‘চরিত্র নিয়ে সন্দেহ’: রাজস্থানে আদিবাসী মহিলাকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন, গ্রেফতার সাত

যা জানা জরুরি
- রাজস্থানের বাঁশওয়াড়া জেলায় এক আদিবাসী মহিলাকে বিবস্ত্র করে মারধর এবং মাথা মুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী ও আত্মীয়দের বিরুদ্ধে।
- মহিলার চরিত্র নিয়ে সন্দেহের জেরেই এই নৃশংস নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে।
- ঘটনায় মহিলার স্বামী-সহ সাত জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
রাজস্থানের বাঁশওয়াড়া জেলায় এক আদিবাসী মহিলাকে বিবস্ত্র করে মারধর এবং মাথা মুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী ও আত্মীয়দের বিরুদ্ধে। মহিলার চরিত্র নিয়ে সন্দেহের জেরেই এই নৃশংস নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। ঘটনায় মহিলার স্বামী-সহ সাত জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অভিযোগ, প্রথমে স্বামী ও অন্য কয়েক জন ওই মহিলাকে খালি পায়ে গ্রামের রাস্তা দিয়ে হাঁটতে বাধ্য করেন। পরে তাঁর মাথা মুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং কয়েক জন মিলে মারধর করেন। ঘটনার যে ভিডিয়োগুলি ছড়িয়ে পড়েছে, তার একটিতে দেখা যাচ্ছে, কয়েক জন মহিলা লাঠি দিয়ে মারতে মারতে নির্যাতিতার পোশাক ধরে টানছেন এবং ছিঁড়ে ফেলছেন। ঘটনাস্থলে শিশু-সহ বহু মানুষ দাঁড়িয়ে থাকলেও কাউকে নির্যাতন বন্ধ করার চেষ্টা করতে দেখা যায়নি।
ডিএসপি রেগার জানিয়েছেন, পুলিশ ওই ভিডিয়োগুলি পরীক্ষা করে দেখছে। তাঁর বক্তব্য, ‘‘ভিডিয়োটি ৩ সেপ্টেম্বর সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও ১ সেপ্টেম্বরই এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। মহিলা ও তাঁর স্বামীর মধ্যে বিবাদ ছিল। আমরা তাঁর স্বামী এবং আরও ছয় আত্মীয়কে গ্রেফতার করেছি।’’
আর্থুনা থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক বিনোদকুমার মীনা জানিয়েছেন, অভিযোগপত্রে ওই মহিলা বলেছেন যে, কাজের জন্য তাঁকে পাশের একটি রাজ্যে যেতে হয়। তিনি শ্রমিকের কাজ করেন। দিন দশেক আগেও তিনি বাঁশওয়াড়ার সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের কাছে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর স্বামী চরিত্র নিয়ে সন্দেহ করে তাঁকে সেখান থেকে ফিরিয়ে আনেন। এরপর ১ সেপ্টেম্বর তাঁর উপর নির্যাতন চালানো হয়।
ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। কোনও মহিলার শ্লীলতাহানির উদ্দেশ্যে আক্রমণ বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ, বিবস্ত্র করার উদ্দেশ্যে আক্রমণ, কথা–ইঙ্গিত বা কাজের মাধ্যমে মহিলার মর্যাদাহানি, বেআইনি জমায়েত এবং ইচ্ছাকৃত ভাবে আঘাত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ধারাও যুক্ত করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, নির্যাতিতার চিকিৎসা ও শারীরিক পরীক্ষা করানো হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া সাত অভিযুক্তকে পুলিশি হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
‘রাজস্থানের লজ্জা’, কংগ্রেসের আক্রমণ
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেছেন রাজস্থান প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গোবিন্দ সিং দোতাসরা। তাঁর বক্তব্য, ‘‘বাঁশওয়াড়ার এই ঘটনা রাজস্থানের মাথা হেঁট করে দিয়েছে। মানবিকতা, নারীর সম্মান এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সরকারের সমস্ত দাবি প্রকাশ্যেই ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছে।’’
তিনি অভিযোগ করেন, মেয়েদের রক্ষা এবং নারী-নিরাপত্তার নামে বড় বড় বিজ্ঞাপন দিয়ে বিজেপি সরকার নিজের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে ব্যস্ত। অথচ পুলিশের মনোভাব এতটাই অসংবেদনশীল হয়ে পড়েছে যে, থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক ‘পোক্ত প্রমাণের’ অজুহাত দেখিয়ে তিন দিন ধরে এই অত্যাচারের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। দোতাসরার দাবি, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।
তবে জেলা পুলিশ এফআইআর দায়ের করতে দেরির অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পুলিশের বক্তব্য, যে দিন ঘটনাটি ঘটেছে, অর্থাৎ ১ সেপ্টেম্বর, সে দিনই অভিযোগ নথিভুক্ত করা হয়েছিল। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং নির্যাতিতা মহিলার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন দোতাসরা।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



