হাইলাইটস:
- ২১ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন।
- সরকার পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
- প্রত্যাশিত বিলগুলির মধ্যে রয়েছে কর, বন্দর, খনি ও ক্রীড়া প্রশাসন-সংক্রান্ত সংশোধনী।
- বিরোধীদের জল্পনা সত্ত্বেও এ অধিবেশনে লোকসভা কেন্দ্র পুনর্বিন্যাস (ডিলিমিটেশন) সংক্রান্ত কোনও বিল আনার পরিকল্পনা নেই।
- বিরোধীরা মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব, সীমান্ত নিরাপত্তা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে সরকারকে চাপে ফেলতে প্রস্তুত।
বাংলাস্ফিয়ার: ২১ জুলাই থেকে শুরু হতে চলা সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় সরকার পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা তৈরি হলেও লোকসভা কেন্দ্র পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন সংক্রান্ত কোনও বিল এই অধিবেশনের আইন প্রণয়নসূচিতে থাকছে না বলে সরকারি সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।
সরকারি মহলের মতে, এ বারের অধিবেশনে মূল গুরুত্ব থাকবে প্রশাসনিক সংস্কার, অর্থনৈতিক কার্যক্রমের গতি বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনের সংশোধনের উপর। সম্ভাব্য বিলগুলির মধ্যে রয়েছে কর কাঠামো সংক্রান্ত সংশোধনী, বন্দর পরিচালনা ও আধুনিকীকরণ, খনি ও খনিজ সম্পদ ব্যবস্থাপনা, ক্রীড়া প্রশাসনের সংস্কার এবং আরও একটি প্রশাসনিক সংশোধনী বিল।
গত কয়েক মাস ধরে ডিলিমিটেশন নিয়ে দক্ষিণের একাধিক রাজ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। জনসংখ্যার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাস হলে দক্ষিণ ভারতের প্রতিনিধিত্ব কমে যেতে পারে—এই আশঙ্কায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল কেন্দ্রের অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছিল। বিরোধী দলগুলিও বিষয়টি নিয়ে সরকারকে সংসদে ঘেরাও করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
তবে সরকারি সূত্রের বক্তব্য, বর্তমান অধিবেশনে ডিলিমিটেশন সংক্রান্ত কোনও আইন আনার পরিকল্পনা নেই। ফলে অন্তত এই অধিবেশনে বিষয়টি নিয়ে আইনগত পদক্ষেপের সম্ভাবনা কার্যত উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আলোচনা বা সর্বদলীয় পরামর্শের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করা হয়নি।
অন্যদিকে, বিরোধী জোট বর্ষাকালীন অধিবেশনে একাধিক ইস্যুতে কেন্দ্রকে আক্রমণ করার কৌশল নিয়েছে। মূল্যবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, কৃষি, সীমান্ত নিরাপত্তা, বিভিন্ন রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিতর্ক সংসদের দুই কক্ষেই তোলা হতে পারে। ফলে অধিবেশনের প্রথম থেকেই সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধের সম্ভাবনা রয়েছে।
সংসদ বিষয়ক মন্ত্রক ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দলের সঙ্গে বৈঠক করে অধিবেশন নির্বিঘ্নে চালানোর আহ্বান জানিয়েছে। সরকার আইন প্রণয়নের কাজ এগিয়ে নিতে বিরোধীদের সহযোগিতা চাইলেও বিরোধীরা স্পষ্ট করেছে, জনস্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে আলোচনা না হলে তারা সংসদে সরব হবে।
সব মিলিয়ে, এ বারের বর্ষাকালীন অধিবেশনে সরকারের আইন প্রণয়নের কর্মসূচি যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার পাশাপাশি রাজনৈতিক সংঘাতও সমানভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে। তবে ডিলিমিটেশন নিয়ে যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, অন্তত এই অধিবেশনের সূচি থেকে সেই বিতর্ক আপাতত দূরেই থাকছে।