খবর

মহারাষ্ট্রের খসড়া ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা ২.০৮ কোটি নামের

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • হাইলাইটস রাজ্যের প্রতি পাঁচজন ভোটারের মধ্যে এক জনেরও বেশি খসড়া তালিকার বাইরে থাকতে পারেন সবচেয়ে বেশি সংগ্রহ না-হওয়া ফর্ম ঠাণে, মুম্বই ও পুণেতে ২৪…
  • বাড়ি বাড়ি গিয়ে গণনার কাজ শেষ হওয়ার পর দেখা যাচ্ছে, রাজ্যের অন্তত ২ কোটি ৭ লক্ষ ৯৩ হাজার ৯১৬ জন ভোটারের গণনা-ফর্ম সংগ্রহ করা…
  • অর্থাৎ, মহারাষ্ট্রের মোট ৯ কোটি ৭৯ লক্ষ ভোটারের মধ্যে ২১.২৫ শতাংশ—প্রতি পাঁচজনের মধ্যে এক জনেরও বেশি—২৪ অগস্ট প্রকাশিতব্য খসড়া ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে…

বিস্তারিত প্রতিবেদন

হাইলাইটস

  • রাজ্যের প্রতি পাঁচজন ভোটারের মধ্যে এক জনেরও বেশি খসড়া তালিকার বাইরে থাকতে পারেন
  • সবচেয়ে বেশি সংগ্রহ না-হওয়া ফর্ম ঠাণে, মুম্বই ও পুণেতে
  • ২৪ অগস্ট প্রকাশিত হবে খসড়া ভোটার তালিকা
  • নাম না থাকলে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অন্তর্ভুক্তি ও সংশোধনের আবেদন করা যাবে

মহারাষ্ট্রে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে বড়সড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে গণনার কাজ শেষ হওয়ার পর দেখা যাচ্ছে, রাজ্যের অন্তত ২ কোটি ৭ লক্ষ ৯৩ হাজার ৯১৬ জন ভোটারের গণনা-ফর্ম সংগ্রহ করা যায়নি। অর্থাৎ, মহারাষ্ট্রের মোট ৯ কোটি ৭৯ লক্ষ ভোটারের মধ্যে ২১.২৫ শতাংশ—প্রতি পাঁচজনের মধ্যে এক জনেরও বেশি—২৪ অগস্ট প্রকাশিতব্য খসড়া ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারেন।

সোমবার সকাল ১০টার সরকারি বুলেটিনের ভিত্তিতে এই হিসাব সামনে এসেছে। ওই দিন বিকেল ৫টায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে গণনার কাজ শেষ হয়। ফলে চূড়ান্ত সংখ্যায় সামান্য পরিবর্তন হতে পারে। তবে সকাল পর্যন্ত আরও প্রায় ১ লক্ষ ৮ হাজার ভোটারের অবস্থান ‘ফর্ম সংগৃহীত ও তথ্য অন্তর্ভুক্ত’ অথবা ‘ফর্ম সংগ্রহ করা যায়নি’—এই দুই শ্রেণির কোনওটিতেই প্রতিফলিত হয়নি। সেই হিসাবে ২.০৮ কোটি হল খসড়া তালিকার বাইরে থেকে যাওয়ার আশঙ্কায় থাকা ভোটারের ন্যূনতম সংখ্যা।

তবে নির্বাচন দফতরের এক আধিকারিক স্পষ্ট করেছেন, খসড়া তালিকায় নাম না থাকার অর্থ ভোটার তালিকা থেকে স্থায়ী ভাবে নাম বাদ যাওয়া নয়। ২৪ অগস্টের তালিকাটি খসড়া মাত্র। প্রত্যেক ভোটারকে ওই দিন নিজের নাম পরীক্ষা করতে হবে। নাম না থাকলে ২৪ অগস্ট থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক মাসের মধ্যে অন্তর্ভুক্তি অথবা তথ্য সংশোধনের আবেদন জানানো যাবে। যোগ্য নাগরিকেরা এই সময় নতুন ভোটার হিসাবেও আবেদন করতে পারবেন।

এসআইআর প্রক্রিয়ায় বুথ স্তরের আধিকারিকেরা ভোটারদের বাড়িতে আগে থেকে পূরণ করা গণনা-ফর্ম নিয়ে গিয়েছিলেন। ভোটারের পরিচয়, ঠিকানা এবং অন্যান্য তথ্য যাচাই করে সেই ফর্ম সংগ্রহ ও ডিজিটাল ব্যবস্থায় নথিভুক্ত করার কথা। কোনও ফর্ম ‘সংগ্রহ করা যায়নি’ বলে নথিভুক্ত হওয়ার অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মৃত, অন্যত্র চলে গিয়েছেন, একই ব্যক্তির একাধিক নাম রয়েছে অথবা তিনি ভোটার হওয়ার অযোগ্য। ভোটার সাময়িক ভাবে বাড়িতে অনুপস্থিত থাকতে পারেন, ঠিকানা বদল করতে পারেন কিংবা আধিকারিক তাঁর সন্ধান না-ও পেতে পারেন।

সোমবার সকাল পর্যন্ত রাজ্যে ৭ কোটি ৬৯ লক্ষ ৫২ হাজার ২৬২টি ফর্ম ডিজিটাল ব্যবস্থায় তোলা হয়েছে। যা মোট ভোটারের ৭৮.৬৪ শতাংশ। কিন্তু শহরাঞ্চলে ফর্ম সংগ্রহের ঘাটতি উদ্বেগজনক ভাবে বেশি। ঠাণে, মুম্বই শহর, মুম্বই শহরতলি এবং পুণে—এই চার জেলায় সংগ্রহ করা যায়নি ৯৪ লক্ষ ৪৭ হাজার ভোটারের ফর্ম। রাজ্যের মোট ভোটারের মাত্র ২৭.৫ শতাংশ এই চার জেলায় থাকলেও, সংগ্রহ না-হওয়া ফর্মের ৪৫.৪ শতাংশই এখানকার।

সবচেয়ে গুরুতর পরিস্থিতি ঠাণেতে। জেলার ৭৪ লক্ষ ৫১ হাজার ভোটারের মধ্যে ২৮ লক্ষ ৮৮ হাজারের ফর্ম সংগ্রহ করা যায়নি। হার ৩৮.৭৭ শতাংশ—অর্থাৎ প্রায় প্রতি দশ জনের মধ্যে চার জন। মুম্বই শহরে এই সংখ্যা ৯ লক্ষ ৬০ হাজার বা ৩৭.৫৭ শতাংশ। মুম্বই শহরতলিতে ২৬ লক্ষ ৯৯ হাজার বা ৩৪.৪৮ শতাংশ এবং পুণেতে ২৮ লক্ষ ৯৯ হাজার বা ৩১.৯২ শতাংশ ফর্ম সংগ্রহ করা যায়নি।

নাগপুর, পালঘর ও রায়গড়েও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। নাগপুরে ১৪ লক্ষ ৬ হাজার বা ৩০.৩২ শতাংশ, পালঘরে ৬ লক্ষ ৮৭ হাজার বা ২৮.৮৮ শতাংশ এবং রায়গড়ে ৫ লক্ষ ৯১ হাজার বা ২৩.৩৩ শতাংশ ভোটারের ফর্ম সংগ্রহ হয়নি। এই তিনটি জেলার সঙ্গে ঠাণে, মুম্বইয়ের দুই জেলা ও পুণেকে যোগ করলে সাত জেলায় সংগ্রহ না-হওয়া ফর্মের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ২১ লক্ষ। রাজ্যের ৩৭ শতাংশ ভোটার এই জেলাগুলিতে থাকলেও, মোট সংগ্রহ না-হওয়া ফর্মের ৫৮.৩ শতাংশই সেখানকার।

অন্য দিকে গ্রামীণ জেলাগুলিতে ছবিটি তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক। হিঙ্গোলিতে মাত্র ৮.৮২ শতাংশ ভোটারের ফর্ম সংগ্রহ করা যায়নি। বুলঢানায় এই হার ৯.১০ শতাংশ, রত্নগিরিতে ৯.৯৩ শতাংশ এবং লাতুরে ১০.৬২ শতাংশ। ঠাণেতে যেখানে প্রায় দশ জনের চার জনের ফর্ম অধরা, হিঙ্গোলিতে সেখানে সংখ্যাটি দশ জনেরও কমে এক জন।

নির্বাচনী আধিকারিকদের মতে, শহরাঞ্চলে ব্যাপক পরিযান ও ঘন ঘন ঠিকানা বদলই এই বৈষম্যের অন্যতম কারণ। মুম্বই, ঠাণে ও পুণের মতো শহরে কর্মসূত্রে মানুষ প্রায়ই বাসস্থান বদল করেন। ফলে ভোটার তালিকায় থাকা ঠিকানায় তাঁদের খুঁজে পাওয়া বুথ স্তরের আধিকারিকদের পক্ষে কঠিন হয়েছে।

উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে শেষ কয়েক দিনে সংগ্রহ না-হওয়া ফর্মের সংখ্যাবৃদ্ধি। ১২ অগস্ট এই সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৮০ লক্ষ। পাঁচ দিনের মধ্যে তা প্রায় ২৭ লক্ষ ৩০ হাজার বেড়ে ২ কোটি ৮ লক্ষে পৌঁছেছে। ৩০ জুন শুরু হওয়া বাড়ি বাড়ি গণনার সময়সীমা দু’বার বাড়ানোর পর সোমবার শেষ হয়েছে। এখন ভোটারদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তারিখ ২৪ অগস্ট—সেদিনই প্রকাশিত খসড়া তালিকায় নাম রয়েছে কি না যাচাই করতে হবে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles