নিট (NEET) প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ এবং দেশজুড়ে তীব্র ছাত্রবিক্ষোভের পর পরীক্ষা ব্যবস্থায় বড়সড় ‘শুদ্ধি অভিযান’ শুরু করল কেন্দ্র। এক ধাক্কায় ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)-র ৪৭ জন আধিকারিকের পরিষেবা বাতিল করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ও অন্যান্য আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হবে বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে।
সরকারের বার্তা স্পষ্ট—এটি কেবল শুরু। পরীক্ষা পরিচালনায় অনিয়ম, দুর্নীতি বা প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে যুক্ত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, নিরাপদ ও জবাবদিহিমূলক করতে একাধিক সংস্কারের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে।
এরই মধ্যে সরকারি পরীক্ষা ঘিরে প্রশ্নফাঁস ও জালিয়াতির বিরুদ্ধে শাস্তি আরও কঠোর করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। শুক্রবার মন্ত্রিসভা পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) আইন, ২০২৪-এর সংশোধনী বিলে অনুমোদন দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আগামী সপ্তাহে সংসদে বিলটি পেশ করা হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও বৃহস্পতিবার গভীর রাতে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং দ্রুত বিচারের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য, প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষায় কারচুপির মতো অপরাধে দ্রুত বিচার এবং দোষীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে আরও শক্তিশালী আইনি কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।
সরকারি সূত্রের দাবি, প্রস্তাবিত সংশোধনীতে প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষায় কারচুপি, সংগঠিত প্রতারণা এবং সরকারি চাকরি ও ভর্তি পরীক্ষায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে আরও কড়া শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হবে। এই ধরনের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ বা ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ব্যবস্থাও থাকতে পারে।
নিট প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে ছাত্রদের ক্ষোভ এবং দীর্ঘ আন্দোলনের পর কেন্দ্রের উপর চাপ ক্রমশ বাড়ছিল। প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, পরীক্ষা পরিচালনার স্বচ্ছতা এবং এনটিএ-র ভূমিকা নিয়ে উঠেছে একের পর এক প্রশ্ন। সেই পরিস্থিতিতে একদিকে এনটিএ-র ভিতরে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ, অন্যদিকে আইন আরও কঠোর করার উদ্যোগ—দুই দিক থেকেই বড় বার্তা দিতে চাইছে কেন্দ্র।
এখন নজর সংসদের দিকে। সংশোধনী বিল কত দ্রুত পাস হয় এবং নতুন আইনি কাঠামো বাস্তবে প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষায় দুর্নীতি কতটা ঠেকাতে পারে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।