Home SportsFIFA 2026 ট্রাম্পকে ফিফার ‘শান্তি পুরস্কার’ ঘিরে বিতর্ক, প্রশ্নের মুখে ইনফান্তিনোর ভূমিকা

ট্রাম্পকে ফিফার ‘শান্তি পুরস্কার’ ঘিরে বিতর্ক, প্রশ্নের মুখে ইনফান্তিনোর ভূমিকা

Authored By নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়
23 views 4 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস

  • ২০২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-কে ‘পিস প্রাইজ’ দেয় ফিফা।
  • পুরস্কার প্রদানের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে ফিফার কাউন্সিলের অধিকাংশ সদস্যই আগে কিছু জানতেন না।
  • অভিযোগ, ফিফা সভাপতি Gianni Infantino অত্যন্ত গোপনে এবং সীমিত কয়েকজন কর্মকর্তাকে নিয়ে পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনা করেন।
  • ব্রিটিশ সংস্থা FairSquare এবং Norwegian Football Federation ফিফার নৈতিকতা কমিটির কাছে অভিযোগ জানিয়েছে।
  • সমালোচকদের দাবি, ফিফার রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নীতি লঙ্ঘিত হয়েছে।

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা FIFA-র সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ২০২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যে ‘শান্তি পুরস্কার’ প্রদান করেছিলেন, তা নিয়ে সাত মাস পরও বিতর্ক থামেনি। বরং নতুন করে প্রশ্ন উঠছে—এই পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হয়েছিল এবং এর পেছনে আসল উদ্দেশ্য কী ছিল।

ফরাসি সংবাদপত্র Le Monde-এর অনুসন্ধান অনুযায়ী, ফিফার ভেতরে অত্যন্ত সীমিত পরিসরে পুরো পরিকল্পনাটি করা হয়েছিল। ১০ জনেরও কম কর্মী এই উদ্যোগ সম্পর্কে জানতেন। এমনকি ফিফার নির্বাচিত কাউন্সিল সদস্যদেরও আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফিফা কাউন্সিলের এক সদস্য বলেন, “আমরা পুরস্কারের খবর গণমাধ্যম থেকেই জেনেছি। কে বিজয়ী নির্বাচন করল, কী প্রক্রিয়ায় নির্বাচন হল—কেউ কিছু জানে না।”

ওই সদস্যের অভিযোগ, “ইনফান্তিনো ফিফার অর্থ ব্যবহার করে এককভাবে সিদ্ধান্ত নেন। কাউন্সিলকে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ব্যস্ত রাখা হয়, আর গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত তিনি নিজেই নেন। ফিফা এখন কার্যত এক ব্যক্তির প্রতিষ্ঠান।”

এই ঘটনার পর ব্রিটিশ অলাভজনক সংস্থা ফেয়ারস্কয়ার ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর ফিফার নৈতিকতা কমিটির কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করে। তাদের দাবি, ট্রাম্পকে শান্তি পুরস্কার দেওয়া ফিফার সংবিধানে উল্লেখিত রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নীতির পরিপন্থী।

পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ২ জুন নরওয়ের ফুটবল ফেডারেশনও একই বিষয়ে নৈতিকতা কমিটির কাছে আবেদন জানায়। ফেডারেশনের সভাপতি Lise Klaveness জানতে চান, কী কারণে ট্রাম্পকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল, নির্বাচন প্রক্রিয়া কী ছিল এবং ভবিষ্যতে এমন পুরস্কার চালু রাখার পরিকল্পনা আছে কি না।

ফেয়ারস্কয়ারের পরিচালক Nicholas McGeehan বলেন, নরওয়ের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, অন্য জাতীয় ফুটবল সংস্থা বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরাও যদি একই দাবি তোলেন, তাহলে ফিফার ওপর চাপ বাড়বে।

তবে এখন পর্যন্ত ফিফার নৈতিকতা কমিটির পক্ষ থেকে কোনও প্রকাশ্য তদন্তের খবর পাওয়া যায়নি। Le Monde এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটি সরাসরি উত্তর না দিয়ে ফিফার যোগাযোগ বিভাগের দিকে বিষয়টি ঠেলে দেয়। সেখান থেকেও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

ফিফার নৈতিকতা কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি Hans-Joachim Eckert প্রশ্ন তুলেছেন, “যদি ট্রফির খরচ ফিফা বহন করে থাকে, তাহলে অর্থের অপব্যবহারের বিষয়ও উঠতে পারে। এই পুরস্কার নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত।”

তাঁর অভিযোগ, ২০১৭ সালে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার পর ফিফার নৈতিকতা কাঠামো আর আগের মতো স্বাধীন নেই। বর্তমানে সেখানে এমন ব্যক্তিদের বসানো হয়েছে, যারা ইনফান্তিনোর প্রতি কৃতজ্ঞ এবং তাঁর বিরুদ্ধে যেতে অনিচ্ছুক।

ফিফার সাবেক গভর্ন্যান্স কমিটির প্রধান Miguel Maduro-ও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, “প্রশ্নটা আর ইনফান্তিনো পরিবর্তন হবেন কি না, সেটা নয়। প্রশ্ন হলো সরকার ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো আদৌ তাঁর কর্মকাণ্ড নিয়ে আগ্রহ দেখাবে কি না।”

প্রসঙ্গত, ইনফান্তিনো অতীতেও বিতর্কের মুখে পড়েছেন। ২০১৬ সালে রাশিয়া ও কাতারের অর্থায়নে ব্যক্তিগত জেট ব্যবহারের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত হয়েছিল। পরে তাঁকে দায়মুক্তি দেওয়া হয়। ২০২০ সালে সুইস অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে গোপন বৈঠক নিয়েও তদন্ত হয়েছিল, সেখানেও তিনি অব্যাহতি পান।

সমালোচকদের মতে, এসব ঘটনা ফিফার অভ্যন্তরীণ জবাবদিহি ব্যবস্থার দুর্বলতা তুলে ধরে। ট্রাম্পকে দেওয়া ‘শান্তি পুরস্কার’ সেই বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে। এখন নজর থাকবে ফিফার নৈতিকতা কমিটি আদৌ কোনও তদন্ত শুরু করে কি না এবং বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থাটি এ বিষয়ে কতটা স্বচ্ছতা দেখায়।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles