন্দে রয়েছে। আমরা কোনও একজনকে নয়, পুরো দলকে মাথায় রেখে পরিকল্পনা করছি। তবে নিজেদের শক্তির ওপরও আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। লক্ষ্য একটাই—জয়।”

মিয়ামিতে ম্যাচের দিন তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে। সঙ্গে থাকবে তীব্র আর্দ্রতা এবং বজ্রঝড়ের আশঙ্কা। তবে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের আগে ফ্লোরিডায় দীর্ঘ প্রস্তুতি শিবির করে এই আবহাওয়ার সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিয়েছে।

নিকো ও’রাইলি বলেন, “খুব গরম থাকবে। এতদিন তুলনামূলক ঠান্ডা আবহাওয়ায় খেলেছি। তবে আমরা প্রস্তুত। বিশ্বকাপের আগে এখানেই অনুশীলন করেছি। তাই আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে সমস্যা হবে না।”

হালান্ডকে নিয়ে ও’রাইলির মন্তব্যও আত্মবিশ্বাসী। তিনি বলেন, “এরলিং তো এরলিংই। সবাই জানে ও কতটা ভয়ঙ্কর। বক্সের মধ্যে ও সবসময় বিপজ্জনক। কিন্তু ওকে আগে বল তো পৌঁছাতে হবে।”

এদিকে লিওনেল মেসির মতো ছয়টি বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই হেসে উড়িয়ে দেন সাকা। তাঁর নজর এখন শুধুই টুখেলের অধীনে ইংল্যান্ডের ধারাবাহিক উন্নতিতে।

সাকা বলেন, “টুখেল আমাদের জন্য অসাধারণ কাজ করছেন। বাছাইপর্ব থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত আমাদের উন্নতি সবাই দেখছে। ফলাফলই তার প্রমাণ। এই বিশ্বকাপে আমরা এখনও অপরাজিত। প্রতিটি ম্যাচে আরও ভালো খেলছি। শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়াই, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।”