হাইলাইটস:
- প্রায় ২০ বছর পর ১০ সার্কুলার রোডের সরকারি বাংলো ছাড়লেন লালু প্রসাদ ও রাবড়ি দেবী।
- দম্পতি এবার পাটনার কৌটিল্য নগরে নিজেদের ব্যক্তিগত বাড়িতে উঠে গিয়েছেন।
- আরজেডির ‘ক্যাম্প অফিস’ হিসেবে পরিচিত বাংলোটি এখন পশুপালন, মৎস্য ও দুগ্ধসম্পদমন্ত্রী নন্দ কিশোর রামের নামে বরাদ্দ হয়েছে।
- রাবড়ি দেবীর জন্য বরাদ্দ ৩৯ হার্ডিঞ্জ রোডের বাংলোয় না ওঠার নেপথ্যে ছোট আকার, অপর্যাপ্ত প্রস্তুতি এবং ‘অপয়া’ হওয়ার জনশ্রুতির কথাও উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন:
বিহারের রাজনীতিতে একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান ঘটল। প্রায় দুই দশক ধরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত পাটনার ১০ সার্কুলার রোডের সরকারি বাংলো ছেড়ে দিয়েছেন রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) সভাপতি লালু প্রসাদ যাদব ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী রাবড়ি দেবী। দলীয় সূত্রের খবর, তাঁরা এখন পশ্চিম পাটনার কৌটিল্য নগরে নিজেদের ব্যক্তিগত বাড়িতে বসবাস শুরু করেছেন।১০ সার্কুলার রোডের বাংলোটি শুধু সরকারি আবাসন ছিল না, আরজেডির কার্যত অনানুষ্ঠানিক সদর দপ্তর হিসেবেও পরিচিত ছিল। দীর্ঘদিন ধরে সেখান থেকেই দলীয় বৈঠক, নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা এবং গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো। ফলে বাংলোটি আরজেডির রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গিয়েছে।
সরকার ইতিমধ্যেই বাংলোটি পশুপালন, মৎস্য ও দুগ্ধসম্পদমন্ত্রী নন্দ কিশোর রামের নামে বরাদ্দ করেছে। ফলে নতুন বাসিন্দার হাতে যাচ্ছে বিহারের অন্যতম পরিচিত রাজনৈতিক ঠিকানা। দলীয় সূত্রের দাবি, রাবড়ি দেবীর জন্য ৩৯ হার্ডিঞ্জ রোডে একটি সরকারি বাংলো বরাদ্দ করা হলেও তিনি সেখানে যেতে রাজি হননি। কারণ হিসেবে বাংলোটির তুলনামূলক ছোট আকার, নতুন বাসিন্দার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির অভাব এবং স্থানীয় মহলে প্রচলিত ‘অপয়া’ হওয়ার বিশ্বাসের কথা উল্লেখ করা হচ্ছে। যদিও এই ‘অপয়া’ হওয়ার ধারণার কোনও সরকারি বা প্রামাণ্য ভিত্তি নেই; এটি কেবল স্থানীয় জনশ্রুতি।
লালু–রাবড়ির এই স্থানান্তর কেবল ঠিকানা বদল নয়, বিহারের রাজনীতির একটি প্রতীকী পরিবর্তনও। বহু রাজনৈতিক উত্থান-পতন, জোট, নির্বাচন ও দলীয় কৌশলের সাক্ষী থাকা ১০ সার্কুলার রোড এখন নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে চলেছে।