হাইলাইটস:
- নদিয়ায় সাংসদ মহুয়া মৈত্র-র উপর হামলার অভিযোগের পর সাংসদদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করল তৃণমূল।
- প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায় লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা-কে চিঠি লিখে হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন।
- অভিযোগ, নিজের নির্বাচনী এলাকায় গিয়েই হামলার মুখে পড়তে হচ্ছে বিরোধী সাংসদদের।
- তৃণমূলের দাবি, ঘটনার সময় পুলিশ কার্যকর ভূমিকা নেয়নি এবং পরিস্থিতির নীরব দর্শক হয়ে ছিল।
- স্পিকারের কাছে সব সাংসদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে।
বাংলাস্ফিয়ার: নদিয়ায় তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের উপর কথিত হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার লোকসভার স্পিকারের দ্বারস্থ হল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায় শুক্রবার জানিয়েছেন, তিনি স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি লিখে দেশের সাংসদদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে হস্তক্ষেপের আবেদন করেছেন। তাঁর বক্তব্য, কোনও সাংসদের নিজের নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে হামলার মুখে পড়া গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে সৌগত রায় বলেন, নিজের কেন্দ্রে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে মহুয়া মৈত্র আক্রমণের শিকার হন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলেও তিনি এলাকা ছেড়ে না গিয়ে শান্ত না হওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন। এরপরই তিনি রাজ্যের পুলিশ মহাপরিচালককে বিষয়টি জানান বলে দাবি করা হয়। কিন্তু তৃণমূলের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি এবং কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে।
সৌগত রায় জানান, এই ঘটনার পর তিনি লোকসভার স্পিকারকে লিখিতভাবে অনুরোধ করেছেন যাতে সাংসদরা তাঁদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় নিরাপদে কাজ করতে পারেন, সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তাঁর আশা, স্পিকার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ করবেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, ঘটনার দিন স্পিকারের সঙ্গে সরাসরি টেলিফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি। পরে স্পিকারের দফতরের এক আধিকারিকের সঙ্গে তাঁর কথা হয়।
তৃণমূলের দাবি, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের উপর একাধিক হামলার অভিযোগ উঠেছে। সেই কারণেই বিষয়টি সংসদের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষের নজরে আনা প্রয়োজন বলে দলের মত। সৌগত রায় জানান, তিনি এর আগেও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছেও পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কর্মীদের উপর কথিত হামলার অভিযোগ জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছিলেন।
প্রসঙ্গত, মহুয়া মৈত্র অভিযোগ করেছেন যে নদিয়ায় দলীয় কার্যালয়ে তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হয়, ডিম ছোড়া হয় এবং দীর্ঘ সময় তিনি কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। তাঁর দাবি, হামলাকারীরা বিজেপি-সমর্থক এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে থেকেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যথাযথ উদ্যোগ নেয়নি। পরে তিনি প্রকাশ্যে কয়েকজনের নামও উল্লেখ করেন, যাঁদের বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। সাংসদদের নিরাপত্তার প্রশ্নে স্পিকারের কাছে তৃণমূলের আবেদন ভবিষ্যতে সংসদীয় মহলেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।