খবর

কেন ১০ ডলার ছুঁতে ভয় পায় বাজার?

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • হাইলাইটস ৯.৯৯ ডলারের মনস্তত্ত্বকে ঘিরেই বহু পণ্যের দাম নির্ধারণ করে সংস্থাগুলি।
  • ১০ ডলারের নিচে দাম রাখতে অনেক কোম্পানি মুনাফাও কমাচ্ছে।
  • উৎপাদন খরচ বাড়লেও ‘মনস্তাত্ত্বিক মূল্যসীমা’ ভাঙতে চাইছে না খুচরো বাজার।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

৯.৯৯-এর জাদু! ১০ ডলার হলেই কেন মুখ ফেরান ক্রেতারা?

হাইলাইটস

  • ৯.৯৯ ডলারের মনস্তত্ত্বকে ঘিরেই বহু পণ্যের দাম নির্ধারণ করে সংস্থাগুলি।
  • ১০ ডলারের নিচে দাম রাখতে অনেক কোম্পানি মুনাফাও কমাচ্ছে।
  • উৎপাদন খরচ বাড়লেও ‘মনস্তাত্ত্বিক মূল্যসীমা’ ভাঙতে চাইছে না খুচরো বাজার।

মাত্র এক সেন্টের ব্যবধান। কিন্তু সেই এক সেন্টই অনেক সময় কোটি কোটি ডলারের ব্যবসার ভবিষ্যৎ ঠিক করে দেয়। তাই মার্কিন খুচরো বাজারে ৯.৯৯ ডলার এমন এক ‘ম্যাজিক নম্বর’, যা অতিক্রম করতে এখনও অনীহা দেখাচ্ছে বহু সংস্থা। কারণ, ১০ ডলারের গণ্ডি পেরোলেই অনেক ক্রেতার কাছে পণ্যটি হঠাৎ করেই ‘অনেক বেশি দামি’ বলে মনে হয়।

এই মূল্যকৌশল নতুন নয়। বহু দশক ধরেই মার্কিন বাজারে সাবান, কোমল পানীয়, ব্যথানাশক ওষুধ, রান্নাঘরের সামগ্রী থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় অসংখ্য পণ্যের দাম ৯.৯৯ ডলারে আটকে রাখার চেষ্টা করা হয়। বিপণন বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্রেতার চোখ প্রথমে সংখ্যার বাঁদিকের অঙ্কটিই ধরে। তাই ৯.৯৯ দেখলে সেটিকে অনেকেই অবচেতনভাবে ‘নয় ডলারের পণ্য’ হিসেবেই ভাবেন, ১০ ডলারের নয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে মূল্যস্ফীতির কারণে এই কৌশলের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ায় এখন অনেক পরিবার প্রতিটি কেনাকাটার আগে খরচ হিসাব করে। এমন পরিস্থিতিতে ১০ ডলারের নিচে থাকা কোনও পণ্য তুলনামূলকভাবে বেশি সাশ্রয়ী বলে মনে হয়। ফলে কেনার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।

তবে এই ‘ম্যাজিক প্রাইস’ ধরে রাখা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। জ্বালানি, পরিবহণ, কাঁচামাল, আমদানি শুল্ক—সব ক্ষেত্রেই ব্যয় বেড়েছে। ফলে উৎপাদন খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে সংস্থাগুলি। তাদের সামনে এখন বড় প্রশ্ন—দাম বাড়িয়ে মুনাফা রক্ষা করবে, নাকি ৯.৯৯ ডলারের সীমা বজায় রাখতে নিজেরাই লাভ কমাবে?

অনেক কোম্পানি আপাতত দ্বিতীয় পথই বেছে নিচ্ছে। তাদের আশঙ্কা, ৯.৯৯ থেকে সরাসরি ১০.৪৯ বা ১০.৯৯ ডলারে দাম উঠলে বিক্রিতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। স্বল্পমেয়াদে কিছু মুনাফা ছাড়লেও দীর্ঘমেয়াদে বাজারের অংশীদারিত্ব ধরে রাখাই তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এটি শুধু মূল্য নির্ধারণের কৌশল নয়, বরং ভোক্তার মনস্তত্ত্বকে কাজে লাগানোর এক পরীক্ষিত বিপণন পদ্ধতি। মানুষ সব সময় যুক্তি দিয়ে কেনাকাটা করেন না; অনেক ক্ষেত্রেই সংখ্যার উপস্থাপনাই সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা নেয়। আর সেই কারণেই ৯.৯৯ ডলার আজও খুচরো বাজারের অন্যতম শক্তিশালী মূল্যসীমা।

তবে উৎপাদন ব্যয় যদি আরও বাড়তে থাকে, তাহলে এই কৌশল কতদিন টিকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একসময় সংস্থাগুলিকে বাধ্য হয়েই ১০ ডলারের গণ্ডি পেরোতে হবে। সেদিন হয়তো শুধু একটি মূল্যসীমাই ভাঙবে না, বদলে যাবে খুচরো বিপণনের বহুদিনের পরিচিত এক মনস্তাত্ত্বিক সমীকরণও।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles