হাইলাইটস:
- ছয় মহিলা কুস্তিগিরের যৌন হেনস্তার অভিযোগে ব্রিজভূষণ শরণ সিংহের বিরুদ্ধে মামলার রায় ৩ আগস্ট।
- চূড়ান্ত সওয়াল-জবাব শেষ হওয়ার পর রাউজ অ্যাভিনিউ আদালত রায় সংরক্ষণ করেছে।
- সহ-অভিযুক্ত প্রাক্তন ডব্লিউএফআই কর্মকর্তা বিনোদ তোমরও মামলায় বিচারাধীন; দু’জনেই বর্তমানে জামিনে।
- দোষী সাব্যস্ত হলে ব্রিজভূষণের রাজনৈতিক ও ক্রীড়া প্রশাসনিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠতে পারে।
প্রাক্তন ভারতীয় কুস্তি ফেডারেশনের (ডব্লিউএফআই) সভাপতি এবং বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ ব্রিজভূষণ শরণ সিংহের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বহুল আলোচিত যৌন হেনস্তা মামলার রায় আগামী ৩ আগস্ট ঘোষণা করা হতে পারে। বৃহস্পতিবার দিল্লির রাউজ অ্যাভিনিউ আদালতের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট অশ্বিনী পানওয়ার চূড়ান্ত শুনানি শেষ হওয়ার পর রায় সংরক্ষণ করেন। প্রায় তিন বছর ধরে চলা এই মামলার বিচারপর্ব এখন শেষ ধাপে পৌঁছেছে।
মামলাটি ছয় জন মহিলা কুস্তিগিরের অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হয়েছিল। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা, কুস্তি ফেডারেশনের দপ্তর এবং অন্যত্র ব্রিজভূষণ তাঁদের যৌন হেনস্তা করেন। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে ২০২৩ সালে দেশের শীর্ষ কুস্তিগিরদের আন্দোলন জাতীয় রাজনীতিতেও বড় বিতর্ক তৈরি করেছিল। দিল্লি পুলিশ তদন্ত শেষে ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে নারীর শ্লীলতাহানি, যৌন হেনস্তা, অনুসরণ এবং অপরাধমূলক ভয় দেখানোর অভিযোগে অভিযোগপত্র জমা দেয়। সহ-অভিযুক্ত হিসেবে প্রাক্তন ডব্লিউএফআই সহকারী সচিব বিনোদ তোমরের বিরুদ্ধেও অপরাধমূলক ভয় দেখানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে দু’জনেই জামিনে রয়েছেন।
বিচার চলাকালীন মোট ৪৩ জন সাক্ষীর তালিকা থাকলেও পরে কয়েক জনকে বাদ দেওয়া হয়। বাকি সাক্ষীদের জেরা, প্রমাণ উপস্থাপন এবং চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক সম্পন্ন হয়েছে। অভিযোগকারী কুস্তিগিরদের আইনজীবীরা দাবি করেছেন, তাঁদের বক্তব্য গোটা বিচারপর্বে মূলত একই ছিল এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ অভিযোগকে সমর্থন করেছে। অন্যদিকে প্রতিরক্ষা পক্ষের দাবি, অভিযোগকারীদের বক্তব্যে অসঙ্গতি রয়েছে এবং কয়েকটি ঘটনায় অভিযুক্ত ঘটনাস্থলে উপস্থিতই ছিলেন না। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৪ সালে আদালত এক অভিযোগকারীর ক্ষেত্রে ব্রিজভূষণকে অব্যাহতি দিলেও অন্য অভিযোগগুলিতে বিচার চলার নির্দেশ দেয়। একই সময়ে এক নাবালিকা কুস্তিগিরের অভিযোগে দায়ের হওয়া পৃথক পকসো মামলায় তদন্তকারী সংস্থার চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত মামলা বন্ধ করে দেয়। বর্তমান মামলাটি কেবল প্রাপ্তবয়স্ক অভিযোগকারীদের অভিযোগকে কেন্দ্র করেই এগিয়েছে।
৩ আগস্টের রায় শুধু ব্রিজভূষণ শরণ সিংহের ভবিষ্যৎই নয়, দেশের ক্রীড়া সংস্থাগুলিতে যৌন হেনস্তার অভিযোগের বিচারপ্রক্রিয়া, খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা এবং জবাবদিহির প্রশ্নেও গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।