‘ওয়াহেগুরুর নির্দেশেই হামলা’, জেরায় দাবি সুখবীর বাদলের উপর কৃপাণ চালানো নিহঙ্গ শিখের

যা জানা জরুরি
- বাংলাস্ফিয়ার: শিরোমণি অকালি দলের সভাপতি সুখবীর সিং বাদলের উপর কৃপাণ নিয়ে হামলার অভিযোগে ধৃত নিহঙ্গ শিখ জসপাল সিং পুলিশি জেরায় দাবি করেছেন, ‘ওয়াহেগুরুর নির্দেশ’…
- ৬৩ বছর বয়সি জসপালের বক্তব্য, নান্দেদের গুরুদ্বারে প্রার্থনা করার সময় তাঁর কাছে এই ‘আদেশ’ এসেছিল।
- তবে এটি সম্পূর্ণ ভাবে অভিযুক্তের দাবি; পুলিশ তাঁর বক্তব্যের সত্যতা এবং হামলার নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ বা ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে…
বিস্তারিত প্রতিবেদন
বাংলাস্ফিয়ার: শিরোমণি অকালি দলের সভাপতি সুখবীর সিং বাদলের উপর কৃপাণ নিয়ে হামলার অভিযোগে ধৃত নিহঙ্গ শিখ জসপাল সিং পুলিশি জেরায় দাবি করেছেন, ‘ওয়াহেগুরুর নির্দেশ’ পেয়েই তিনি এই কাজ করেছেন। ৬৩ বছর বয়সি জসপালের বক্তব্য, নান্দেদের গুরুদ্বারে প্রার্থনা করার সময় তাঁর কাছে এই ‘আদেশ’ এসেছিল। তবে এটি সম্পূর্ণ ভাবে অভিযুক্তের দাবি; পুলিশ তাঁর বক্তব্যের সত্যতা এবং হামলার নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ বা ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখছে।
বৃহস্পতিবার সুখবীরের উপর কৃপাণ দিয়ে হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে জসপালের বিরুদ্ধে। জেরায় তিনি প্রথমে জানিয়েছিলেন, কোনও পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই মুহূর্তের আবেগে তিনি হামলা করেছেন। পরে পুলিশের কাছে ‘দৈব নির্দেশ’ পাওয়ার কথা বলেন। তদন্তকারী এক আধিকারিক জানিয়েছেন, জসপাল এখনও পর্যন্ত একই বয়ান দিয়ে চলেছেন। তাঁর দাবি, অন্তরের কোনও অনুভূতি তাঁকে সুখবীরকে আক্রমণ করতে প্ররোচিত করেছিল।
পুলিশকে জসপাল আরও জানিয়েছেন, ২০২৩ সালে তিনি সংসার ত্যাগ করেন। পুণেতে স্ত্রী এবং মেয়েকে রেখে তিনি নান্দেদে চলে যান এবং সেখানে নিহঙ্গ সেবাদার হিসাবে জীবনযাপন শুরু করেন। নিহঙ্গরা শিখ ধর্মের খালসা পন্থের একটি ঐতিহ্যবাহী যোদ্ধা সম্প্রদায়। সংসারত্যাগের আগে জসপাল আইনজীবী ছিলেন। মুম্বইয়ের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তিনি কাজও করেছেন বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, জসপাল একাই হামলা চালিয়েছেন। বাইরে থেকে কেউ তাঁকে সাহায্য করেছে বা ঘটনাটি আগে থেকে পরিকল্পনা করা হয়েছিল—এমন কোনও প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ তাঁর অতীত, যোগাযোগ এবং সাম্প্রতিক গতিবিধি খতিয়ে দেখছে। তাঁর বৈদ্যুতিন যন্ত্র এবং যোগাযোগের নথিও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
তদন্তকারী এক আধিকারিকের কথায়, ‘‘এখনও পর্যন্ত তাঁর বয়ান থেকে মনে হচ্ছে, তিনি একাই এই কাজ করেছেন। বাইরের কারও সহায়তা বা পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের প্রমাণ মেলেনি। তিনি বলেছেন, পঞ্জাবের বর্তমান অবস্থা এবং মাদকের সমস্যা-সহ একাধিক কারণে সুখবীরের বিরুদ্ধে তাঁর ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল।’’
পুলিশ অবশ্য কেবল অভিযুক্তের ‘দৈব নির্দেশ’ সংক্রান্ত বক্তব্যের উপর নির্ভর করছে না। তাঁর মানসিক অবস্থা, হামলার উদ্দেশ্য এবং সুখবীরের প্রতি আগে থেকে কোনও বিরূপ মনোভাব ছিল কি না—সব দিকই যাচাই করা হচ্ছে। প্রয়োজনে তাঁর মানসিক স্বাস্থ্যের মূল্যায়নও করানো হতে পারে।
এই হামলায় সুখবীর আহত হন। তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা মহারাষ্ট্র পুলিশের এক কর্মীও সামান্য চোট পেয়েছেন। দু’জনকেই স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সুখবীরের আঘাত গুরুতর নয় এবং শুক্রবারই তাঁর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পুলিশ সুপার নীলাভ রোহান জানিয়েছেন, শুক্রবার জসপালকে আদালতে হাজির করানো হবে। ঘটনার পূর্ণ পুনর্গঠন, অস্ত্র সংগ্রহের উৎস এবং হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য জানতে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ। তদন্তকারীদের প্রধান প্রশ্ন—এটি কি সত্যিই আকস্মিক ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, নাকি তার আড়ালে আরও গভীর কোনও পরিকল্পনা রয়েছে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



