খবর

এসআইআরের আড়ালে বিজেপি-বিরোধী ভোটারদের নাম বাদ দিচ্ছে কেন্দ্র, অভিযোগ রেভন্তের

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাস্ফিয়ার: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরকে সামনে রেখে বিজেপি-বিরোধী ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুললেন তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী এ রেভন্ত রেড্ডি।
  • তাঁর দাবি, কেন্দ্রের শাসক দল নির্বাচনে সুবিধা পেতে এই প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করছে।
  • সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর হায়দরাবাদে প্রয়াত কমিউনিস্ট নেতা সারমপল্লি মাল্লা রেড্ডির স্মরণসভায় এই অভিযোগ করেন তিনি।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাস্ফিয়ার: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরকে সামনে রেখে বিজেপি-বিরোধী ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুললেন তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী এ রেভন্ত রেড্ডি। তাঁর দাবি, কেন্দ্রের শাসক দল নির্বাচনে সুবিধা পেতে এই প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করছে। সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর হায়দরাবাদে প্রয়াত কমিউনিস্ট নেতা সারমপল্লি মাল্লা রেড্ডির স্মরণসভায় এই অভিযোগ করেন তিনি।

রেভন্তের অভিযোগ, তেলঙ্গানায় প্রায় এক কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। বিশেষভাবে নিশানা করা হচ্ছে তফসিলি জাতি, তফসিলি জনজাতি এবং সংখ্যালঘুদের। তাঁর বক্তব্য, সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়ে বিজেপি এখন ভোটার তালিকায় হস্তক্ষেপের মাধ্যমে নির্বাচনী সাফল্য নিশ্চিত করার নতুন কৌশল নিয়েছে।

এই প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের উদাহরণ টানেন তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বাংলায় যে পদ্ধতিতে বুথ ধরে বিজেপি-বিরোধী ভোটারদের নাম সরানো হয়েছে, তেলঙ্গানাতেও সেই কৌশল প্রয়োগের চেষ্টা চলছে। সমীক্ষা এবং নাম বাদ দেওয়ার কাজে বেসরকারি সংস্থাকে যুক্ত করার অভিযোগও তোলেন তিনি। নির্বাচন কমিশন বিজেপির রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে ব্যবহৃত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন রেভন্ত।

রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল ভারত রাষ্ট্র সমিতির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগে তারা কেন নীরব, জানতে চান তিনি। তাঁর বক্তব্যে এসআইআর-বিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে বৃহত্তর বিজেপি-বিরোধী ঐক্যের আহ্বানও উঠে আসে।

কমিউনিস্ট দলগুলিকে কংগ্রেসের সঙ্গে একযোগে আন্দোলনে নামার আবেদন জানান রেভন্ত। তাঁর মতে, নরেন্দ্র মোদীর পরাজয় কমিউনিস্টদেরও জয় হিসেবে গণ্য হবে। দরিদ্র মানুষের অধিকারের পক্ষে বামপন্থীদের দীর্ঘ সংগ্রামের প্রশংসা করে তিনি বলেন, লাল পতাকা গরিব মানুষকে ভরসা দেয়। সেই মানুষগুলির ভোটাধিকার রক্ষাতেও বামেদের সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন বলে তাঁর অভিমত।

কংগ্রেস ও বামপন্থীদের সহযোগিতার যুক্তি দিতে অতীতের জনকল্যাণমূলক আইন এবং ভূমিবণ্টনের প্রসঙ্গও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ভূমিহীন শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির দাবিতে কমিউনিস্টরা লড়েছেন, আর কংগ্রেস সেই দাবিকে আইনের রূপ দিয়েছে। একইভাবে জমির অধিকারের আন্দোলনের উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, কংগ্রেস সরকার ২৪ লক্ষ ৫৬ হাজার একর জমি বণ্টন করেছে। এর মধ্যে ১০ লক্ষ একর এখন আদিবাসীদের মালিকানায় রয়েছে।

কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা এবং খাদ্য সুরক্ষা আইনের কথাও স্মরণ করান রেভন্ত। কৃষকদের দাবিদাওয়া নিয়ে মাল্লা রেড্ডির দীর্ঘ সংগ্রামের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়াত নেতার লেখা এবং উত্থাপিত বিষয়গুলি কৃষিসংক্রান্ত সমস্যা মোকাবিলায় তাঁর সরকারকে পথ দেখাবে। তাঁর স্মৃতিরক্ষার উদ্যোগ নিয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী।

এর আগে শনিবার কোডাঙ্গালে দলীয় কর্মীদের সভাতেও একই ধরনের অভিযোগ করেছিলেন রেভন্ত। সেখানে কংগ্রেস সমর্থকদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা প্রতিহত করার ডাক দেন তিনি। মহারাষ্ট্র, বিহার এবং পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনেও বিজেপি একই পদ্ধতি ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অপব্যবহারের অভিযোগও ফের তোলেন। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেলঙ্গানার চূড়ান্ত সংশোধিত ভোটার তালিকা প্রকাশের নির্ধারিত দিন ১৯ অক্টোবর। সময়সীমা আরও তিন থেকে চার সপ্তাহ বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে রাজ্য সরকার।

অন্যদিকে, রবিবার রাজ্য বিজেপি সভাপতি এন রামচন্দর রাও পাল্টা অভিযোগ করেন, এসআইআরের আড়ালে সরকারি কর্মীদের ব্যবহার করছে কংগ্রেস সরকারই। তাঁর দাবি, সেকেন্দ্রাবাদ লোকসভা কেন্দ্রে বহু বিজেপি সমর্থকের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে; পাশের রাজ্য থেকে আসা বাসিন্দাদেরও নিশানা করা হচ্ছে। বুথস্তরের আধিকারিকদের নিরপেক্ষভাবে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি। রামচন্দর রাওয়ের বক্তব্য, কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ বাড়ছে এবং বিজেপির জনপ্রিয়তা বাড়ছে বলেই মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করছেন। তাঁর দাবি, অভিযোগটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

তবে উল্লিখিত প্রতিবেদনগুলিতে রাজনৈতিক পরিচয় দেখে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগের স্বাধীন যাচাই নেই। এক কোটি ভোটারকে সরানোর বক্তব্যটি মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ হিসেবেই বিবেচ্য। সেটিকে নির্বাচন কমিশনের নিশ্চিত পরিসংখ্যান বলে ধরে নেওয়ার অবকাশ নেই। অভিযোগ ও প্রতিষ্ঠিত তথ্যের এই পার্থক্যটি জরুরি।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles