পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে নিজেদের ঘুরে দাঁড়ানোর বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে কংগ্রেস। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মতে, শাসক শিবিরে ভাঙন এবং বিরোধী রাজনীতির নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়ায় দীর্ঘদিন পর রাজ্যে নিজেদের সংগঠন পুনর্গঠনের বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সেই লক্ষ্যেই আগামী কয়েক মাসের মধ্যে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে একটি বড় জনসমাবেশ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যেখানে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর উপস্থিতি নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
রাজ্য কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, তৃণমূলের একাংশের বিদ্রোহ এবং সংগঠনের দুর্বলতার ফলে বহু কর্মী-সমর্থক রাজনৈতিকভাবে নতুন আশ্রয়ের সন্ধান করছেন। তাদের একাংশকে কংগ্রেসের পতাকার তলায় ফিরিয়ে আনার কৌশল নেওয়া হয়েছে। জেলা স্তরে সাংগঠনিক বৈঠক, বুথভিত্তিক পুনর্গঠন এবং পুরনো কংগ্রেস কর্মীদের সক্রিয় করার উদ্যোগও শুরু হয়েছে।
দলের অভ্যন্তরে আলোচনা হয়েছে, শুধু তৃণমূলবিরোধী অবস্থান নিলেই হবে না; বিকল্প রাজনৈতিক বার্তাও মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি, কৃষি, শিক্ষা, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের মতো বিষয়কে সামনে রেখে জনসংযোগ কর্মসূচি চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। কংগ্রেস নেতৃত্বের মতে, এই ইস্যুগুলিতে সাধারণ মানুষের অসন্তোষকে রাজনৈতিক সমর্থনে রূপান্তর করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।
সূত্রের খবর, ব্রিগেড সমাবেশকে শুধু রাজ্যস্তরের কর্মসূচি হিসেবে নয়, জাতীয় স্তরের বিরোধী রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবেও তুলে ধরতে চাইছে দল। রাহুল গান্ধীর পাশাপাশি সর্বভারতীয় কংগ্রেসের একাধিক শীর্ষ নেতাকে আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সমাবেশের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস এখনও প্রাসঙ্গিক রাজনৈতিক শক্তি— এই বার্তাই দিতে চায় নেতৃত্ব।
রাজ্য কংগ্রেসের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে বিরোধী ভোটের নতুন বিন্যাস হতে পারে। দীর্ঘদিন তৃণমূলের সঙ্গে থাকা কিছু নেতা-কর্মী এবং ঐতিহ্যগত কংগ্রেস সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে যুব ও ছাত্র সংগঠনগুলিকেও সক্রিয় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে কংগ্রেস নেতৃত্ব বুঝতে পারছে, শুধু তৃণমূলের ভাঙনের ওপর নির্ভর করলে সাফল্য আসবে না। গত এক দশকে সংগঠনের যে ক্ষয় হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘমেয়াদি সাংগঠনিক লড়াই প্রয়োজন। সেই কারণেই প্রতিটি জেলায় সদস্য সংগ্রহ, প্রশিক্ষণ শিবির এবং ধারাবাহিক রাজনৈতিক কর্মসূচির রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংকট পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী রাজনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিলেও, সেই সুযোগ কতটা কাজে লাগাতে পারবে কংগ্রেস, তা নির্ভর করবে সংগঠনকে কত দ্রুত পুনরুজ্জীবিত করা যায় এবং মানুষের কাছে কতটা বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প হিসেবে নিজেদের তুলে ধরা যায় তার ওপর। ব্রিগেড সমাবেশ সেই প্রচেষ্টার প্রথম বড় পরীক্ষাই হতে চলেছে।