Home খবর ২৬ দিনের অনশন শেষে ‘বিরতি’, আন্দোলন কি থামবে?

২৬ দিনের অনশন শেষে ‘বিরতি’, আন্দোলন কি থামবে?

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
9 views 2 minutes read
A+A-
Reset

তিন দিনের টানা দরকষাকষি, লাদাখের সমাজনেতাদের অনুরোধ, কেন্দ্রের আংশিক নমনীয়তা এবং কংগ্রেস সাংসদ বিবেক টাঙ্কার মধ্যস্থতার পর অবশেষে অনশন ভাঙলেন পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তাঁর ২৬ দিন ধরে চলা অনশনের অবসান হয়। তবে তাঁর অনশন থামলেও যন্তর-মন্তরের ছাত্র আন্দোলন থামছে না—বরং নতুন রাজনৈতিক পর্বে প্রবেশ করছে।

২০ জুলাই সংসদ অভিমুখে মিছিল ঘিরে পুলিশি লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আন্দোলনের বাড়তে থাকা জনসমর্থন এবং ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতিতে কেন্দ্রও দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা শুরু করে বলে সূত্রের দাবি।

এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ ও আইনজীবী বিবেক টাঙ্কা। জাতীয় নিরাপত্তা আইন (এনএসএ)-এ ওয়াংচুকের গ্রেপ্তারের সময় সুপ্রিম কোর্টে তাঁর পক্ষে আইনি লড়াই করেছিলেন টাঙ্কা। ব্যক্তিগত সম্পর্কের সূত্রেই তিনি ওয়াংচুককে আলোচনার পথে এগিয়ে আসতে এবং অনশন প্রত্যাহারের বিষয়ে পুনর্বিবেচনা করতে রাজি করান বলে জানা গিয়েছে।

আলোচনার সবচেয়ে বড় অচলাবস্থা ছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি। প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগের পর আন্দোলনকারীরা এই দাবিকে অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে সামনে এনেছিলেন। কিন্তু এই দাবিতে কোনও প্রতিশ্রুতি দিতে রাজি হয়নি সরকার।

তবে পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার, প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার, কঠোর আইন এবং ছাত্রদের সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপের মতো অন্যান্য দাবিতে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে কেন্দ্র। সূত্রের দাবি, শেষ পর্যন্ত এমন কিছু শর্তে নীতিগত সমঝোতা হয়, যা উভয় পক্ষের কাছেই গ্রহণযোগ্য ছিল। তার পরেই অনশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন ওয়াংচুক।

এই সময় লাদাখের বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধিরাও ওয়াংচুকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। দীর্ঘ অনশনের ফলে তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছিল। আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তাঁকে সুস্থ থাকারও অনুরোধ জানান তাঁরা।

তবে অনশন ভাঙা মানেই আন্দোলনের ইতি নয়—এ কথা স্পষ্ট করে দিয়েছে ছাত্র সংগঠনগুলি। তাদের বক্তব্য, সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত গণতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলন চলবে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের পূর্ণ তদন্ত, দোষীদের দ্রুত শাস্তি এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবিতে তারা এখনও অনড়।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ওয়াংচুকের অনশন প্রত্যাহার আপাতত কেন্দ্র ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সংঘাত কমানোর সুযোগ তৈরি করেছে। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি এবং পরীক্ষা সংস্কার নিয়ে সরকার পরবর্তী সময়ে কী পদক্ষেপ নেয়, তার উপরই নির্ভর করবে আন্দোলনের পরবর্তী গতিপথ।

অনশন থেমেছে, কিন্তু প্রশ্ন এখনও বাকি—এবার সরকারের পালা উত্তর দেওয়ার।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles