খবর

চামোলির জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিপর্যয়: সুড়ঙ্গে আটকে দুই শ্রমিক, মৃত আট

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাস্ফিয়ার: উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায় বিষ্ণুগাড়-পিপলকোটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর এখনও চলছে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজ।
  • ধস এবং ভূমি অবনমনের জেরে প্রকল্পের সুড়ঙ্গের একটি বড় অংশ জল ও ধ্বংসস্তূপে ভরে গিয়েছে।
  • সরকারি হিসাবে এখনও পর্যন্ত আটজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাস্ফিয়ার: উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায় বিষ্ণুগাড়-পিপলকোটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর এখনও চলছে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজ। ধস এবং ভূমি অবনমনের জেরে প্রকল্পের সুড়ঙ্গের একটি বড় অংশ জল ও ধ্বংসস্তূপে ভরে গিয়েছে। সরকারি হিসাবে এখনও পর্যন্ত আটজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে থাকা আরও দুই শ্রমিকের খোঁজ চলছে।

দুর্ঘটনাটি ঘটেছে চামোলির মায়াপুর এলাকায় টেহরি হাইড্রো ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের বিষ্ণুগাড়-পিপলকোটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে। ধস নামার পর বিপুল পরিমাণ মাটি, পাথর ও জল সুড়ঙ্গের মধ্যে ঢুকে পড়ে। তার ফলে সুড়ঙ্গের প্রায় অর্ধেক অংশ অবরুদ্ধ হয়ে যায়। ভিতরে প্রবেশ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় উদ্ধারকারীদের কাজও বারবার বাধার মুখে পড়ছে।

স্থানীয় প্রশাসন, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং প্রকল্প কর্তৃপক্ষের কর্মীরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন। সুড়ঙ্গের মধ্যে জমে থাকা জল বার করে ধ্বংসস্তূপ সরানোর চেষ্টা চলছে। তবে নতুন করে ধস নামার আশঙ্কা এবং সুড়ঙ্গের ভিতরে অক্সিজেনের ঘাটতি উদ্ধারকারীদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ দুই শ্রমিককে জীবিত উদ্ধারের আশা এখনও ছাড়েননি তাঁদের সহকর্মী ও পরিবারের সদস্যেরা।

চামোলির এই দুর্ঘটনা উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ি অঞ্চলে বৃহৎ নির্মাণ ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। হিমালয়ের এই অংশ ভূমিকম্প, ভূমিধস, আকস্মিক বন্যা এবং ভূমি অবনমনের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। তার মধ্যেই পাহাড় কেটে সুড়ঙ্গ নির্মাণ, বিস্ফোরণ এবং ভারী যন্ত্রপাতির ব্যবহার ভূস্তরের স্থিতিশীলতার উপর কতটা প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে পরিবেশবিদ ও ভূতত্ত্ববিদেরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন।

দুর্ঘটনার পরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে, প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল কি না। সুড়ঙ্গের ভিতরে বিকল্প নির্গমনপথ, জরুরি সতর্কবার্তা ব্যবস্থা, জল ও ধস আটকানোর পরিকাঠামো এবং বিপদের সময় দ্রুত যোগাযোগের বন্দোবস্ত ঠিকমতো কাজ করেছিল কি না, তার নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। উদ্ধারকাজে বিলম্বের কারণও খতিয়ে দেখা দরকার।

উত্তরাখণ্ডে গত কয়েক বছরে একাধিক প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং নির্মাণকাজজনিত দুর্ঘটনা ঘটেছে। চামোলির এই ঘটনা তাই কোনও বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। জলবিদ্যুৎ উৎপাদন দেশের শক্তির প্রয়োজন মেটানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলেও তার জন্য শ্রমিকদের জীবন কিংবা ভঙ্গুর পাহাড়ি পরিবেশকে বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া যায় না।

নিখোঁজ দুই শ্রমিককে উদ্ধারের কাজ এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। পাশাপাশি নিহতদের পরিবারকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ, আহতদের চিকিৎসা এবং দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণে স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। এই বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশের সমস্ত পাহাড়ি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নিরাপত্তাব্যবস্থা নতুন করে পরীক্ষা করাও জরুরি।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles