খবর

লক্ষ্য ১১৫ আসন, ৩৮ হাজার কোটির প্রকল্প: বিরোধী দুর্গে যোগীর ভোটযাত্রা

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাস্ফিয়ার: উত্তরপ্রদেশে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে সমাজবাদী পার্টি ও কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটিতে জনসংযোগ বাড়াচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।
  • সামনে উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস, পিছনে হারানো নির্বাচনী জমি উদ্ধারের চ্যালেঞ্জ।
  • ১১৫টি বিধানসভা এলাকার জন্য ৩৮ হাজার কোটি টাকার বেশি প্রকল্পকে কেন্দ্র করে তাঁর এই সফর রাজনৈতিক গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাস্ফিয়ার: উত্তরপ্রদেশে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে সমাজবাদী পার্টি ও কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটিতে জনসংযোগ বাড়াচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। সামনে উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস, পিছনে হারানো নির্বাচনী জমি উদ্ধারের চ্যালেঞ্জ। ১১৫টি বিধানসভা এলাকার জন্য ৩৮ হাজার কোটি টাকার বেশি প্রকল্পকে কেন্দ্র করে তাঁর এই সফর রাজনৈতিক গুরুত্ব পাচ্ছে।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের হিসাবে, মে থেকে রাজ্যের ৭৫টি জেলার মধ্যে ৪৪টির বেশি সফর করেছেন যোগী। সংশ্লিষ্ট ১১৫টি বিধানসভা এলাকার ৬৭টিতে গত লোকসভা নির্বাচনে এগিয়েছিল সপা–কংগ্রেস: সপা ৫৪টিতে, কংগ্রেস ১৩টিতে। বিজেপি এগিয়েছিল ৪৭টিতে, শরিক রাষ্ট্রীয় লোকদল একটিতে। প্রকল্পগুলিতে রয়েছে রাস্তা, বিদ্যালয়, হাসপাতাল, বিদ্যুৎ, জল, পর্যটন ও দক্ষতা উন্নয়ন। অনুষ্ঠানে সরকারি সহায়তা বণ্টনের পাশাপাশি দেখানো হচ্ছে সরকারের কাজের চলচ্চিত্রও।

এই উদ্যোগের পটভূমিতে রয়েছে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ধাক্কা। উত্তরপ্রদেশে বিজেপির আসন ২০১৯ সালের ৬২ থেকে নেমে হয়েছিল ৩৩। বিপরীতে সমাজবাদী পার্টি জিতেছিল ৩৭টি এবং কংগ্রেস ছ’টি আসন। দুই বিরোধী দলের সম্মিলিত সংগ্রহ দাঁড়িয়েছিল ৪৩। দেশের সবচেয়ে বেশি লোকসভা আসনের রাজ্যে এই ফল বিজেপির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে।

অথচ বিধানসভার আগের নির্বাচনী ছবিটি ছিল অনেকটাই আলাদা। ২০২২ সালে রাজ্যের ৪০৩টি আসনের মধ্যে বিজেপি একাই পেয়েছিল ২৫৫টি; সমাজবাদী পার্টি ১১১টি। অর্থাৎ বিধানসভায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত অটুট থাকলেও, পরবর্তী লোকসভা ভোটে বিরোধীরা সেই রাজনৈতিক প্রাধান্যকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছিল। এই দুই ফলের ব্যবধানই আগামী নির্বাচনের লড়াইকে তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

তবে লোকসভা ভোটে কোনও বিধানসভা এলাকায় এগিয়ে থাকা এবং বিধানসভা নির্বাচনে সেই আসন জেতা এক বিষয় নয়। প্রার্থী, স্থানীয় সমীকরণ, জোটের বিন্যাস এবং রাজ্য সরকারের মূল্যায়ন—সবই ফল বদলাতে পারে। ফলে অতীতের এগিয়ে থাকার হিসাবকে আগামী নির্বাচনের নিশ্চিত পূর্বাভাস হিসেবে পড়ার সুযোগ নেই।

যোগীর সফরের রাজনৈতিক তাৎপর্য এখানেই। বিরোধীদের পক্ষে ভোট পড়েছে এমন এলাকায় মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি সরকারি কাজের প্রচারকে স্থানীয় প্রতিযোগিতার সঙ্গে যুক্ত করছে। এই বিন্যাস থেকে বোঝা যায়, উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি এবং প্রশাসনিক সক্রিয়তা দেখিয়ে ভোটারের আস্থা ফেরানোর চেষ্টা আগামী লড়াইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হতে পারে।

এর পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশে যুবক ও মহিলাদের ঘিরে জনকল্যাণমূলক প্রতিশ্রুতির প্রতিযোগিতাও বাড়ছে। সম্প্রতি যোগী এক লক্ষ চাকরির ঘোষণা করেছেন। ষাট বছর বা তার বেশি বয়সি মহিলাদের সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াতের জন্য চালু করেছেন লোকমাতা অহল্যাবাই মাতৃশক্তি যাত্রা যোজনা। কর্মসংস্থান ও পরিবারের দৈনন্দিন খরচ—দুই ক্ষেত্রেই ভোটারের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা রয়েছে এই পদক্ষেপে।

বিরোধীরাও এই প্রতিযোগিতায় সক্রিয়। অখিলেশ যাদব মহিলাদের ৪০ হাজার টাকা সহায়তার প্রস্তাব পুনর্ব্যক্ত করেছেন। মায়াবতী জোর দিয়েছেন সংরক্ষিত শূন্যপদ পূরণের দাবিতে। ফলে আগামী ভোটের প্রস্তুতিতে পরিচয় ও সামাজিক প্রতিনিধিত্বের রাজনীতির পাশাপাশি চাকরি, আর্থিক সহায়তা এবং সরকারি পরিষেবা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও স্পষ্ট হচ্ছে।

তবে বড় অঙ্কের প্রকল্প ঘোষণার নির্বাচনী মূল্য শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে বাস্তব অভিজ্ঞতার উপর। শিলান্যাসের পরে কাজ কত দ্রুত এগোয়, পরিষেবা কবে পৌঁছয়, নিয়োগের ঘোষণায় কতজন চাকরি পান—এই প্রশ্নগুলির উত্তরই প্রচারের বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ধারণ করবে। উদ্বোধনের মঞ্চে উপস্থিতি এবং ভোটবাক্সে সমর্থনের মধ্যে যে দূরত্ব থাকে, তা কমাতে প্রয়োজন দৃশ্যমান ফল।

যোগীর সামনে তাই কাজ দ্বিমুখী: নিজের সরকারের প্রতি সমর্থন ধরে রাখা এবং বিরোধীদের দিকে যাওয়া ভোটারের কাছে নতুন করে গ্রহণযোগ্য হওয়া। অন্যদিকে সপা–কংগ্রেসের পরীক্ষা, লোকসভায় পাওয়া সমর্থনকে বিধানসভার স্থানীয় লড়াইয়ে ধরে রাখতে পারা। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি এবং বিরোধীদের সংগঠনের শক্তি—দুয়ের পরীক্ষাই এবার একসঙ্গে চলবে। আগামী কয়েক মাসের রাজনৈতিক গতিপথ বুঝতে এই দুই দিকেই নজর রাখতে হবে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles