দাদাগিরি চলবে না: থার–ফরচুনার মালিকদের শপথ করালেন দমনের কালেক্টর

যা জানা জরুরি
- বিশাল গাড়ি নিয়ে রাস্তায় দাপট দেখানো বন্ধ করতে এবার গাড়ির মালিকদের প্রকাশ্যে শপথ পাঠ করাল দমনের প্রশাসন।
- মাহিন্দ্রা থার ও টয়োটা ফরচুনারের মালিকদের নিয়ে আয়োজিত এই কর্মসূচির নাম ‘থার–ফরচুনার সংকল্প যাত্রা’।
- জেলা কালেক্টরের সামনে তাঁরা নিরাপদে গাড়ি চালানোর অঙ্গীকার করেন।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
বিশাল গাড়ি নিয়ে রাস্তায় দাপট দেখানো বন্ধ করতে এবার গাড়ির মালিকদের প্রকাশ্যে শপথ পাঠ করাল দমনের প্রশাসন। মাহিন্দ্রা থার ও টয়োটা ফরচুনারের মালিকদের নিয়ে আয়োজিত এই কর্মসূচির নাম ‘থার–ফরচুনার সংকল্প যাত্রা’। জেলা কালেক্টরের সামনে তাঁরা নিরাপদে গাড়ি চালানোর অঙ্গীকার করেন। প্রশাসনের সমাজমাধ্যমের বার্তাতেও মালিকদের এই সমাবেশ ও শপথের কথা জানানো হয়েছে।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কর্মসূচিতে দমনের কালেক্টর সৌরভ মিশ্র বলেন, থার মানে দায়িত্ব। গাড়ি দিয়ে দাদাগিরি চলবে না। পথে মহিলাদের নিরাপত্তাবোধ এবং দুর্ঘটনায় আহতদের হাসপাতালে পৌঁছনোর কাজে মালিকদের এগিয়ে আসতে বলেন তিনি। শপথে ছিল অতিরিক্ত গতি, বিপজ্জনক কসরত, প্রতিযোগিতা ও মত্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকার। অনুমোদনহীন পরিবর্তন এবং অকারণ হর্নও বর্জনের কথা বলা হয়।
ঘটনার রাজনৈতিক পটভূমিও রয়েছে। পত্রিকাটির কাছে স্থানীয় বিজেপি সূত্রের দাবি, প্রশাসক প্রফুল্ল পটেলের জন্মদিন উপলক্ষে ২৭ আগস্ট নেতা জিগনেশ পটেল শতাধিক কালো থার নিয়ে মিছিল করেছিলেন। গাড়িগুলির কাচ কালো করা ও সাইলেন্সার বদলানোর অভিযোগ ওঠে; যানজটও হয়। সমালোচনার পরে প্রফুল্ল অসন্তোষ জানান বলে সূত্রের দাবি। তিনি নিরাপদ চালনার উদ্যোগকে সমর্থন করেছেন। তবে ওই মিছিলের প্রত্যক্ষ প্রতিক্রিয়াতেই শপথের আয়োজন, এমন নিশ্চিত সিদ্ধান্ত প্রতিবেদনে নেই।
একই সঙ্গে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সতর্কতা: থার কিংবা অন্য কোনও বড় গাড়ির সঙ্গে বেপরোয়া চালনা বা দুর্ঘটনার যোগ প্রতিষ্ঠাকারী বড় ভারতীয় গবেষণা নেই। জাতীয় অপরাধ নথি সংস্থার দুর্ঘটনার পরিসংখ্যানেও এমন মডেলভিত্তিক হিসাব মেলে না। অর্থাৎ, জনধারণাকে পরিসংখ্যানগত প্রমাণ বলে ধরে নেওয়া চলে না।
দমনের প্রশাসন তাদের প্রচারবার্তায় মাহিন্দ্রা গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান আনন্দ মাহিন্দ্রাকেও যুক্ত করেছে। এতে গাড়ি প্রস্তুতকারকের নজরে মালিকদের এই নিরাপত্তার অঙ্গীকার আনার চেষ্টা স্পষ্ট। স্থানীয় সমাবেশকে সমাজমাধ্যমে তুলে ধরার ফলে কর্মসূচির বার্তা মাঠের উপস্থিত মানুষদের বাইরেও পৌঁছনোর সুযোগ পেয়েছে। মালিকদের সরাসরি অংশগ্রহণই এখানে প্রচারের প্রধান উপাদান। গাড়ি কেনার সামর্থ্যের সঙ্গে সড়কে অন্য মানুষের প্রতি দায়িত্বের প্রশ্নটিকেও সামনে নিয়ে এসেছে এই আয়োজন।
ইকনমিক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, থার নিয়ে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা এই বিতর্কের পটভূমি তৈরি করেছে। ভোপালে এক ব্যক্তি বান্ধবীর সঙ্গে বিবাদের পরে আবাসনের ফটকে গাড়ি চালিয়ে ঢুকে ছয়টি গাড়িতে ধাক্কা দেন বলে অভিযোগ। গোয়ার অঞ্জুনায় ফেব্রুয়ারিতে একটি থারের সঙ্গে অন্য গাড়ির সংঘর্ষে ৬৫ বছরের এক পর্যটকের মৃত্যু হয়। দিল্লিতেও থারের ধাক্কায় মোটরবাইক আরোহীদের মৃত্যুর ঘটনা আলোচিত হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে গত বছর হরিয়ানার তৎকালীন পুলিশপ্রধান ও পি সিংহের মন্তব্যও ফের সামনে এসেছে। তিনি গাড়ির পছন্দের সঙ্গে চালকের মানসিকতার যোগ টেনে থার ও বুলেট ব্যবহারকারীদের একাংশের আচরণের সমালোচনা করেছিলেন। তবে পৃথক দুর্ঘটনা বা কোনও আধিকারিকের মন্তব্য থেকে সব মালিক সম্পর্কে সিদ্ধান্ত টানা যায় না। দায় নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চালকের কাজ এবং ঘটনার প্রমাণই বিবেচ্য।
উদ্যোগটির তাৎপর্য বিচার করলে দেখা যায়, এখানে মালিকদের প্রকাশ্যে নিজেদের আচরণের দায় স্বীকার করতে বলা হচ্ছে। শপথের সামাজিক মূল্য থাকতে পারে: পরিচিতদের সামনে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পরে প্রশ্ন তোলার সুযোগও তৈরি করে। কিন্তু কতজন শপথ নিলেন, সেই সংখ্যাই সাফল্যের পূর্ণ মাপকাঠি হতে পারে না। পরবর্তী সময়ে বিপজ্জনক চালনা কমল কি না, সেটিও দেখা প্রয়োজন।
পাশাপাশি নজরদারির মানদণ্ড হওয়া উচিত আচরণ। দামি গাড়ির মালিক, সাধারণ মোটরবাইকচালক কিংবা রাজনৈতিক মিছিলের অংশগ্রহণকারী—সকলের ক্ষেত্রেই একই নিয়ম প্রয়োগের প্রত্যাশা থাকে। সচেতনতার আয়োজন তখনই বিশ্বাসযোগ্য হয়, যখন প্রকাশ্য প্রতিশ্রুতির সঙ্গে রাস্তায় দৈনন্দিন ব্যবহারের মিল দেখা যায়। দমনের এই অঙ্গীকারের কার্যকারিতাও শেষ পর্যন্ত বোঝা যাবে পথচারী এবং অন্য চালকদের অভিজ্ঞতা থেকে। শপথের পরে প্রশাসন কীভাবে ধারাবাহিক নজর রাখে, সেই প্রশ্নও তাই সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



