গ্রেট নিকোবর প্রকল্পে নতুন পদক্ষেপ, এবার প্রবাল স্থানান্তরের অনুমতি চাইবে জুলজিক্যাল সার্ভে

যা জানা জরুরি
- হাইলাইটস গ্রেট নিকোবর দ্বীপের মেগা অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য প্রবাল স্থানান্তরের প্রস্তুতি।
- শীঘ্রই কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমোদন চাইবে জুলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (ZSI)।
- প্রকল্প এলাকায় থাকা প্রবাল প্রাচীর সরিয়ে অন্যত্র বসানোর পরিকল্পনা।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
হাইলাইটস
- গ্রেট নিকোবর দ্বীপের মেগা অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য প্রবাল স্থানান্তরের প্রস্তুতি।
- শীঘ্রই কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমোদন চাইবে জুলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (ZSI)।
- প্রকল্প এলাকায় থাকা প্রবাল প্রাচীর সরিয়ে অন্যত্র বসানোর পরিকল্পনা।
- পরিবেশবিদদের একাংশ প্রবাল স্থানান্তরের সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
- উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের ভারসাম্য নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু।
গ্রেট নিকোবর দ্বীপে প্রস্তাবিত বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পকে এগিয়ে নিয়ে যেতে এবার প্রবাল প্রাচীর বা কোরাল স্থানান্তরের জন্য আনুষ্ঠানিক অনুমোদন চাইতে চলেছে Zoological Survey of India (জেডএসআই)। প্রকল্পের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন প্রবালগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
গ্রেট নিকোবর প্রকল্প ভারতের অন্যতম উচ্চাভিলাষী উন্নয়ন উদ্যোগ। এর আওতায় একটি আন্তর্জাতিক ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর, বিমানবন্দর, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং নগর অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে উপকূলবর্তী সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের উপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দীর্ঘদিন ধরেই উঠে আসছে।
এই পরিস্থিতিতে প্রকল্প এলাকায় অবস্থিত প্রবাল প্রাচীরের একটি অংশ অন্যত্র স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জেডএসআই বিশেষজ্ঞদের সমীক্ষার ভিত্তিতে কতগুলি প্রবাল সরানো হবে, কোথায় স্থানান্তর করা হবে এবং কীভাবে তা সম্পন্ন করা হবে, তার বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করছে। সেই প্রস্তাবই শীঘ্রই সংশ্লিষ্ট পরিবেশগত অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে।
প্রবাল প্রাচীর সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। অসংখ্য মাছ, অমেরুদণ্ডী প্রাণী এবং সামুদ্রিক উদ্ভিদের আবাসস্থল হিসেবে এগুলির ভূমিকা অপরিসীম। এছাড়া উপকূলকে ক্ষয় ও ঝড়ের ঢেউ থেকে রক্ষা করতেও প্রবালের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ফলে প্রবাল স্থানান্তরের মতো পদক্ষেপ অত্যন্ত সংবেদনশীল বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
যদিও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রবাল স্থানান্তরের কিছু সফল উদাহরণ রয়েছে, পরিবেশবিদদের একাংশের মতে এই প্রক্রিয়ায় সাফল্যের হার সবসময় সমান নয়। নতুন পরিবেশে প্রবালের টিকে থাকা, বৃদ্ধি এবং প্রজনন নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ। তাই শুধুমাত্র স্থানান্তর করলেই পরিবেশগত ক্ষতি পূরণ হয়ে যাবে, এমন দাবি নিয়ে সংশয় রয়েছে।
গ্রেট নিকোবর প্রকল্পকে ঘিরে উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষার দ্বন্দ্ব বহুদিনের। সরকারের বক্তব্য, কৌশলগত ও অর্থনৈতিক দিক থেকে প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে পরিবেশবিদরা দ্বীপটির অনন্য জীববৈচিত্র্য ও নাজুক বাস্তুতন্ত্রের সুরক্ষার প্রশ্ন তুলছেন।
এই প্রেক্ষাপটে প্রবাল স্থানান্তরের অনুমোদন চাওয়ার উদ্যোগকে প্রকল্প বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন এবং পরিবেশগত ঝুঁকির বিষয়টি কতটা গুরুত্ব পায়, সেদিকেই নজর থাকবে বিশেষজ্ঞ মহলের।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



