এসআইআর এবং নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে যৌথ আন্দোলনের রূপরেখা ঠিক করতে বৈঠকে বসছেন বিরোধী নেতারা। যোগ দেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফর নিয়ে মঙ্গলবার তীব্র আক্রমণ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ ও অনিয়মের অভিযোগের বিরুদ্ধে যৌথ কৌশল ঠিক করতে বিরোধী নেতারা যখন বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন শুভেন্দুর অভিযোগ, মমতা সেখানে যাচ্ছেন ‘দিমাগি নকশালদের সঙ্গে পরিকল্পনা বৈঠক’ করতে।

বুধবার দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা মমতার। নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে দেশজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি নিয়ে ওই বৈঠকে আলোচনা এবং সিদ্ধান্ত হতে পারে।

সাংবাদিকদের শুভেন্দু বলেন, “ইন্ডি জোট শেষ হয়ে গিয়েছে। উনি সেখানে দিমাগি নকশালদের সঙ্গে পরিকল্পনা বৈঠক করতে যাচ্ছেন। আমি দিল্লি পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় আইবিকে নজর রাখতে বলব। যিনি আজাদির স্লোগান দেন, তিনি কী করতে পারেন, তা সকলেই জানেন। ভারতবিরোধী শক্তির সঙ্গে উনি বৈঠক করেন কি না, সেটা দেখতে হবে। উনি এখন দিমাগি নকশালদের উপদেষ্টা।”

নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পরপরই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে যৌথ পদক্ষেপের বিষয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির সঙ্গে কথা বলেন মমতা।

২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী দশ মাসে অন্তত ১৪ বার আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁদের অজ্ঞাতসারে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং ওই প্রক্রিয়ায় গুরুতর ঘাটতি থাকা—এই বিষয়গুলি নিয়েই তাঁরা আপত্তি তোলেন।

বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলতে তরুণদের নেতৃত্বাধীন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ এবং কোনও জোটে না-থাকা অন্য গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের শামিল করার পক্ষে সওয়াল করেছে সিপিএম এবং মমতা—দু’পক্ষই।

বুধবারের বৈঠকে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে যৌথ কৌশল নির্ধারণ করবেন ইন্ডিয়া জোটের নেতারা। ভোটার তালিকার এসআইআর এবং ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা নিয়েও আলোচনা হবে।

নির্বাচনী ও গণতান্ত্রিক প্রশ্নগুলিতে অভিন্ন অবস্থান গ্রহণ এবং যৌথ কর্মসূচির রূপরেখা তৈরি করাই বিরোধী জোটের লক্ষ্য।

আরও জানা গিয়েছে, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট বা অপসারণের প্রস্তাব আনার জন্য নতুন করে উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে ইন্ডিয়া জোট। সংসদের দুই কক্ষে জমা দেওয়ার জন্য একটি নোটিসের খসড়া তৈরি করছে তারা।