খবর

পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের জেরে তেল ১০০ ডলার ছাড়াল, বাড়ছে মূল্যবৃদ্ধির শঙ্কা

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাস্ফিয়ার: পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়াল।
  • সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় ঊর্ধ্বমুখী ব্রেন্ট ও মার্কিন তেল, দুয়ের দরই।
  • এই মূল্যবৃদ্ধি দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলির খরচ বাড়বে, চাপ পড়তে পারে পরিবহণ, শিল্পোৎপাদন এবং সাধারণ মানুষের সংসারের ব্যয়ে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাস্ফিয়ার: পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়াল। সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় ঊর্ধ্বমুখী ব্রেন্ট ও মার্কিন তেল, দুয়ের দরই। এই মূল্যবৃদ্ধি দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলির খরচ বাড়বে, চাপ পড়তে পারে পরিবহণ, শিল্পোৎপাদন এবং সাধারণ মানুষের সংসারের ব্যয়ে।

প্রকাশিত বাজারদর অনুযায়ী, গ্রিনিচ সময় সকাল ৭টা ২১ মিনিটে ব্রেন্টের আগাম সরবরাহের চুক্তিমূল্য ব্যারেলপ্রতি ২.১৫ ডলার বা ২.২ শতাংশ বেড়ে হয় ১০০.০৭ ডলার। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ১.৭০ ডলার বা ১.৮৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৯৪.৭৩ ডলারে। এটি লেনদেন চলাকালীন দর; দিনের শেষ মূল্য নয়।

দাম বৃদ্ধির পিছনে রয়েছে আমেরিকা ও ইরানের সংঘর্ষ এবং তেলবাহী জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, তাদের যুদ্ধজাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টার জবাবে ৮ সেপ্টেম্বর ইরানের পাঁচটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে। বিদেশসচিব মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, মার্কিন নৌযানকে নিশানা করার চেষ্টা চললে ইরানি তেলবাহী জাহাজের বিরুদ্ধে অভিযানও চলবে।

ইকনমিক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসের গোড়া থেকে ব্রেন্টের দাম প্রায় এক চতুর্থাংশ বেড়েছে। ছয় মাস ধরে চলা সংঘাতের স্থায়ী নিষ্পত্তির আশা দুর্বল হওয়ায় বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। গোল্ডম্যান স্যাক্সের আশঙ্কা, জাহাজ চলাচলে হামলা তীব্র হলে তেলের দাম ১২০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। এটি শর্তসাপেক্ষ পূর্বাভাস, নিশ্চিত ভবিষ্যৎ মূল্য নয়।

সংকটের কেন্দ্রে হরমুজ প্রণালী। ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এই সংকীর্ণ জলপথ পারস্য উপসাগরকে বাইরের সমুদ্রের সঙ্গে যুক্ত করেছে। মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের হিসাবে, ২০২৪ সালে এই পথে দৈনিক গড়ে প্রায় দুই কোটি ব্যারেল তেল পরিবাহিত হয়েছিল। পরিমাণটি ছিল বিশ্বের মোট পেট্রোলিয়ামজাত তরল জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় এক পঞ্চমাংশ।

হরমুজের গুরুত্ব শুধু বিপুল সরবরাহে নয়, বিকল্প পথের সীমাবদ্ধতাতেও। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির কিছু পাইপলাইন প্রণালী এড়িয়ে তেল পাঠাতে পারে। কিন্তু সমুদ্রপথের সমস্ত সরবরাহ সেদিকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। ফলে সাময়িক বাধাও জাহাজের যাত্রা পিছিয়ে দিতে এবং পরিবহণের খরচ বাড়াতে পারে।

এশিয়ার উদ্বেগ বিশেষভাবে বেশি। ওই মার্কিন সংস্থার হিসাবে, ২০২৪ সালে হরমুজ দিয়ে যাওয়া অপরিশোধিত তেল ও কনডেনসেটের ৮৪ শতাংশের গন্তব্য ছিল এশিয়া। প্রধান ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে চিন, ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। তাই এই জলপথে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে তার অভিঘাত এশীয় অর্থনীতিতে পৌঁছনোর আশঙ্কাও প্রবল।

ভারতের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য চাপের প্রথম জায়গা আমদানি খরচ। একই পরিমাণ তেল কিনতে বেশি ডলার ব্যয় হলে বৈদেশিক বাণিজ্যের হিসাবে চাপ বাড়তে পারে। তার সঙ্গে জাহাজভাড়া এবং বিমার খরচ বাড়লে আমদানির মোট ব্যয় আরও বাড়বে। অর্থনৈতিক দিক থেকে এর সম্ভাব্য ফল হল সংস্থাগুলির মুনাফা কমা অথবা বাড়তি খরচ ক্রেতাদের উপর চাপানোর প্রবণতা।

তবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লেই দেশের পেট্রল ও ডিজেলের খুচরো দাম একই হারে সঙ্গে সঙ্গে বাড়বে, এমন সিদ্ধান্ত করা যায় না। শোধন, বিপণন, কর এবং মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্তও সেখানে ভূমিকা রাখে। কিন্তু দীর্ঘ সময় তেল চড়া থাকলে পরিবহণ ও উৎপাদনের খরচ সামলানো কঠিন হয়; তার পরোক্ষ প্রভাব পড়তে পারে নিত্যপণ্যে।

এখন বাজারের জন্য প্রধান প্রশ্ন, সংঘাত কত দিন চলবে এবং তেল পরিবহণ কতটা স্বাভাবিক থাকবে। সরবরাহের নিশ্চয়তা ফিরলে দামের উপর চাপ কমতে পারে। উল্টোদিকে, জাহাজে হামলা বা রপ্তানি ব্যাহত হওয়ার ঘটনা বাড়লে নতুন মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা থাকবে। এই পরিস্থিতিতে ১০০ ডলারের সীমা পেরোনো বিশ্ব অর্থনীতির জন্য জ্বালানির ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। আমদানিনির্ভর দেশগুলির কাছে তাই যুদ্ধের গতিপ্রকৃতির পাশাপাশি সমুদ্রপথের নিরাপত্তাও আগামী দিনের অর্থনৈতিক হিসাবের নির্ধারক হয়ে উঠছে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles