ভোট চুরি’ নিয়ে সুর চড়াল কংগ্রেস, মোদী–শাহ–জ্ঞানেশের পদত্যাগ দাবি

যা জানা জরুরি
- ‘ভোট চুরি’র অভিযোগে কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আক্রমণ আরও তীব্র করল কংগ্রেস।
- মঙ্গলবার দলের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে গৃহীত প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে।
- বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকের ঠিক আগে এই অবস্থান জানিয়ে নির্বাচনী স্বচ্ছতার প্রশ্নে বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতির বার্তা দিল দল।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
‘ভোট চুরি’র অভিযোগে কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আক্রমণ আরও তীব্র করল কংগ্রেস। মঙ্গলবার দলের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে গৃহীত প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে। বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকের ঠিক আগে এই অবস্থান জানিয়ে নির্বাচনী স্বচ্ছতার প্রশ্নে বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতির বার্তা দিল দল।
কংগ্রেসের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্বার্থে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। দলের মতে, বিষয়টিকে কেবল কমিশনের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক মতপার্থক্য হিসেবে দেখলে চলবে না; এর সঙ্গে নাগরিকের ভোটাধিকার এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতার প্রশ্ন জড়িত। সেই কারণেই শুধু জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ নয়, রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়ও নির্ধারণ করতে হবে। দলীয় প্রস্তাবে সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে তিনজনের পদত্যাগ চাওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর অবিলম্বে স্থগিত রাখার দাবি উঠেছে। কংগ্রেসের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় তালিকা থেকে বাদ পড়া ১৩ কোটি ৩০ লক্ষ নাম ফিরিয়ে আনতে হবে। সংখ্যাটি দলের অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কংগ্রেসের বক্তব্য, নাগরিকের উপর নিজের ভোটদানের যোগ্যতা প্রমাণের দায় চাপিয়ে, যথেষ্ট স্বচ্ছতা ও সুরক্ষা ছাড়া তড়িঘড়ি তালিকা সংশোধন করলে বিপুলসংখ্যক মানুষ ভোটাধিকার হারানোর ঝুঁকিতে পড়েন। দলের মতে, এমন প্রক্রিয়ার সাংবিধানিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে।
এই আক্রমণের পটভূমিতে রয়েছে নির্বাচন কমিশনের অন্দরের মতবিরোধ নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ। ‘নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশী দশ মাসে চোদ্দোবার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। নতুন ভোটারদের নাম নথিভুক্তির ফর্ম ৬-এর পরিবর্তন, পশ্চিমবঙ্গে ভোটার অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আপিল এবং গোয়ায় ভোটার তথ্য ব্যবস্থাপনা ছিল আপত্তির বিষয়গুলির মধ্যে। কংগ্রেসের বক্তব্য, এই তথ্য নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে তাদের দীর্ঘদিনের উদ্বেগকে আরও জোরালো করেছে।
বৈঠকের উদ্বোধনী বক্তব্যে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ভোটার তালিকায় প্রতিটি বড় পরিবর্তনের সম্পূর্ণ তথ্য প্রকাশের দাবি জানান। রাজনৈতিক দলগুলিকে সহজে ব্যবহারযোগ্য আকারে, সময়মতো তালিকা ও সংশ্লিষ্ট তথ্য দিতে হবে বলেও তিনি দাবি করেন। এসআইআর নিয়ে কথিত অনিয়মের জন্য জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে অপসারণ চাওয়ার পাশাপাশি খাড়গে অভিযোগ করেন, কমিশনের প্রধানের উপর চাপ সৃষ্টির দায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীরও নৈতিক কারণে সরে দাঁড়ানো উচিত। তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নাগরিকদের যথাযথ তথ্য জানানো এবং আপিলের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবিও তুলেছেন তিনি।
প্রায় আড়াই ঘণ্টার আলোচনার পরে কংগ্রেস জানিয়েছে, সংসদে, আদালতে এবং রাস্তায় এই প্রশ্নে প্রতিবাদ চালানো হবে। প্রত্যেক নাগরিকের ভোট সুরক্ষিত করা এবং নির্বাচন কমিশনের স্বাধীন সাংবিধানিক অবস্থান পুনঃপ্রতিষ্ঠাই হবে আন্দোলনের লক্ষ্য। দলের প্রস্তাবে সর্বজনীন ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের সংগ্রামকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে সোনিয়া গান্ধী, খাড়গে, রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং কংগ্রেসশাসিত রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রী-সহ শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন।
তবে নির্বাচন কমিশন অভ্যন্তরীণ মতভেদকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ বলেই ব্যাখ্যা করেছে। দুই কমিশনারের উত্থাপিত কয়েকটি উদ্বেগের সমাধানেও সাম্প্রতিক বৈঠকে পদক্ষেপ করেছে কমিশন। অন্যদিকে বিজেপি বিরোধীদের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের পাল্টা অভিযোগ, দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। ফলে কংগ্রেসের ‘ভোট চুরি’র অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার অবকাশ নেই।
বুধবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে এই বিরোধের পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। দেশজুড়ে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে কি না, তা নিয়ে শরিকেরা সিদ্ধান্ত নেবেন। তার আগে ওয়ার্কিং কমিটির প্রস্তাব কংগ্রেসের অবস্থান স্পষ্ট করল: ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা, কমিশনের জবাবদিহি এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের রাজনৈতিক দায়—এই তিন প্রশ্ন একসঙ্গে সামনে রেখেই তারা চাপ বাড়াতে চায়।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



