মুম্বইয়ের টাটা ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল সায়েন্সেসের ৮৬তম সমাবর্তনে আর প্রধান অতিথি থাকছেন না ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। পরিবর্তিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২২ আগস্ট আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হবেন টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালের অধিকর্তা চিকিৎসক সি এস প্রমেশ। সমাবর্তনের মাত্র কয়েক দিন আগে এই পরিবর্তন ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

প্রথমে ২ আগস্ট সমাবর্তন আয়োজনের কথা ছিল। দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিল টিস। কিন্তু নির্ধারিত অনুষ্ঠানের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে পড়ুয়াদের ই-মেল পাঠিয়ে সমাবর্তন স্থগিত করার কথা জানায় কর্তৃপক্ষ। কারণ হিসেবে কেবল ‘অনিবার্য পরিস্থিতির’ উল্লেখ করা হয়েছিল। বিস্তারিত কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

এ বার নতুন তারিখ ঘোষণা করে প্রধান অতিথির নামও বদলে দিয়েছে প্রতিষ্ঠান। শনিবার, ২২ আগস্ট মুম্বইয়ের দেওনারে টিসের নওরোজি প্রাঙ্গণে সমাবর্তন হবে। মুম্বইয়ের পাশাপাশি তুলজাপুর, হায়দরাবাদ ও গুয়াহাটি-সহ টিসের বিভিন্ন প্রাঙ্গণের উত্তীর্ণ পড়ুয়ারা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

প্রধান বিচারপতিকে কেন পরিবর্তিত অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হল না, সে বিষয়ে টিস কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও কারণ জানায়নি। তবে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, সম্ভাব্য ছাত্রবিক্ষোভ এবং অনুষ্ঠান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাতেই ২ আগস্টের সমাবর্তন স্থগিত করা হয়েছিল। প্রধান বিচারপতির সাম্প্রতিক একটি মন্তব্যের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হওয়ার প্রেক্ষাপটেই এই আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল বলে সূত্রগুলি জানিয়েছে।

একটি মামলার শুনানিতে কর্মহীন তরুণদের সম্পর্কে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের কথিত ‘আরশোলা’ মন্তব্য ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। সেই মন্তব্যকে বেকার যুবসমাজের প্রতি অসম্মানজনক বলে অভিযোগ ওঠে। দেশব্যাপী ছাত্র আন্দোলনের সময় বিষয়টি অন্যতম প্রতিবাদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যদিও টিস সমাবর্তন স্থগিত বা প্রধান অতিথি বদলের সঙ্গে ওই বিতর্কের সরাসরি সম্পর্ক থাকার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি।

সমাবর্তন পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেছিল টিসের প্রগ্রেসিভ স্টুডেন্টস ফোরাম। তাদের বক্তব্য ছিল, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পড়ুয়া ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা যাতায়াত ও থাকার ব্যবস্থা করেছিলেন। অনেক কর্মরত উত্তীর্ণ পড়ুয়া ছুটিও নিয়েছিলেন। শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্তে তাঁরা আর্থিক ও মানসিক সমস্যায় পড়েন। নির্ধারিত সময়ে চূড়ান্ত ফল ও শংসাপত্র না পাওয়ায় উচ্চশিক্ষা, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা এবং চাকরির আবেদনেও সমস্যা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছিলেন পড়ুয়ারা।

টিস কর্তৃপক্ষ অবশ্য জানিয়েছিল, সমাবর্তন স্থগিত হওয়ায় আর্থিক অসুবিধায় পড়া শিক্ষার্থীদের আবেদন নিয়ম মেনে পৃথকভাবে বিবেচনা করা হবে। এখন নতুন তারিখ ঘোষিত হলেও প্রধান বিচারপতিকে সরিয়ে বিশিষ্ট ক্যানসার-শল্যচিকিৎসক সি এস প্রমেশকে প্রধান অতিথি করার সিদ্ধান্তই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।