হাইলাইটস
- হোয়াটসঅ্যাপের পর টেলিগ্রাম ও সিগন্যালকেও নোটিস পাঠাচ্ছে কেন্দ্র।
- ‘ইউজারনেম’-ভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে আপত্তি তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের।
- সব মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য বলে জানিয়েছে সরকার।
- হোয়াটসঅ্যাপকে তিন দিনের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলা হলেও সংস্থা অতিরিক্ত সময় চেয়েছে।
- সরকারের দাবি, নতুন ফিচার চালুর আগে নিরাপত্তা ও আইনগত দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ।
হোয়াটসঅ্যাপের পরে এবার টেলিগ্রাম ও সিগন্যালের দিকেও নজর বাড়াল কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (মেইটিওয়াই) শুক্রবার এই দুই বার্তা আদান-প্রদানের প্ল্যাটফর্মকে নোটিস পাঠাতে চলেছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে। মূল আপত্তি ‘ইউজারনেম’-ভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ঘিরে। সরকারের বক্তব্য, কোনও পরিষেবা এমন নতুন সুবিধা চালু করলে তা দেশের প্রচলিত তথ্যপ্রযুক্তি বিধি ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
সরকারি এক আধিকারিক জানিয়েছেন, নিয়ম কোনও একটি সংস্থার জন্য আলাদা নয়। হোয়াটসঅ্যাপকে যেমন নোটিস পাঠানো হয়েছে, একই ধরনের নোটিস টেলিগ্রাম ও সিগন্যালকেও পাঠানো হবে। সরকারের বক্তব্য স্পষ্ট—ভারতে পরিষেবা দেওয়া সব বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যমের ক্ষেত্রেই একই আইন ও একই নীতি কার্যকর হবে। কোনও সংস্থার জন্য আলাদা ছাড়ের প্রশ্ন নেই।
বৃহস্পতিবারই হোয়াটসঅ্যাপের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছে মেইটিওয়াই। সকাল সাড়ে এগারোটা নাগাদ হওয়া ওই বৈঠকে মন্ত্রকের আধিকারিকেরা ‘ইউজারনেম’ ফিচার নিয়ে তাঁদের উদ্বেগের কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। সূত্রের খবর, হোয়াটসঅ্যাপের প্রতিনিধিরা সরকারের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার জন্য কিছু অতিরিক্ত সময় চেয়েছেন। সামনে সপ্তাহান্ত থাকায় প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ ও বিস্তারিত উত্তর প্রস্তুত করতে সময় লাগবে বলেই সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সরকারি সূত্রের দাবি, হোয়াটসঅ্যাপ আনুষ্ঠানিকভাবে সময় বৃদ্ধির আবেদন জানালে তা বিবেচনা করা হবে। তবে মন্ত্রক স্পষ্ট করে দিয়েছে, নতুন ফিচার চালু করার আগে তার প্রভাব, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আইনগত দায়িত্ব সম্পর্কে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিতে হবে। এ বিষয়ে সরকারের উদ্বেগের কোনও পরিবর্তন হয়নি।
এর আগে মেইটিওয়াই হোয়াটসঅ্যাপকে নির্দেশ দিয়েছিল, ‘ইউজারনেম’ ফিচারের সম্প্রসারণ আপাতত স্থগিত রাখতে এবং তিন দিনের মধ্যে বিস্তারিত ব্যাখ্যা জমা দিতে। সরকারের আশঙ্কা, এই ধরনের ব্যবস্থা চালু হলে ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাই, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তদন্ত কিংবা অপব্যবহার রোধের ক্ষেত্রে নতুন ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে। যদিও সরকার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দিষ্ট আপত্তির সব দিক প্রকাশ করেনি, তবুও বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ে পর্যালোচনা চলছে।
এবার সেই একই প্রশ্নের মুখে পড়তে চলেছে টেলিগ্রাম ও সিগন্যাল। এই দুই প্ল্যাটফর্মেও ব্যবহারকারীরা মোবাইল নম্বর প্রকাশ না করেই ‘ইউজারনেম’-এর মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারেন। সরকারের মতে, যদি কোনও প্ল্যাটফর্মে এমন ব্যবস্থা থাকে, তবে সেটি দেশের তথ্যপ্রযুক্তি আইন, নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধি এবং প্রয়োজনে তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতার কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
ডিজিটাল পরিষেবার দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও জাতীয় নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা এখন সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। একদিকে ব্যবহারকারীরা নিরাপদ ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের সুযোগ চান, অন্যদিকে সাইবার অপরাধ, প্রতারণা, ভুয়ো পরিচয় এবং বেআইনি কর্মকাণ্ড রোধে সরকারেরও দায়িত্ব রয়েছে। সেই কারণেই নতুন প্রযুক্তিগত সুবিধা চালুর ক্ষেত্রে সরকার আরও সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের বক্তব্য।
আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই টেলিগ্রাম ও সিগন্যালের কাছে নোটিস পৌঁছে যাবে বলে জানা গিয়েছে। এরপর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির ব্যাখ্যা খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবে মেইটিওয়াই। প্রযুক্তি সংস্থাগুলির সঙ্গে সরকারের এই আলোচনার ফলই নির্ধারণ করবে, ভারতে ‘ইউজারনেম’-ভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ কী হবে এবং নতুন নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরির প্রয়োজন পড়বে কি না।