আন্তর্জাতিক

উপসাগরে মার্কিন তেল-গ্যাসের পরিকাঠামোও অরক্ষিত, পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাস্ফিয়ার: পারস্য উপসাগরে ফের সংঘর্ষের পরে আমেরিকাকে জ্বালানি পরিকাঠামোয় পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি দিল ইরান।
  • তেহরানের বক্তব্য, এই অঞ্চলে মার্কিন তেল ও গ্যাস সংস্থাগুলির স্বার্থও নিরাপদ নয়।
  • ৭ সেপ্টেম্বর ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের কালিবাফ জানান, তাঁদের সম্পদের উপরে নতুন হামলা হলে প্রত্যাঘাত আসবে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাস্ফিয়ার: পারস্য উপসাগরে ফের সংঘর্ষের পরে আমেরিকাকে জ্বালানি পরিকাঠামোয় পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি দিল ইরান। তেহরানের বক্তব্য, এই অঞ্চলে মার্কিন তেল ও গ্যাস সংস্থাগুলির স্বার্থও নিরাপদ নয়। ৭ সেপ্টেম্বর ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের কালিবাফ জানান, তাঁদের সম্পদের উপরে নতুন হামলা হলে প্রত্যাঘাত আসবে। সপ্তাহান্তে দু’পক্ষের জাহাজকেন্দ্রিক সংঘর্ষের পরেই এই সতর্কবার্তা।

কালিবাফের বক্তব্য, উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল ও গ্যাস উৎপাদনের ব্যবস্থা বিস্তৃত এবং আক্রমণের নাগালের মধ্যে রয়েছে। সেখানে যুক্ত মার্কিন সংস্থাগুলিও একই ঝুঁকির মুখে। মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ ইরানের তেলবাহী জাহাজবহরকে অরক্ষিত বলার পরে কালিবাফের এই মন্তব্যকে ওয়াশিংটনের প্রতি পাল্টা বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালী খোলা রাখার প্রশ্নেও শর্ত দিয়েছে তেহরান। প্রবীণ ইরানি নিরাপত্তা কর্মকর্তা মহসেন রেজাই বলেছেন, আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে নাশকতা, হুমকি ও হামলা বন্ধ করলেই তাঁরা এই জলপথ খোলা রাখার প্রতিশ্রুতি দেবেন। তাঁর বক্তব্যের তাৎপর্য, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিশ্চয়তাকে ইরান সরাসরি নিজের নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করছে। ফলে নৌপথ নিয়ে বিরোধ মেটানোর আলোচনা এবং সামরিক উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ কার্যত পরস্পরের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।

রেজাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জানিয়েছেন, উপসাগরে নতুন একটি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল ঘোষণা করার পরিকল্পনা রয়েছে। আমেরিকার নৌ অবরোধ যেখানে শুরু হয়েছে, সেখান থেকে উপসাগরের কিছু অংশ পর্যন্ত এই অঞ্চল বিস্তৃত হবে। তাঁর দাবি, সেখানে প্রবেশকারী জাহাজকে ইরানের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে এলাকার সুনির্দিষ্ট সীমা, কোন ধরনের জাহাজের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে এবং নিষেধাজ্ঞার বাস্তব রূপ কী, তার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ তিনি দেননি।

একই সঙ্গে ইরান ও ওমানের জলসীমার মধ্যে নতুন আন্তর্জাতিক নৌপথের কথাও বলেছেন রেজাই। তাঁর দাবি, পথটির মানচিত্র নিয়ে সমঝোতা হয়েছে এবং কয়েক দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় ইরানের পরিচালনাগত ভূমিকা থাকবে। এটি তেহরানের ঘোষিত পরিকল্পনা; ঘোষণা থেকেই নতুন পথ চালু হয়ে গিয়েছে কিংবা জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না।

ভারতের উদ্বেগও সরাসরি। দেশের অপরিশোধিত তেলের চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানিনির্ভর এবং উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে আসা সরবরাহের উল্লেখযোগ্য অংশ হরমুজ দিয়ে যায়। ফলে ওই অঞ্চলের চলাচলে নতুন শর্ত বা বাধা তৈরি হলে আমদানির ব্যয় ও সরবরাহের সময়সূচি, দু’টিই চাপের মুখে পড়তে পারে।

হরমুজের গুরুত্ব শুধু তেলে সীমাবদ্ধ নয়। যুদ্ধের গোড়ায় প্রকাশিত অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বিশ্বের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বাণিজ্যের প্রায় এক পঞ্চমাংশও এই পথ দিয়ে হয়। এই জ্বালানির বড় গন্তব্য এশিয়া। ফলে প্রণালীর নিরাপত্তাহীনতা বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প এবং পরিবহণের খরচ পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। জাহাজ চলাচলের সংকট তাই উপসাগরের সামরিক মানচিত্র ছাড়িয়ে বহু দেশের দৈনন্দিন অর্থনীতির উদ্বেগ।

বিকল্প উৎস থেকে তেল কিনলেই সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান হবে, এমন নিশ্চয়তাও নেই। মার্চে রয়টার্সের একটি বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এশিয়ার অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৬০ শতাংশ এসেছিল পশ্চিম এশিয়া থেকে। বহু শোধনাগার ওই অঞ্চলের নির্দিষ্ট ধরনের তেল প্রক্রিয়াকরণের উপযোগী করে তৈরি। আবার দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তিও দ্রুত উৎস বদলানোর সুযোগ সীমিত করে। তাই হরমুজের বিঘ্ন সামলাতে শুধু নতুন বিক্রেতা খোঁজা যথেষ্ট নয়; আমদানিকারক দেশ ও সংস্থাগুলিকে শোধনাগারের চাহিদা, পরিবহণব্যবস্থা এবং চুক্তির শর্তও বিবেচনায় নিতে হয়।

এই অবস্থায় ইরানের হুঁশিয়ারির সম্ভাব্য কৌশলগত অর্থ স্পষ্ট: নিজেদের জ্বালানি বাণিজ্যে আঘাতের মূল্য আমেরিকা ও তার আঞ্চলিক অংশীদারদেরও দিতে হতে পারে, সেই ধারণা তৈরি করা। তবে হুমকি দেওয়া এবং বাস্তবে কোনও স্থাপনায় হামলা হওয়া পৃথক ঘটনা। আপাতত নজর থাকবে ঘোষিত নিয়ন্ত্রিত এলাকার মানচিত্র, জাহাজ চলাচলের বাস্তব পরিস্থিতি এবং উত্তেজনা কমানোর কোনও সমঝোতা সামনে আসে কি না, তার দিকে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles