Home SportsFIFA 2026 ইংল্যান্ডকে হারানো সম্ভব’ — বিশ্বকাপের আগে কঙ্গোর অটল বিশ্বাস, ধারাভাষ্যই করতে রাজি হননি গ্যাব্রিয়েল জাকুয়ানি

ইংল্যান্ডকে হারানো সম্ভব’ — বিশ্বকাপের আগে কঙ্গোর অটল বিশ্বাস, ধারাভাষ্যই করতে রাজি হননি গ্যাব্রিয়েল জাকুয়ানি

Authored By নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়
45 views 4 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস:

  • ইংল্যান্ড–ডিআর কঙ্গো ম্যাচে ধারাভাষ্য দেওয়ার প্রস্তাব পাঁচ সেকেন্ডেই ফিরিয়ে দেন গ্যাব্রিয়েল জাকুয়ানি।
  • কঙ্গোর দলে প্রবাসী ফুটবলারদের যুক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর।
  • জাকুয়ানির দাবি, ইংল্যান্ডের খেলায় দুর্বলতা রয়েছে, সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে অঘটন ঘটানো সম্ভব।
  • অ্যারন ওয়ান-বিসাকা, নোয়া সাদিকি, ইয়োয়ান উইসাদের মতো তারকারা কঙ্গোর বড় ভরসা।

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর সবচেয়ে আবেগঘন লড়াইগুলোর একটি হতে চলেছে ইংল্যান্ড বনাম গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (ডিআর কঙ্গো)। আর সেই ম্যাচকে ঘিরে নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে ধারাভাষ্য দেওয়ার প্রস্তাবই ফিরিয়ে দিলেন দেশটির প্রাক্তন অধিনায়ক গ্যাব্রিয়েল জাকুয়ানি।

প্রাক্তন পিটারবরো ইউনাইটেড ও লেটন ওরিয়েন্ট ডিফেন্ডার জাকুয়ানি পুরো টুর্নামেন্টে বিবিসি রেডিও ফাইভ লাইভে নিয়মিত বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করেছেন। কিন্তু ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দেশের সবচেয়ে বড় ম্যাচে তিনি মাইক্রোফোন হাতে নিতে চাননি।তিনি বলেন, “আমাকে ইংল্যান্ডের ম্যাচে ধারাভাষ্য দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমি সঙ্গে সঙ্গেই না বলে দিই। এত আবেগ নিয়ে ওই ম্যাচে নিরপেক্ষ থাকা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।”এর আগে কলম্বিয়া–ডিআর কঙ্গো ম্যাচে কাজ করার সময়ও নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কষ্ট হচ্ছিল বলে জানান তিনি। সেই কারণেই এরপর আর কোনও কঙ্গোর ম্যাচে ধারাভাষ্য না করার সিদ্ধান্ত নেন।বরং টটেনহ্যামের ওয়েস্ট গ্রিন রোডে কঙ্গো প্রবাসী সমর্থকদের সঙ্গে বসেই ম্যাচ দেখবেন তিনি।

জাকুয়ানির অবদান শুধু মাঠের বাইরে নয়। কঙ্গো ফুটবল ফেডারেশনের পরামর্শক হিসেবে ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কঙ্গো বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের জাতীয় দলে আনতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বেলজিয়াম ও স্পেনে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি শিবিরেও তিনি দলের সঙ্গে ছিলেন।পর্তুগালের বিপক্ষে ১-১ ড্র করে বিশ্বকাপ শুরু করেছিল ডিআর কঙ্গো। ১৯৭৪ সালে জায়ার নামে অংশ নেওয়ার পর এটাই ছিল বিশ্বকাপে তাদের প্রথম ম্যাচ। এরপর উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় পাওয়ায় দলের আত্মবিশ্বাস আরও বেড়েছে।জাকুয়ানির বিশ্বাস, গ্রুপ পর্বে ঘানার বিরুদ্ধে ইংল্যান্ড যে সমস্যায় পড়েছিল, সেই পথেই হাঁটতে পারে কঙ্গো।

তিনি বলেন, “ইংল্যান্ডের খেলায় দুর্বলতা আছে, সেটা স্পষ্ট। প্রতিপক্ষ যদি রক্ষণ শক্ত করে বসে থাকে, ইংল্যান্ড আক্রমণ ভাঙতে সমস্যায় পড়ে। আমাদের সেটাই কাজে লাগাতে হবে।”তাঁর আরও বক্তব্য, “জুড বেলিংহ্যামকে আটকে দিতে পারলে ইংল্যান্ডের বড় শক্তিটাকেই থামিয়ে দেওয়া যাবে। আমরা শারীরিকভাবে শক্তিশালী, রক্ষণেও সংগঠিত। আর আক্রমণে আমার মনে হয় ঘানার থেকেও বেশি ধার রয়েছে আমাদের।”তিনি যোগ করেন, “যতক্ষণ সম্ভব ম্যাচ সমতায় রাখতে হবে। সুযোগ আসবেই। তখন সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলেই ইংল্যান্ডকে হারানো সম্ভব।”

ডিআর কঙ্গো দলে বেশ কয়েকজন পরিচিত মুখ রয়েছেন। নিউক্যাসলের ইয়োয়ান উইসা, সান্ডারল্যান্ডের নোয়া সাদিকি এবং অ্যারন ওয়ান-বিসাকা প্রথম একাদশে থাকার সম্ভাবনা প্রবল। অন্যদিকে অ্যাক্সেল তুয়ানজেবে একসময় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের যুব দলে মার্কাস র‍্যাশফোর্ডের সঙ্গে খেলেছেন। এই বিশ্বকাপে তাঁর পারফরম্যান্সও প্রশংসিত হয়েছে।বর্তমান দলে মাত্র ছয়জন ফুটবলারের জন্ম কঙ্গোতে। বাকিদের বড় অংশই ইউরোপে বেড়ে ওঠা। তাঁদের অনেককেই কঙ্গোর হয়ে খেলতে রাজি করানোর নেপথ্যে ছিলেন জাকুয়ানি।নোয়া সাদিকিকে নিয়ে তিনি বলেন, “অনূর্ধ্ব-২০ দলে ওকে দেখেই আমি সিনিয়র দলের কোচকে বলেছিলাম, এই ছেলেটার জায়গা জুনিয়র দলে নয়, সিনিয়র দলে।”

সাদিকির সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করার পরই তিনি বুঝেছিলেন, কঙ্গোর হয়ে খেলার প্রবল ইচ্ছা রয়েছে তাঁর।“ও মনে করত, কিশোর বয়সেই বেলজিয়ামের সিনিয়র দলে থাকার যোগ্যতা ওর ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কঙ্গোর টানই জিতে যায়,” বলেন জাকুয়ানি।

একই প্রবণতা এখন আফ্রিকার আরও দেশেও দেখা যাচ্ছে। মরক্কোর আইয়ুব বুয়াদ্দি কিংবা সেনেগালের ইব্রাহিম এমবায়ের মতো তরুণ ফুটবলাররাও ফ্রান্সের পরিবর্তে নিজেদের পূর্বপুরুষের দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।অ্যারন ওয়ান-বিসাকাকে রাজি করাতে অবশ্য বেশ বেগ পেতে হয়েছিল। জাকুয়ানি ও কোচ সেবাস্তিয়ান দেজাব্রে একসময় তাঁর বাবা-মায়ের বাড়িতেও গিয়েছিলেন। এমনকি কাছের একটি কফিশপে বসেই তাঁরা পুরো পরিকল্পনা করেছিলেন।জাকুয়ানির কথায়, “ওয়ান-বিসাকা অসাধারণ বিশ্বকাপ খেলছে। আমার মনে হয়, ইংল্যান্ডের দলে আরও আগেই ওর সুযোগ পাওয়া উচিত ছিল। বিশেষ করে ওয়েস্ট হ্যামের বর্ষসেরা ফুটবলার হওয়ার পরও ডাক না পাওয়ায় ও বুঝে গিয়েছিল, আর অপেক্ষা করে লাভ নেই। আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলতেই হবে।”

বিশ্বকাপে ওঠার পথটাও ছিল অত্যন্ত কঠিন। বাছাইপর্বে সেনেগালের পিছনে থেকে শেষ করলেও পরে প্লে-অফে ক্যামেরুন ও নাইজেরিয়ার মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে এবং আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফে জ্যামাইকাকে পরাস্ত করেই বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে ডিআর কঙ্গো।জাকুয়ানির বিশ্বাস, সেই কঠিন পথচলাই দলকে আরও মানসিকভাবে শক্ত করেছে।

তিনি বলেন, **“চাপের মধ্যে বারবার খেলতে খেলতেই এই দল তৈরি হয়েছে। ড্রেসিংরুমে সবাই বিশ্বাস করে, আমরা ফল এনে দিতে পারব। আমি সত্যিই মনে করি, এখানে বড় অঘটন ঘটতে পারে। শুধু কঙ্গোর মানুষ বলেই এটা বলছি না। আমার বিশ্বাস, ম্যাচটা সবাই যতটা সহজ ভাবছে, তার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন হবে ইংল্যান্ডের জন্য।”

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles