আমরা গেলে তোমরা আসবে’: মোদীর কথা তুলে কংগ্রেসকে আত্মবিশ্বাসী হওয়ার বার্তা রাহুলের

যা জানা জরুরি
- প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁকে বলেছিলেন, ‘আমরা গেলে তোমরা আসবে।’ মঙ্গলবার কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে এমনই দাবি করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।
- দলের নেতাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথোপকথনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেছেন, বিজেপির বিকল্প হিসেবে কংগ্রেসের সম্ভাবনায় দলের ভিতরেই সংশয় থাকা উচিত নয়।
- একই সঙ্গে সংসদ থেকে রাস্তায় প্রতিরোধ জোরদার করার ডাক দিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তুলেছেন তিনি।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁকে বলেছিলেন, ‘আমরা গেলে তোমরা আসবে।’ মঙ্গলবার কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে এমনই দাবি করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। দলের নেতাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথোপকথনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেছেন, বিজেপির বিকল্প হিসেবে কংগ্রেসের সম্ভাবনায় দলের ভিতরেই সংশয় থাকা উচিত নয়। একই সঙ্গে সংসদ থেকে রাস্তায় প্রতিরোধ জোরদার করার ডাক দিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তুলেছেন তিনি।
বৈঠক সম্পর্কে অবহিত সূত্র অনুযায়ী, মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে সাম্প্রতিক এক সাক্ষাতের কথা জানান রাহুল। তাঁর বক্তব্য, বিজেপির সঙ্গে তাঁর সমস্যা আছে কি না, জানতে চাওয়া হয়েছিল। জবাবে তিনি বলেন, নিজের দলের পক্ষে যা ভাল, সেটিই করছেন। তখন বিজেপি ক্ষমতা হারালে কংগ্রেসই সেই জায়গায় আসবে বলে মন্তব্য করেন মোদী ও শাহ—এমনটাই দাবি রাহুলের। এই কথোপকথনের বিবরণ রাহুলের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে।
ওয়ার্কিং কমিটির সহকর্মীদের উদ্দেশে রাহুলের প্রশ্ন ছিল, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীই যদি কংগ্রেসের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা মানেন, তবে দলের একাংশ কেন তাঁর ‘ভোট চুরি’ বিরোধী অভিযানে যথেষ্ট আস্থা দেখাচ্ছেন না? সূত্রের খবর, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে তখন জানান, গোটা নেতৃত্ব রাহুলের পাশে রয়েছে। রাহুলের বক্তব্যের প্রশংসা উঠলে তিনি অবশ্য এই অভিযানের কৃতিত্ব দলকেই দেন।
রাহুলের মতে, গত দু’বছরে নির্বাচনী অনিয়ম নিয়ে ধারাবাহিক প্রচার রাজনৈতিক আলোচনার পরিবেশ বদলেছে। হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র ও কর্নাটকের ভোট নিয়ে কংগ্রেস যখন প্রশ্ন তুলেছিল, তখন অনেকেই সন্দিহান ছিলেন। এখন সংবাদমাধ্যমে এবং সম্পাদকীয় স্তরেও বিষয়গুলি গুরুত্ব পাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য প্রকাশ্যে আসার পিছনেও দলের নিরবচ্ছিন্ন প্রচারের ভূমিকা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ ব্যাখ্যা করতে রাহুল দু’টি ক্ষেত্রের কথা বলেন—ইভিএম এবং ভোটার তালিকা। তাঁর অভিযোগ, দু’ভাবেই নির্বাচনী প্রতিযোগিতা প্রভাবিত করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এগুলি কংগ্রেস নেতার রাজনৈতিক অভিযোগ; প্রমাণিত সিদ্ধান্ত হিসেবে সেগুলি উপস্থাপন করা যায় না। দলকে তাঁর বার্তা, শুধু আপত্তি জানিয়ে থেমে গেলে চলবে না, সংগঠিত প্রতিরোধও গড়ে তুলতে হবে।
এই প্রসঙ্গে স্বাধীনতা আন্দোলনে কংগ্রেসের পূর্ণ স্বরাজের দাবির কথা স্মরণ করান রাহুল। তাঁর বক্তব্য, সরকার মানুষের কণ্ঠস্বর ও দাবি শুনতে অস্বীকার করলে গণতন্ত্রে বিশ্বাসী রাজনৈতিক শক্তির দায়িত্ব প্রতিরোধ করা। সংসদের ভিতরে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি রাস্তায় আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার উপর জোর দেন তিনি। কংগ্রেসের সংগ্রামকে বিরোধিতা এবং প্রতিরোধ—এই দুই ধারায় এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান লোকসভার বিরোধী দলনেতা।
প্রায় আড়াই ঘণ্টার বৈঠকে গৃহীত প্রস্তাবে জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর স্থগিত এবং বাদ পড়া ভোটারদের নাম ফেরানোর দাবি জানানো হয়। কংগ্রেসের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় ১৩ কোটি ৩০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ গিয়েছে। নির্বাচনী ব্যবস্থায় কথিত হস্তক্ষেপের রাজনৈতিক দায় তুলে মোদী ও শাহের পদত্যাগও চায় দল। বৈঠকের পরে জয়রাম রমেশ ও কে সি বেণুগোপাল জানান, এই প্রশ্নে আন্দোলন আরও তীব্র হবে। দলের বক্তব্য, ভোটারের অধিকার রক্ষা এবং নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠাই এই কর্মসূচির প্রধান রাজনৈতিক লক্ষ্য।
বিতর্কের পটভূমিতে রয়েছে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশীর লিখিত আপত্তি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন। সেখানে বলা হয়েছে, দশ মাসে অন্তত ১৪ বার তাঁরা বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। কমিশনের বক্তব্য, কোনও প্রতিষ্ঠানের আলোচনায় ভিন্নমত স্বাভাবিক; সমস্ত নির্দেশের আইনি ভিত্তি রয়েছে এবং বিধিবদ্ধ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। বিজেপিও বিরোধীদের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। বুধবারের ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে এই বিতর্ক ঘিরে যৌথ আন্দোলনের পরবর্তী পদক্ষেপ আলোচনার কথা।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



